১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইরান চুক্তির ভাগ্য অনিশ্চিত

  • অনড় অবস্থানে হোয়াইট হাউস ও বিরোধী সিনেটররা

ইরানের পরমাণু বিষয়ক চুক্তি নিয়ে ওবামা প্রশাসন এবং বিরোধী সিনেটররা বৃহস্পতিবার এক তিক্ততাপূর্ণ শুনানির শুরুতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। এতে আপোসরফা হওয়ার সামান্য সম্ভাবনাই চোখে পড়ে। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

সিনেটের শুনানিতে রিপাবলিকানরা তাদের বর্ণনামতো গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ ঐ চুক্তির নিন্দা করে দীর্ঘ ও প্রায়ই কড়া ভাষায় বক্তৃতা দেন। তারা বিপজ্জনক অর্বাচীনসুলভ আচরণের দায়ে প্রশাসনকে অভিযুক্ত করেন। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন এফ কেরি, জ্বালানিমন্ত্রী আর্নেস্ট মনিজ ও অর্থমন্ত্রী জ্যাক লিউয়ের জবাবের প্রতি সামান্যই আগ্রহ দেখান।

কেরি পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির সদস্যদের প্রতি অধৈর্য হয়ে পড়েন বলে মনে হয়। তিনি বলেন, সমালোচকরা চুক্তিটি বা এটি প্রত্যাখ্যান করার সম্ভাব্য পরিণতি বুঝতে পারছেন না। তিনি নিজেও এক সময় ঐ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ঐ কমিটির চেয়ারম্যান বব কুকার (রিপাবলিকান) বলেন, আপনারা প্রতারিত হয়েছেন বলে আমার মনে হয়। তিনি বলেন, ইরান এক দুষ্ট দেশ হিসেবে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার শৃঙ্খলে আবদ্ধ, কিন্তু এটি এখন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে এক অপ্রত্যাশিত সুযোগ পেয়ে এর পরমাণু কর্মসূচীকে এক ‘শিল্প শক্তি’তে উন্নীত করতে পারবে। অন্যরা ঐ চুক্তির শর্তগুলোকে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেন। তারা বলেন, কেরির নেতৃত্বাধীন মার্কিন আলোচকদের ধাপ্পা দেয়া হয়েছে। সিনেটর মার্কো রুরিও বলেন, এটি এমন এক চুক্তি যেটি প্রেসিডেন্ট ওবামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টিকে থাকবে বলে নিশ্চয়তা নেই। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট চুক্তিটি পাল্টে দেবেন বলে রুরিও আশা ব্যক্ত করেন। রুরিও আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন লাভের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কেরি আরও ভাল চুক্তি করা যেত এমন ধারণাকে ‘উদ্ভট কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বহুপক্ষীয় চুক্তি থেকে সরে যেত, তা হলে সে একা হয়ে পড়ত। সে পাঁচটি বিশ্ব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ঐ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছিল। কেরি বলেন, আমাদের সঙ্গে আমাদের অংশীদাররা আলোচনা থেকে সরে যেত না। আমরা এ সমস্যা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান করার সর্বোত্তম সুযোগ হারাতাম। গত সপ্তাহে ইরান ও বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত করা ঐতিহাসিক চুক্তিটির ভাগ্য অনিশ্চিত। এতে তেহরানকে এর সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুতের বেশিরভাগ সরিয়ে ফেলতে, এর পরমাণু অবকাঠামোর অনেকাংশ গুটিয়ে ফেলতে এবং পরমাণু স্থাপনাগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন চালাতে দিতে বলা হয়Ñ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে ত্রাণ পেতে ইরানকে সব কিছুই করতে হবে।

চুক্তির বিরোধী রিপাবলিকানরা এটিকে অনুমোদিত হতে না দিতে চাইলে তাদের জন্য কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দু-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হবে। এতে তারা ওবামার ভেটো ক্ষমতাকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারবেন। রিপাবলিকান সমালোচকরা সেই ভেটো বাধা অতিক্রম করতে পারবেন কিনা স্পষ্ট নয়। কিন্তু যদি তারা সফল হন, তা হলে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। আর যে চুক্তিটিকে ওবামা তার পররাষ্ট্র নীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে গণ্য করছেন, তা সম্ভবত ভেঙ্গে পড়বে। চুক্তিটি ইরানেও অনুরূপ বিরোধিতার মুখে পড়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি কট্টরপন্থীদের সমালোচনা মোকাবেলা করছেন। তিনি চুক্তিটিকে তার দেশের জন্য এক মূল্যবান পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এটি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের সমস্যা জর্জরিত অর্থনীতির উন্নতির দুয়ার আবার খুলে দেবে। তিনি জাতির উদ্দেশে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেন, এটি ইতিহাসের এক নতুন পৃষ্ঠা।