১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পদ্মা সেতু নির্মাণে ভারত থেকে আনা পাথর খালাস করা যাচ্ছে না

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ২৪ জুলাই ॥ ফরিদপুরে পদ্মা সেতুর পাইলিং কাজের জন্য ভারত থেকে রেলের ওয়াগনে করে পাথর আনা হয়েছে। এ পাথর খালাস করে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হবে ফরিদপুর শহর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে শিবচরের মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর নির্মানস্থলে। এই পাথর দিয়ে পদ্মা সেতুর পাইলিং কাজ করার কথা। কিন্তু অবৈধ দখলদাররা রেলের জায়গা দখল করে রাখায় শুক্রবার পর্যন্ত ট্রাক ভর্তি করে পাথর পাঠানো শুরু করা যায়নি।

রেলের জায়গা অবৈধ দখল করায় পদ্মা সেতুর কাজের জন্য ভারত থেকে আনা প্রায় দুই হাজার টন পাথরের সিংহভাগ পড়ে রয়েছে রেল বগিতে। একারণে আরও পাথর আনার কথা থাকলেও সেসব আনা যাচ্ছে না রাখার জায়গার অভাব বগিগুলো খালি না করায়।

জানা যায়, ঢাকার ‘ওভারসিজ কমার্স’ নামের একটি কোম্পানি এসব পাথর ভারত থেকে আমদানি করেছে। ওভারসীজ কোম্পানির স্থানীয় প্রতিনিধি জানান, ট্রেনে আরও পাথর আসার কথা। কিন্তু প্রথম চালানই এখন পর্যন্ত খালাস করতে না পারায় বগিগুলো ফিরতে পারছে না। পাথর আনার তিন দিন পর বৃহস্পতিবার কিছু অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করায় ৮ ওয়াগনের পাথর খালাস করা শুরু করেছি। এখনও আরও ২২ ওয়াগনে হাত দেয়া হয়নি। এ পর্যন্ত রহনপুর সীমান্ত দিয়ে ১৫ র‌্যাক ‘পাকুর স্টোন’ আনা হয়েছে। এক র‌্যাকে ৪২টি ওয়াগন পাথর ধরে। প্রতি ওয়াগনে ৫৭ টন পাথর রয়েছে। সোমবার ফরিদপুর রেল স্টেশনে ৩০ ওয়াগন পাথর আনা হয়েছে। কিন্তু জায়গার অভাবে ২২টি ওয়াগনের পাথর খালাস করা যায়নি।

বৃহস্পতিবার শহরের লক্ষ্মীপুর মহল্লায় অবস্থিত রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায় রেলের গুদামের পশ্চিম পাশে কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নিচে চাটাই ও পলিথিন বিছিয়ে পাথর খালাস করে রাখা হচ্ছে। কিন্তু রেল গুদামের পূর্ব ও উত্তর পাশে কাঠের আসবাবপত্র, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, ওয়ার্কশপ, লেপ-তোশকের দোকান, চা ও কাঠের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ১৬টি দোকান রয়েছে।

রেলগেট সংলগ্ন কাঠের দোকানদার আব্দুস সামাদ বলেন, রেলের কাছ থেকে গত ২০ বছর ধরে ইজারা নিয়ে ভোগদখল করছি। তবে গত চার বছর ধরে লিজ নবায়ন করছে না রেল।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ট্রান্সপোর্ট কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, অবৈধ দখলের কারণে ফরিদপুর রেল স্টেশনে পাথর নামাতে সমস্যা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভাগীয় প্রকৌশলী ও বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী জানান, রেল মন্ত্রণালয় হতে বৃহস্পতিবার একটি মেসেজ পেয়েছি পাথর খালাসের জন্য। শীঘ্রই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নির্বাচিত সংবাদ