২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লালমনিরহাট সীমান্তে জঙ্গী আস্তানা, মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ২৪ জুলাই ॥ ভারতের লোকসভা ভবনে ১৫ আগস্ট বোমা হামলার পরিকল্পনাকারীদের আটকের খবর ১৩ জুলাই জনকণ্ঠে প্রকাশ হয়েছে। এই খবরের সূত্র ধরে মোগলহাট সীমান্তে ঢিলছোঁড়া দূরুত্বে ভারতীয় ধরলা নদীর চরে বোমা তৈরির কারখানার সন্ধান মিলেছে। এই কারখানা হতে হাজারে হাজারে পেট্রোলবোমা, বোমা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে দেশে বিরোধীদলীয় আন্দোলন সহিংস করতে সরবরাহ করা হয়েছে। গোয়েন্দারা খোঁজ খবর করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য পেয়ে বিচলিত হয়ে পড়েছে। সীমান্ত গ্রামে মাফিয়া, জঙ্গীগোষ্ঠী, উগ্র মৌলবাদী চক্র রামরাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। এদের গডফাদার সরকারী দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা ও কর্মীরা। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা চক্রটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই চক্রটি হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ সরবরাহকারী বিএনপি-জামায়াতের সময় বিএনপির এক উপমন্ত্রীর হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দিয়েছিল। পুনরায় আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দিলেও এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে। স্থানীয় এক জেলা পর্যায়ের নেতা তাদের মুরুব্বি। এই সিন্ডিকেটের হোতা হুন্ডি ব্যবসায়ী গত উপজেলা নির্বাচনে মুরুব্বিকে বেকায়দায় ফেলে তার পরাজয় নিশ্চিত করেছিল। এখন অবৈধ অর্থই দুই প্রান্তের দুইজনের মধ্যে সখ্য গড়ে দিয়েছে।

জনকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর পর ভারতের লোকসভা ভবনে ১৫ আগস্ট বোমা হামলা পরিকল্পনা সম্পর্কে মাফিয়া চক্রটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এখন মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দারা এদের সক্ষমতা সম্পর্কে জোরালো তথ্য পাচ্ছে। মোগলহাট সীমান্তে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে ধীরে ধীরে জঙ্গীবাদী ও উগ্রমৌলবাদী চক্রটি শক্তি সঞ্চয় করে। এই জঙ্গী ও মৌলবাদী চক্রটির সঙ্গে পাকিস্তানপন্থী ভারতবিরোধী কাশ্মীরী যোদ্ধাদের সম্পর্ক রয়েছে। এখানে সীমান্তে কাশ্মীরের এক তরুণীকে এক যোদ্ধা বিয়ে করে নিয়ে এসে কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গী ও উগ্রমৌলবাদী তৎপরতা চলতে পারে।

জঙ্গী তৎপরতায় ভারতীয় এক পরিবারের জামাই মঞ্জু মিয়া, রাজাকারপুত্র আমজাদ ও স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত। জঙ্গী তৎপরতায় জড়িত থাকার প্রমাণ বহু আগেই মিলে। তবে সীমান্তে শতশত কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসায় বিঘœ ঘটতে পারে। এই অর্থর ভাগ হতে স্থানীয় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বঞ্চিত হতে চায়নি। তাই জঙ্গী ও উগ্রমৌলবাদ নিয়ে তেমন কেউ কথা তোলেনি।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ ধরলা নদীর চরে ভারতীয় ভূখ-ে জঙ্গী, উগ্রমৌলবাদী ও মাওবাদী তৎপরতার প্রমাণ পেয়েছে। মোগলহাট সীমান্তে তাই বিএসএফ অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে কঠোর নজরদারি করছে। এমন কি ঝড়বৃষ্টিতে বিএসএফ সদস্যরা ত্রিপল মাথায় দিয়ে সারারাত বৃষ্টিতে ভিজে পাহারা নিশ্চিত করছে। মাওবাদী ও ইসলামী জঙ্গীরা অর্থ সরবরাহে ভারতীয় গরু চোরাই পথে বাংলাদেশে পাঠিয়ে অর্থ যোগাড় করছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দারা প্রমাণ পেয়েছে। ফলে মোগলহাট সীমান্তে ভারতীয় গরু চোরাই পথে আসা বন্ধ রয়েছে।