১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইলেকশন না সিলেকশন- তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অনিশ্চয়তা

মুহাম্মদ ইব্রাহীম সুজন ॥ আগামীকাল শনিবার শুরু হচ্ছে ছাত্রলীগের ২৮তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন। এই সম্মেলন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘নেতৃত্ব গঠনের পদ্ধতি।’ সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, ইলেকশন না সিলেকশন- এ নিয়ে সংগঠনের তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। নেতাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট কোন বক্তব্য দিতে পারেননি। গোপন ব্যালটে ইলেকশনের মাধ্যমে বিগত তিনটি কমিটি গঠিত হলেও এবার সিলেকশনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংগঠনের বর্তমান কমিটির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। সিলেকশনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠিত হলে শনিবার দিনই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা হয়ে যাবে। অন্যথায় পরদিন রবিবার ইলেকশন অনুষ্ঠিত হবে।

সংগঠনটির গঠনতন্ত্রের দ্বিতীয় ভাগের ২০ নং ধারার দ্বিতীয় অংশে ‘বিষয় নির্ধারণী কমিটি’র সভাপতির কথা বলা আছে। কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনিই কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পরবর্তী দুই বছরের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে গোপন ব্যালটে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ইলেকশনের ব্যবস্থা করবেন। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন ইলেকশন কমিশন। এবারের সম্মেলনে তিন সদস্যবিশিষ্ট ইলেকশন কমিশন গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত বিষয় নির্ধারণী কমিটির সভাপতি কে হচ্ছেন তা নির্ধারণ করা হয়নি। নেতৃত্ব গঠনের পদ্ধতি সম্পর্কে সংগঠনের গঠনতন্ত্রে সিলেকশনের কথা উল্লেখ না থাকলেও সিলেকশনের বিষয়টি একটি অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেকশন সম্ভব না হলেই তারপর আসে ইলেকশন। এবারের সম্মেলনে সিলেকশন করে কমিটি করা গেলে, সেটি সংগঠনের জন্য বেশি ইতিবাচক হবে বলে মনে করেন শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তবে এসব কিছুর উর্ধে রয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত।’

এ বিষয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ জনকণ্ঠকে বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্রই আমাদের সবকিছুর মূল ভিত্তি। এর বাইরে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই অবশ্য পালনীয়। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেভাবেই সবকিছু হবে।

সংগঠনের জেলা শাখা থেকে শুরু করে সকল অধঃস্তন শাখাতেই সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি দেয়া হয়। কেবল কেন্দ্রীয় কমিটির বেলায় ইলেকশন হয়। অন্যসব শাখায় সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি দেয়া হলেও কেন কেন্দ্রে ইলেকশনের মাধ্যমে কমিটি হয়- এ নিয়ে খোদ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের কথিত ‘সিন্ডিকেট’ তাদের নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করিয়ে থাকেন। এই সিন্ডিকেট কাউন্সিলর তালিকা তৈরিসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের প্রভাব বিস্তার করে থাকেন। এসব কোন কোন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ আছে।

এর আগে ২০০২, ২০০৬ ও ২০১১ সালে গোপন ব্যালটে ইলেকশনের মাধ্যমে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব ঠিক করা হয়। কিন্তু ইলেকশনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের সময় আর্থিক লেনদেন ও কথিত ‘সিন্ডিকেটে’র প্রভাবসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। আর কারণেই আবারও ২০০২ পূর্বপবর্তী অবস্থানে ফিরে গিয়ে সিলেকশনের মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন করা গেলেই সংগঠনের জন্য ভাল হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম এ ছাত্র সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মী।

কেন্দ্রীয় এই সম্মেলন আগামীকাল শনিবার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হবে। এদিন বেলা ১১টায় জাতীয় সঙ্গীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপরের আয়োজনে থাকবে সম্মিলিত দলীয় সঙ্গীত। সম্মেলনস্থলে মঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পথে। এবারের সম্মেলনে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেয়া হবে।

এদিকে এই সম্মেলন সামনে রেখে পদপ্রত্যাশীদের ভিড়ে দিনভর সরগরম থাকছে জাতীয় রাজনীতির সূতিকাগারখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিন। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, বাড়ছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ।

সম্মেলন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের এরকম সক্রিয় কর্মকা-কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংগঠনের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন মানে হচ্ছে ছাত্র রাজনীতির একটি উৎসব। পদপ্রত্যাশীদের এই আগ্রহের বিষয়কে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখতে চাই। কারণ এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ তরুণ প্রজন্মের কাছে কতটা জনপ্রিয়।