১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হুমকির মুখে মেঘনা গোমতী সেতু, সংস্কারে সেনাবাহিনী

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ থেকে ॥ আবার হুমকির মুখে পড়েছে মেঘনা-গোমতী সেতু। সংস্কার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে মেঘনা সেতুরও। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু দুটির সংস্কার হয়েছিল প্রায় দেড় বছর আগে। কিন্তু মেঘনা-গোমতী সেতুর পিলারের পাশের মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৪১ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সেনাবাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেঘনা-গোমতী সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর পিলার সংস্কার কাজ হয়েছিল দেড় বছর আগে। এবার ৬ নম্বর পিলারের নিচে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, সেতুর ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের পাশের মাটি সরে গেছে। ছয় নম্বর পিলারের পাশে ২০ থেকে ২২ ফুট গভীর গর্ত। ৭, ৮ ও ৯ নম্বর পিলারের পাশে সৃষ্ট গর্তের গভীরতা ৭ থেকে ১২ ফুট। “মেঘনা সেতুর প্রটেকশন এবং গোমতী সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ” নামে এই প্রকল্প গ্রহণের পর শুক্রবার নতুন করে ৩ ও ৪ নম্বর পিলারের নিচের মাটি সরে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। যানবাহন চলাচলের সময় এই পিলার দুটির নড়াচড়াও সাদা চোখে দেখা যায়। এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী (নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল) রোশনি-এ-ফাতিমা শুক্রবার সন্ধ্যায় জনকণ্ঠকে জানান, প্রায় ৪১ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে। নতুন করে সমস্যা হলেও এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেরামত করা হবে। শীঘ্রই সেনবাহিনী মেরামত কাজ শুরু করবে বলে তিনি জানান। তিনি মনে করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই সেতুতে এখন যান চলাচলে কোন সমস্যা নেই। সমস্যার আগেই সংস্কার সম্পন্ন করা হবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেতুর বিয়ারিং-সম্প্রসারণশীল সংযোগ (এক্সপানশন জয়েন্ট) পুনঃস্থাপন হবে। সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ৩০ জুন মেঘনা-গোমতী সেতুর সংস্কার কাজ শেষ হয়। এর পর ২০১৪ সালের জুন মাসে মেঘনা সেতুর তলদেশে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর একটি পর্যবেক্ষণ জরিপ পরিচালনা করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওই জরিপ সম্পন্ন হয়।

জরিপে দেখা গেছে, সেতুর ১২টি পিলারের মধ্যে নদীর মাঝ বরাবর অবস্থিত ৬ নম্বর পিলারের আশপাশে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। তবে আগের পুনঃসংস্কারের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর পিলার অক্ষত রয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়। প্রথম সংস্কার প্রকল্পের আওতায় সেতু দুটির মোট ৯৬ বিয়ারিং এবং ৩০টি সম্প্রসারণশীল সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। প্রায় দু’দশক আগে সেতুটি নির্মিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই সেতুটি আজ ঝুঁকিতে। কিছুদিন আগেও একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এখানে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী রোশনি-এ-ফাতিমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেঘনা-গোমতী সেতুর নিচে বালু কাটা হয় না। সৃষ্ট সমস্যাটি বালু তোলার কারণে হয়নি।