১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিবেশ বিপর্যয় ॥ হুমকিতে আদিবাসীদের অস্তিত্ব

  • শেরপুরের গারো পাহাড়

নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর, ২৩ জুলাই ॥ বালু উত্তোলন, পরিবেশ বিপর্যয়কারী বৃক্ষরোপণ ও নদ-নদীর ড্রেজিং না করাসহ নানা কারণে শেরপুরের গারো পাহাড়ে ক্রমেই ঘটছে পরিবেশ বিপর্যয়। এতে অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে আদিবাসী পরিবারগুলো। নিষ্পেষিত হচ্ছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ উপজেলার ২০-২৫টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা। এভাবে চলতে থাকলে হয়ত অচিরেই ওইসব জনগোষ্ঠীর ওপর নেমে আসবে ভয়ঙ্কর পরিণতি। এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে ওইসব তথ্য।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়জুড়ে গারো, হাজং, কোচ, বানাই, বর্মণ অদিবাসীদের বসবাস। মেঘালয় ঘেঁষা গারো পাহাড়ের আদিবাসীদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম দীর্ঘ বেদনার ঘন অধ্যায়। পরিবেশ বিপর্যয়কারী বৃক্ষের বনায়ন, বালু উত্তোলন, নদ-নদী ড্রেজিং না করা, বৃক্ষনিধনে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিপর্যয়সহ পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে মারাত্মকভাবে। প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা শাল, গজারি ও ওষধি গাছপালা অনেকাংশেই নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রভাব। বর্ষা না যেতেই শুকিয়ে যায় জলাধার ও ঝরনাগুলো। দেখা দেয় অকাল বন্যা। আবাদি জমিসহ ঘরবাড়ি ডুবে যায় বন্যার পানিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় অর্ধ লাখ মানুষ। পরিবেশ বিপর্যয়কারী বৃক্ষের বাগান গড়ে উঠায় হারিয়ে গেছে প্রাণী বৈচিত্র্যের পাহাড়ী সম্পদ। ভেষজ গাছ এখন খুঁজে পাওয়া যায় না। নেই ফসলের বৈচিত্র্য। জলাশয়ে নানা প্রকারের মাছ আর জলজ প্রাণীও হারিয়ে গেছে কালের বির্বতনে। বালিজুরি রেঞ্জের বালিজুরি, মালাকোচা, কর্ণঝোরা ও ডমুরতলা বিটের একাশি, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, সেগুনসহ বিভিন্ন জাতের গাছের বাগানে বসবাসকারীরা পড়েছে হুমকির মুখে। এতে আদিবাসীদের জুম ফসল, স্থানীয় জাতের ধান, শাকপাতা ও ফলমূলসহ নানা জাতের গাছের বিলুপ্তি ঘটেছে। হারিয়ে গেছে বনের বক, কবুতর, বনমোরগ, হরিণ, শুকুর, সরগা, ঘুঘু, চিলহাসসহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণী। মেঘাদল এলাকার পাগলা নদীর বুক চিরে প্রতিদিনই উত্তোলন করা হচ্ছে শতশত ট্রলি বালু। এতে নদীর দু’পাড় ভেঙ্গে ফসলী জমি ও ঘরবাড়ি হচ্ছে বিলীন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে বালিজুরি এলাকার ব্রতিন মারাক জানান, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে এখন বনে তেমন পশুপাখি নেই। আদিবাসীরাও অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে। আদিবাসী নারী প্রমেলা মারাক জানান, পরিবেশের ভারসাম্যহীনতায় এখন পাহাড়েও ওষধি গাছ খুঁজে পাওয়া যায় না। সামান্য অসুখ হলেই যেতে হচ্ছে হাসপাতালে। আদিবাসী নেতা ও উপজেলা টাইবাল ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রাঞ্জল এম সাংমা বলেন, গারো পাহাড়ের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও স্থানীয় দায়িত্বশীল মহলের আন্তরিকতাসহ এলাকাবাসীর সহায়তার কোন বিকল্প নেই। এজন্য বিভিন্ন এনজিওগুলোও এগিয়ে আসতে পারে।