১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাংলাদেশী পোশাকের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ

  • শিল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন

এম শাহজাহান ॥ বাংলাদেশী পোশাকের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবটি ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে ক্রেতা দেশগুলো। গার্মেন্টস শিল্পে আন্তর্জাতিকমান অর্জন ও কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন করতে হলে তৈরি পোশাকের দাম বাড়ানো এখন অপরিহার্য হয়ে পড়ছে। এছাড়া নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে এ শিল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই বিনিয়োগের জন্য ক্রেতা দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য পোশাকের ন্যায্য দাম নির্ধারণ সবচেয়ে বেশি জরুরী হয়ে পড়ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশী পোশাকের দাম দেয়া হোক। রফতানি শিল্পের উন্নয়নে গঠিত থ্রি প্লাস ফাইভ কমিটির বৈঠকে এবার এভাবেই বাংলাদেশের পক্ষে পোশাকের দাম বৃদ্ধির জন্য যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়েছে। মূল আলোচনায়ও গুরুত্ব পায় নতুন করে দাম নির্ধারণের বিষয়টি। আর এতে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ক্রেতাদেশগুলোর সরকারী প্রতিনিধিরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা (জিএসপি) ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বাংলাদেশ এ্যাকশন প্লানের ১৬টি শর্তের প্রায় সব পূরণ করা হয়েছে। এছাড়া শতভাগ নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে এ শিল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। উদ্যোক্তারা বলছেন, রফতানিকৃত তৈরি পোশাকের দাম বৃদ্ধি করা হলে দেশের প্রতিটি গার্মেন্ট কারখানা কমপ্লায়েন্স করা সম্ভব। সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত থ্রি প্লাস ফাইভ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ ছাড়াও পোশাক খাতের সাসটেইনিবিলিটি কমপ্লায়েন্সের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাণিজ্য, শ্রম ও পররাষ্ট্র এই তিন মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জার্মানি, কানাডা এবং নেদারল্যান্ডস এই পাঁচ মিশনের প্রধান অংশ নেন। এই তিন সচিব পোশাক খাতের সচিব কমিটিতে রয়েছেন। এ কমিটির আহ্বায়ক হলেন বাণিজ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব জনকণ্ঠকে বলেন, থ্রি প্লাস ফাইভ কমিটির বৈঠকে এবার পোশাকের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, এ খাতের সাসটেইনিবিলিটি কমপ্লায়েন্সের অগ্রগতি দ্রত করতে হলে অবশ্যই পোশাকের দর নতুন করে ঠিক করতে হবে। মেইড ইন বাংলাদেশ একটি ব্র্যান্ড। আন্তর্জাতিকমানের পোশাক তৈরির পরও সেই তুলনায় দাম দিচ্ছে না ক্রেতা দেশগুলো। এ বিষয়টি এবারের আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডাসহ অন্যান্য দেশ বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে এটা নিয়ে আরও আলোচনা ও বৈঠকের প্রয়োজন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পোশাকের দাম নির্ধারণ করা গেলে এ শিল্পের দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব। নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় ক্রেতা দেশগুলোকে এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

জানা গেছে, পোশাকের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে এই পাঁচ মিশনের প্রধানগণ সেই দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের প্রধান পিয়েরে মায়াদ্যু এ বিষয়টি নিয়ে দ্রুত বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছেন। ওই বৈঠকে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের পোশাকের ক্রেতা প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাটও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, কম দামে ভাল মানের পোশাকের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থান হচ্ছে বাংলাদেশ। এদেশের সস্তা শ্রম এবং উদ্যোক্তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় রফতানিকারক দেশ হিসেবে অবস্থান তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত ও চীনের শ্রম মূল বেড়ে যাওয়া এবং উদ্যোক্তারা বৃহৎ শিল্পে ঝুঁকে পড়ায় আগামীতে বাংলাদেশ পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যম মূল্যের পোশাক কিনতে বাংলাদেশের দিকে অল্প অল্প করে ঝুঁকছে। জাপান একতরফাভাবে চীন থেকে পোশাক না নেয়ার নীতি নিয়েছে। চীন ও ভারতের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারাও বাংলাদেশ থেকে পোশাক নেয়ার তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু পোশাকের সঠিক ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হওয়ার কারণে শ্রমিকরাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে। আর এ কারণেই প্রতিটি শার্ট কিংবা প্যান্টের দাম বিদেশে ৩০-৩৫ ডলার হলেও তার থেকে ৫ ডলারও পায় না বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলো।

নির্বাচিত সংবাদ