২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইশাথের স্বপ্ন...

আইশাথের স্বপ্ন...
  • ঢাকায় খেলতে আসা মালদ্বীপের হ্যান্ডবল খেলোয়াড়

রুমেল খান ॥ খেটে খেলতে হয়, এমন খেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম দ্রুতগতির খেলা হচ্ছে হ্যান্ডবল। নামেই বোঝা যায়, খেলাটি খেলতে হয় হাত দিয়ে। অফুরন্ত দম, তরিৎ কৌশল প্রয়োগ আর ক্ষিপ্রতাই হচ্ছে এ খেলার মূলধন। যাকে পুঁজি করে খেলে থাকেন যারা, তাদের বলা হয় হ্যান্ডবলার। পৃথিবীর অনেক দেশেই হ্যান্ডবলকে সরকারীভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়। তাদের আর্থিক সুবিধাও দেয়া হয়। ফলে হ্যান্ডবলাররা নিশ্চিন্তে ভাল খেলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে পারেন। বাংলাদেশে এই সুবিধা নেই। জাতীয় দলের কথাই ধরা যাক। জাতীয় পুরুষ ও মহিলা হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড়রা শুধু খেলতে গেলে যাতায়াত ভাড়া ও খাবার খরচ পান। যখন অবসর নেন, তখন হয় তো বড় জোড় সম্মাননা হিসেবে ফুলের তোড়া বা ক্রেস্ট পান। তারপর সবশেষ। কিন্তু এই সাফ অঞ্চলের অনেক দেশেই এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। মালদ্বীপের কথাই ধরা যাক। সেখানে হ্যান্ডবল খেলাকে যথেষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হয়। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তিন ক্যাটাগরিতে মাসে ২৫০, ২০০ ও ১৫০ ডলার করে বেতন দেয়া হয়। এই অর্থ যোগান দেয় সরকার, অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশন, আন্তর্জাতিক ভলিবল সংস্থা ও বিভিন্ন স্পন্সররা। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভাল খেললে বোনাস এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলে তাদের পেনশনও দেয়া হয়। পেনশনের পরিমাণ ২০০-৩০০ ডলার পর্যন্ত। ফলে এ খেলায় অনেকেইÑ বিশেষ করে মেয়েরা অনেক উৎসাহ নিয়ে খেলতে আসে। ফলে দেশটিতে কোন খেলোয়াড় সঙ্কট হয় না এবং প্রচুর উন্নতমানের খেলোয়াড় তৈরি হয়।

তাদের একজন আইশাথ লেনে আবদুল্লা আমির। সপ্তদর্শী এই নজরকাড়া কিশোর মালদ্বীপ মহিলা হ্যান্ডবল দলের খেলোয়াড়। বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের আমন্ত্রণে এবং মালদ্বীপ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের উদ্যোগে মালদ্বীপ মহিলা হ্যান্ডবল দল ১৯ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা সফরে এসেছে। ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়ে মালদ্বীপ মহিলা হ্যান্ডবল দল প্রতিদিন সকাল-বিকেল শহীদ (ক্যাপ্টেন) এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চলমান রাখবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহিলা হ্যান্ডবল দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ (ক্যাপ্টেন) এম. মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপ মহিলা হ্যান্ডবল দল মুখোমুখি হয় বাংলাদেশের টিম বিজেএমসির। ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে আলাপ হয় আইশাথের সঙ্গে।

এত খেলা থাকতে হ্যান্ডবলকে বেছে নেয়ার কারণ কী? ‘আসলে আমার পরিবারেই আছে দুই হ্যান্ডবলার। একজন আমার খালা নাশদা, আরেকজন কাজিন টিবা। মূলত তাদের খেলতে দেখেই আমার হ্যান্ডবল খেলার প্রতি আগ্রহ জাগে। আর মা-বাবাও এতে কোন আপত্তি করেননি।’

হ্যান্ডবল খেলাটিকে দ্রুত রপ্ত করার পর খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি আইশাথকে জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে। ২০১৪ সালে সে জাতীয় দলের সঙ্গে এশিয়ান গেমস হ্যান্ডবল আসরে খেলতে যায় দক্ষিণ কোরিয়ায়। সেখানে তার ভাল প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও মন্দ পারফর্ম করেনি আইশাথ। কোরিয়ার পর বাংলাদেশ হচ্ছে আইশাথের দ্বিতীয় বিদেশ সফর। কেমন লাগছে এখানে খেলতে এসে? ‘খুব ভাল। এখানকার আবহাওয়া, মানুষ, পরিবেশ ... সবকিছুই দারুণ পছন্দ হয়েছে। মনেই হচ্ছে না বিদেশে খেলতে এসেছি।’ বাংলাদেশের হ্যান্ডবলারদের খেলা দেখে কেমন মনে হচ্ছে? ‘বুধবার ভিকারুননিসা দলের সঙ্গে একটা ম্যাচ খেললাম। তাদের খেলা খুবই ভাল। উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে তারা আরও ভাল করবে।’ আইশাথের অভিমত। হ্যান্ডবলে আদর্শ কে? ‘সবে তো খেলা শুরু করলাম। বিশ্ব হ্যান্ডবল সম্পর্কে বলতে গেলে কিছুই জানি না। তাই আপাতত কোন আইডল নেই। তবে হয় তো খুব শীঘ্রই পেয়ে যাব।’ হ্যান্ডবল নিয়ে ভবিষ্যত লক্ষ্য? ‘একজন উন্নতমানের হ্যান্ডবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই এবং জাতীয় দলের হয়ে জিততে চাই অনেক অনেক শিরোপা।’ আইশাথের ভাষ্য। এখন দেখার বিষয়, আইশাথের এই সুনীল স্বপ্ন ভবিষ্যতে কতটা সফল হয়।