১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিদ্যুত-জ্বালানি বিভাগের সব কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার উদ্যোগ

রশিদ মামুন ॥ বিদ্যুত-জ্বালানি উভয় বিভাগের সব কার্যক্রম তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকসেবা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। ইতোমধ্যে বেশকিছু কার্যক্রম অনলাইনে করা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে বিদ্যুত বিভাগের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে জ্বালানি বিভাগ। কিভাবে জ্বালানি বিভাগকেও বিদ্যুত বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করা যায় তার পন্থা নির্ধারণ করতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর সঙ্গে বৈঠক করবে মন্ত্রণালয়। উভয় বিভাগের কোন কোন ক্ষেত্র তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় এসেছে তা প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টাকে অবহিত করা হবে। এ খাতের সব বিষয়কে কিভাবে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে তার পরামর্শও গ্রহণ করা হবে। আগামী ২ আগস্ট ওই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন জনকণ্ঠকে বলেন, আমার বেশকিছু কাজ তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় এনেছি। এখনও কিছু কাজ রয়েছে, যা তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সেসব বিষয়ে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এমন পদ্ধতির আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে এতে যে কোন স্থানে বসেই কোন বিদ্যুত কেন্দ্র প্রতিমুহূর্তে কতটুকু বিদ্যুত উৎপাদন করছে তার সার্বিক অবস্থা কী, তা জানা যায়। জয়ের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বিদ্যুত জ্বালানি উভয় বিভাগের তথ্যপ্রযুক্তিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো জানবেন কিভাবে আরও গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। এজন্য সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে একটি উপস্থাপনা করবে উভয় বিভাগ।

বিদ্যুত বিভাগ সূত্র জানায়, সংযোগের আবেদন থেকে শুরু করে প্রিপেইড মিটার, বিল প্রেরণ, বিল প্রদান, অভিযোগ সবই ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো এসব কাজ সীমিত পরিসরে শুরুও করেছে। গ্রাহকসেবার মান বৃদ্ধি নয়, বিদ্যুত কোম্পানিগুলোও কর্মী ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে নিজেদের যাবতীয় কার্যক্রম সারবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এতে ঘরে বসেই গ্রাহক অনলাইনে পাবেন সব সেবা। আর কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এক্ষেত্রে জ্বালানি বিভাগ পিছিয়ে রয়েছে। সবে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এই প্রক্রিয়া শুরু করতে চুক্তি করেছে। অন্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানি এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এর বাইরে আর তেমন কোন কাজেই জ্বালানি বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আসেনি।

সরকার গঠনের প্রথমদিকেই বিদ্যুত এবং জ্বালানি বিভাগকে ‘পেপারলেস’ করার ঘোষণা দিয়ে সব ফাইলওয়ার্কও ডিজিটাল করার ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু এখনও এ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বলা হয়েছিল সব কাজই হবে কম্পিউটারে। এতে টেবিলে টেবিলে ফাইলের কোন বোঝা থাকবে না। মন্ত্রী থেকে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কম্পিউটারেই ফাইল মূল্যায়ন করবে।

বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তা জানান, গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার মাধ্যমে সব থেকে বেশি ডিজিটাল প্রক্রিয়ার আওতায় আনা সম্ভব। এতে গ্রাহক হয়রানি কমবে। ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যায়, মিটার রিডাররা বিদ্যুত চুরি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়। এ জন্য সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার দেয়া হবে। গ্রাহক ঘরে বসেই তার বিদ্যুতের বিল নিজে প্রদান করতে পারবেন। যদিও একই প্রক্রিয়া তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি ঢাকার একটি এলাকাতে শুরু করেছে।

আগামী দুই বছরের মধ্যে ২২ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রামে প্রথমে শুরু হবে মিটার স্থাপনের কাজ। এখানে এক লাখ ৩৯ হাজার মিটার স্থাপন করা হবে। এরপর ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লায় আরও এক লাখ ৩৮ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে রাজশাহী-পাবনা-ঈশ্বরদীর গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটার পাবেন। পিডিবি জানায়, এভাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব সাধারণ মিটার তুলে নিয়ে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। দেশে এখন প্রায় ৫৫ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুত নিয়ে থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুত খাতের শতভাগ ডিজিটাল পরিচালনা পদ্ধতি থাকলেও আমাদের দেশে সম্প্রতি এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যুত খাতের সব কোম্পানি থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সদস্যদের সিঙ্গাপুরে নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা ছিল। প্রশিক্ষিত কর্মীরা দেশে ফিরে অন্যদের প্রশিক্ষণ দেবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় রূপান্তরের জন্য একটি দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা হবে।

এক্ষেত্রে শুধু শহরের মানুষ নয়, অনলাইন সেবা প্রদান ব্যবস্থা এখন ইউনিয়ন এমনকি গ্রামপর্যায়েও সম্প্রসারিত হয়েছে। মানুষ চাইলেই দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবে। সেবা গ্রহণের জন্য বিদ্যুত অফিসে আর ঘুরতে হবে না। অনলাইনে সেবা দেয়া হচ্ছে কিনা, তা কঠোরভাবে মনিটর করা হবে।

বিদ্যুত বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, অনলাইনের আবেদনগুলো যে কোন জায়গায় বসে মনিটর করা সহজ হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোন একজন গ্রাহক সংযোগের জন্য আবেদন করলে তাকে একটি নম্বর দেয়া হবে। সেই গ্রাহক আবেদনের কত দিন পরে সংযোগ পাচ্ছেন, তা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা যাবে। ফলে চাইলেই সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা সিরিয়াল ভেঙ্গে উৎকোচের বিনিময়ে অন্য গ্রাহককে সংযোগ দিয়ে দিতে পারবে না। গ্রাহকের সব আবেদন অভিযোগের রেকর্ড থেকে যাবে অনলাইনে। এতে সংশ্লিষ্টদের এক ধরনের দায়বদ্ধতাও তৈরি হবে।

সূত্র জানায়, গ্রাহক ঝক্কিমুক্তভাবে বিল দিতে পারবে, দায়বদ্ধ মিটার রিডিং ব্যবস্থা থাকবে, সহজে সংযোগ পেতে অনলাইন আবেদন করতে হবে, যথাযথ কাস্টমার কেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে, বিল পেমেন্ট হবে মোবাইলে। এ ছাড়া অভিযোগ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি অনলাইন প্রথা চালু করা হবে। গ্রাহক অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানানো হবে কত সময়ের মধ্যে সেবা দেয়া হবে।

শুধু গ্রাহকসেবা নয়, কোম্পানির পরিচালনায়ও থাকবে অনলাইন প্রথা। বিতরণ কোম্পানির অডিট, সমন্বয়, কর্মী ব্যবস্থাপনা, হিসাব রক্ষণসহ সবকিছু চলবে অনলাইনে। এ ছাড়া কর্মীদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান দেবেন প্রতিষ্ঠানের উর্ধতনরা। ক্ষেত্র বিশেষে গ্রাহকের সঙ্গেও হতে পারে ভিডিও কনফারেন্স। সব কার্যক্রম অনলাইনে হলে কর্মী কাজের বিষয়ে সজাগ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতি মুহূর্তের খবর যে কোন প্রান্ত থেকে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে দেখা যাবে। ফলে অবহেলা করার কোন সুযোগ থাকবে না।