১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘খামখেয়ালী সভায়’ বন্যার সুরের সুধায় মুগ্ধ শ্রোতা

‘খামখেয়ালী সভায়’ বন্যার সুরের সুধায় মুগ্ধ শ্রোতা
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গান আর কথায় সাজানো ছিল আয়োজনটি। এক অনুষ্ঠানে শ্রোতারা শুনতে পেল রবীন্দ্রনাথের গান এবং সেই গানের প্রেক্ষাপট। শুধু তাই নয়, সুরেলা এ আয়োজনে বলা হলো সঙ্গীত নিয়ে কবিগুরুর ভাবনার কথা। আর শ্রোতাকে গান শুনিয়ে মুগ্ধ করার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথের গান প্রসঙ্গে কথা বললেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। শুক্রবার শ্রাবণের বিকেলে ঝরঝর বৃষ্টির মাঝে ‘খামখেয়ালী সভা’ আয়োজিত ১৯তম এই আড্ডা অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান মিলনায়তনে।

খামখেয়ালী সভার এ আসরে মধ্যমণি ছিলেন বরেণ্য রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। আড্ডায় তিনি গীতবিতানের প্রেম ও পূজা পর্বের গানের ওপর আলোচনা করেন। পাশাপাশি গেয়ে শোনান অনেকগুলো গান। বন্যার কথার মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এমন আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন, যখন আমাকে এ আড্ডায় আসার আমন্ত্রণ জানানো হলো তখন একটু ভিন্নরকম অনুভূতি হলো। স্বাভাবিকভাবেই সাহিত্য-শিল্প-সঙ্গীত নিয়ে এমন আয়োজনের প্রতি আগ্রহী হলাম। গান গাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকবিকে নিয়ে কিছু বলার বিষয়টি আমার কাছে ভাল লাগার বোধ জাগিয়েছে। আমাকে কবিগুরুর প্রেমের গান গাওয়ার কথা বললেও আমি মূলত রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে হাজির হয়েছি এ আসরে। সঙ্গীতভিত্তিক আড্ডার শুরুতেই শব্দের বুকে সুর ঝরিয়ে তিনি গেয়ে শোনান ‘কি গাবো আমি, কি শোনাবো আজি আনন্দধামে’। গান শেষে বন্যা বলেন, রবীন্দ্র রচনার বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে তাঁর সঙ্গীত। গানের মাধ্যমে সঙ্গীতপিপাসুদের মাঝে রবীন্দ্রনাথ যে অটুট বন্ধন সৃষ্টি করেছেন সে কারণেই বার বার তাঁর ফিরে যেতে হয়। পুরো আয়োজনে এভাবেই চলতে থাকে সুরের সঙ্গে কথার বন্ধন। বন্যা একটি করে গানে সুর তুলছিলেন পাশাপাশি বলছিলেন গান রচনার প্রেক্ষাপট, গান সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা। এ সময় বন্যার সঙ্গী হয়ে সুর মেলান তাঁর শিক্ষার্থী তিন নবীন শিল্পী অনুশ্রী ভট্টাচার্য্য, সাথী সরকার ও নূর-ই-রেজিয়া মম।

খামখেয়ালী সভার এই ১৯তম আসরে সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। আড্ডার সঞ্চালনা করেন খামখেয়ালী সভার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জাকির হোসেন তপন।

বন্যার প্রথম পরিবেশনা শেষে তিন শিল্পী অনুশ্রী, সাথী ও মম সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘জাগো জাগো জাগোরে সঙ্গীত’, কান্নাহাসির দোল-দোলানো পৌষ-ফাগুনের পালা’, ‘বজ্রে বজ্রে তোমার মাঝে বাঁশি’, ‘গানের ভিতর দিয়ে যখন দেখি ভুবনখানি’। এই তিন শিল্পীর চার গান শেষে আবার কণ্ঠে সুর তুলেন বন্যা। গেয়ে শোনান ‘দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে’। গান শেষ শিল্পী বলেন, রবি ঠাকুরের গীতাঞ্জলি পর্বে ঈশ্বর ও সখা এক হয়ে যান। এভাবেই সুরে ও কথায় মোহাবিষ্ট হয় মিলনায়তনভর্তি সঙ্গীতপ্রেমীরা। আর বন্যার কণ্ঠে গীত হয় ‘আমার শেষ বাগানের কড়ি কণ্ঠে নিলেম’, ‘গানের ভেলায় বেলা-অবেলায় প্রাণের আশা’, ‘ধূসর জীবনের গোধূলিতে’, ‘তোমায় গান শোনাবো তাই তো আমার জাগিয়ে রাখো’, ‘আমার রাত পোহালো শারদ প্রাতে’সহ একগুচ্ছ গান।

গোটা আয়োজনটি ছিল সঙ্গীতনির্ভর এক চমৎকার আড্ডা। সাধারণত আড্ডা যেমন হয়Ñআলোচনা, তর্ক-বির্তক, গান-বাজনা, খানা-পিনা সবই ছিল তাতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকর্মকে অবলম্বন করে প্রতিমাসেই বসে ওই আড্ডা। ঘরোয়া আয়োজন হলেও আড্ডায় যোগ দেন আড্ডার সদস্যসহ নানা শ্রেণীর মানুষ। আড্ডার প্রতি আসরে থাকেন একজন মধ্যমণি, যিনি আলোচনা করেন রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে, থাকেন একজন শিল্পী, যিনি গেয়ে শোনান রবীন্দ্রসঙ্গীত।

এই আড্ডাটির নাম ‘খামখেয়ালী সভা’। ১৮৯৭ সালের কথা। কলকাতায় ভিন্নধর্মী আড্ডা চালু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নাম ছিল ‘খামখেয়ালী সভা’। ওই আড্ডায় আসতেন প্রমথ চৌধুরী, জগদীশচন্দ্র বসু, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ আর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। পরে কালক্রমে হারিয়ে গেছে ওই আড্ডা। প্রায় ১১৫ বছর পর ঢাকায় আবারও শুরু হয়েছে সেই আড্ডা। গতকাল ছিল এর ১৯তম আসর। আড্ডা, গান ও সাহিত্য আলোচনার মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান মিলনায়তন ছিল জমজমাট। ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ শীর্ষক এ আড্ডার আয়োজন করে ‘খামখেয়ালী সভা’।