১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কক্সবাজার সৈকতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কনস্টেবল খুন

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ দায়িত্ব পালনকালে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পারভেজ হোসেন নামে ট্যুরিস্ট পুলিশের এক কনস্টেবল খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট মোড়ে হোটেল মিডিয়ার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পারভেজ হোসেন (৩০) কুমিল্লার বুড়িচং থানার ইন্দবতি এলাকার বশির আহমদের পুত্র। তিনি গত ১০ মাস ধরে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সৈকত ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। এ খুনের ঘটনায় দুই ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো শহরের ঘোনারপাড়ার আবুল কালামের পুত্র সন্ত্রাসী আবু তাহের ও বাদশাঘোনা এলাকার শাহ আলমের পুত্র আবদুল মালেক।

ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি নওরোজ হোসেন তালুকদার জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে লাবণী পয়েন্ট মোড়ে ৪-৫ ছিনতাইকারী মোঃ জাকির হোসেন নামে এক পর্যটকের গতিরোধ করে নগদ টাকা ও মূল্যবান সরঞ্জামাদি ছিনিয়ে নেয়। লুণ্ঠিত মাল নিয়ে ছিনতাইকারীরা পালানোর সময় ওই পর্যটকের চিৎকারে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা এগিয়ে আসে। তারা ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করে ধরে ফেলে দুই ছিনতাইকারীকে। এ সময় ছিনতাইকারী আবু তাহেরের ছুরিকাঘাতে কনস্টেবল পারভেজ গুরুতর আহত হয়। আহত পারভেজকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ছিনতাইকারী আবু তাহেরের কাছ থেকে রক্তমাখা একটি ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে থাকা অন্য ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। ছিনতাইয়ের শিকার পর্যটক জাকির হোসেন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর কক্সবাজার পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে তার নিজ জেলা কুমিলায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম।

ঈদের পর কক্সবাজারে দেশ-বিদেশের পর্যটকের ঢল নামে। পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সব সময় সতর্ক অবস্থায় পুলিশ। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে এবং পর্যটকবেশে সৈকতে পুরুষের পাশাপাশি মহিলা পুলিশের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। কক্সবাজারের ক্রাইমজোন খ্যাত বাদশাঘোনা, এবিসিঘোনা, ঘোনারপাড়া, সাহিত্যিক পল্লী, বিজিপি ক্যাম্প সংলগ্ন চৌধুরীপাড়া বৈদ্যঘোনা, রোমালিয়ারছড়া, গরুরহালদা, পাহাড়তলী, লাইট হাউসপাড়া ও লারপাড়া এলাকার চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী-ছিনতাইকারী পর্যটকদের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনতাই করে থাকে। প্রায় সময় পর্যটকদের নাজেহাল করে তাদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিলেও অনেকে মানসম্মানের ভয়ে পুলিশের কাছে যেতে চায় না। পর্যটনের মৌসুম শীতকালে নতুবা ঈদসহ বিশেষ দিনে দলে দলে পর্যটক আগমন করে বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতে। পর্যটকদের ওপর ছিনতাই-সন্ত্রাসী কর্মকা-ের ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে, এ জন্য জেলা পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, শৈবাল পয়েন্ট, ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টসহ সৈকতজুড়ে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।