২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বরিশালে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী ॥ কর্মকর্তা উধাও

  • অর্থ আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকারের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী শুরু হয়েছে জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। এ কর্মসূচীর প্রশিক্ষকদের তিন মাসের ভাতার কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার গত ২৪ দিন থেকে উধাও বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তিন মাসব্যাপী যুবক ও যুব মহিলাদের নামমাত্র ন্যাশনাল সার্ভিসের প্রশিক্ষণ গত জুন মাসে সমাপ্ত করা হয়। কর্মসূচীর শর্তানুযায়ী ব্যাপক প্রচারণার কথা থাকলেও যুব উন্নয়ন অফিসের কার্যক্রম ছিল নামমাত্র। প্রচারণার জন্য ২০ হাজার টাকা বরাদ্ধ থাকলেও কোন প্রচারণাই চালানো হয়নি। যে কারণে ২ হাজার ৫শ’ বেকার যুবক ও যুব মহিলার কর্মসংস্থানের পরিবর্তে মাত্র ৭০৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন সরকারী দফতরের কর্মকর্তা। জানা গেছে, গত ২৮ জুন প্রকল্পের প্রশিক্ষক ও বিভিন্ন খাতের কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মোঃ দোলোয়ার হোসাইন মেহেন্দিগঞ্জ থেকে উধাও হয়ে গেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে সরকারী দফতরের কর্মকর্তারা (প্রশিক্ষক) যুব উন্নয়ন অফিসারের বিরুদ্ধে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছেন।

প্রশিক্ষক উপজেলা সমবায় অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিটি ক্লাসের জন্য ৫শ’ টাকা করে বরাদ্ধ থাকলেও তাকে দিয়ে ৪০টি ক্লাস করিয়ে ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতার পরিবর্তে দেয়া হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হারুন-অর রশিদ বলেন, আমি ৬০টি ক্লাস নিয়েছি। আমার পাওনা সম্মানী ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে আমাকে দেয়া হয়েছে মাত্র ৫শ’ টাকা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জসিম উদ্দিন জানান, যুব উন্নয়ন অফিসার তাকে সিডিউল, রুটিন, তথ্য এবং ভাতার টাকা কিছুই দেয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পুতুল রানী ম-ল, উপজেলা আনসার ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামসহ একাধিক কর্মকর্তারা (প্রশিক্ষক) জানান, গত ৩০ জুন সমুদয় টাকা পরিশোধের কথা বলে যুব উন্নয়ন অফিসার দেলোয়ার হোসাইন প্রশিক্ষকদের ভাতা না দিয়ে ২৮ জুন উধাও হয়ে গেছেন। অসংখ্যবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ২৮ জুন থেকে ওই কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে তার অনুপস্থিতির কারণে প্রশিক্ষণার্থী যুবক ও যুব মহিলাদের গত ১ জুলাই থেকে নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের অফিস সহকারী সেলিম রেজা বলেন, প্রশিক্ষণের সূচীপত্রের সিডিউল পর্যন্ত কাউকে দেখানো হয়নি। মোট কতটি সেশন কতজন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন তা পর্যন্ত অফিসের কেউ জানেন না। তিনি জানান, সরকার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীতে দুটি কম্পিউটার ক্রয়ের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্ধ দিলেও তা ক্রয় করা হয়নি। গত ৯ জুন আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রকল্প পরিচালক আবুল হাসান খান ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ দিলেও কোন আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়নি। যন্ত্রাশংসহ মেরামত বাবদ গত ১৭ জুন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তা দিয়েও কোন কাজ করা হয়নি।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, যুব উন্নয়ন অফিসার উপজেলার সিন্নিরচর ও তালুকদারচর আবাসন প্রকল্পে বসবাসরত বাসিন্দাদের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্ধকৃত প্রশিক্ষণের ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দফতর থেকে নিজের নামে স্থানীয় সোনালী ব্যাংক শাখায় ইস্যু করিয়ে নিয়েছেন। অথচ আবাসন প্রকল্পের কোন বাসিন্দাদেরই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার দেলোয়ার হোসাইনের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তাজিম-উর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপ-পরিচালক ও ন্যাশনাল সার্ভিসের প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচিত সংবাদ