২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সোনা নয় অধরা

সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা সোনা এসে গেছে বুঝি হাতের নাগালে। হাত বাড়ালেই যেন মিলে যাবে সোনার অলঙ্কার এবার। সহজলভ্য হয়ে গেছে আজ সোনা। প্রচলিত কাব্যই রয়েছে সোনার হাতে সোনার কাঁকন কে কার অলঙ্কার। সেই সোনার কাঁকন সহজে পাওয়ার দিন বুঝি দ্বারপ্রান্তে। দাম কমতে কমতে এমন জায়গায় এসেছে যে, আরও কমলে স্বর্ণ ব্যবসায় নামবে ধস। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও বিপত্তি দেখা দেয়ার সম্ভাবনা কম নয়। বিশ্ববাজারে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে সোনার দাম। এটা কারও জন্য স্বস্তির, বিশেষত অলঙ্কার ব্যবহারকারীদের কাছে। কিন্তু ব্যাংক রিজার্ভের বিপরীতে স্বর্ণ মজুদ রাখার ক্ষেত্রে শঙ্কার কারণ থাকাটাই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে বিশ্ববাজারে উপচে পড়ছে সোনার যোগান, এমন সংবাদ বাঙালী তথা উপমহাদেশবাসীর জন্য সুসংবাদ হলেও আর্থিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভিন্ন অর্থ দাঁড়ায়। সোনার দর কমছে গত ক’দিন ধরেই। গত এক মাসে দাম কমেছে ৮ শতাংশ। বর্তমানে এশিয়ায় স্বর্ণের চাহিদা নিম্নমুখী। ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমতে থাকলেও বাংলাদেশে এ ধাতব মুদ্রার দাম কমছে না। সোনা ব্যবহারের নিরিখে এই উপমহাদেশ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলোর মধ্যে থাকলেও সোনার দাম অবশ্য নির্ভর করে বিশ্ববাজারে দর ওঠা-নামার ওপর। আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে স্বর্ণ ব্যবহার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। মহার্ঘ স্বর্ণের দাম কমার অবশ্য রয়েছে কার্যকারণ। বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণভোক্তা দেশ চীন চলতি বছর স্বর্ণ মজুদ প্রত্যাশার চেয়ে কম করছে। বলা হচ্ছে, গত ছয় বছরে প্রত্যাশার তুলনায় চীনের আমদানি কম হওয়ায় এবং মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ার কারণেই সোনার দরপতন ঘটেছে। চীনের সোনা মজুদ হ্রাস পাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে বর্তমানে সোনার দাম ৪ শতাংশ কমেছে। এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে সোনার দামে তীব্র নিম্নগামী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে এক ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। তবে বাংলাদেশের বাজারে তা এখনও ৪৫ হাজার টাকা। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেনি। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য এই যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। মূলত এই অনিশ্চয়তা থেকে নিরাপদে থাকতে বিনিয়োগকারীরা সোনা বিক্রি করে নগদ অর্থ তুলে নিচ্ছেন। সোনার দাম ২০১০ সালের পর গত সপ্তাহে এগারো শ’ ডলারের নিচে নেমে গেছে। তবে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির পরমাণু চুক্তি সইয়ের পর তেলের দাম কমে যাওয়াও সোনার দরপতনে সহায়ক হচ্ছে।

নীতিমালা না থাকায় বাংলাদেশ বিশ্ববাজার হতে নির্ধারিত মূল্যে স্বর্ণ কিনতে পারছে না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ হতে সংগৃহীত স্বর্ণের দ্বারাই দেশীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে আসছে। দেশীয় চাহিদার বিপরীতে প্রয়োজনীয় যোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত বছরে দেশের বাজারে ১৪ বার স্বর্ণের দামে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকারের উচিত দেশে বৈধভাবে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ তৈরি করে এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের একটি হচ্ছে স্বর্ণ। গত মার্চ পর্যন্ত মজুদের পরিমাণ সাড়ে সতেরো টন। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় কী পরিমাণ ক্ষতি হবে, তার কোন পূর্বাভাস মেলে না। বাংলাদেশ ব্যাংকও কোন ভাষ্য প্রদান করছে না। সবমিলিয়ে স্বর্ণের দামের নিম্নমুখিতা বাংলাদেশের জন্য কী বার্তা বয়ে আনছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে কম দামে সোনা লাভ বাঙালীর আকাক্সিক্ষত হলেও তা কতটা সম্ভব হবে, এখনই বলা যাচ্ছে না। সোনার বাংলাদেশ স্বর্ণে স্বর্ণে হয়ে উঠুক স্বর্ণপ্রভাÑ সে কামনা করাই যায়।

নির্বাচিত সংবাদ