২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইসল্যান্ড সবচেয়ে শান্তির দেশ, বিপজ্জনক সিরিয়া

  • বিশ্বশান্তি ও সহিংসতার সূচক

গৃহযুদ্ধ ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সিরিয়া, আর ‘শান্তির দেশ’ আইসল্যান্ড। সম্প্রতি বিভিন্ন নতুন পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তৈরি ‘বিশ্বশান্তি ও সহিংসতার’ সূচকে এ চিত্র উঠে এসেছে। খবর ইন্ডিপেনডেন্টের।

এই সূচকে ২০০৮ সালে বিশ্বের ১৬২টি দেশের মধ্যে ৮৮তম শান্তিপূর্ণ দেশ হয়েছিল সিরিয়া। কিন্তু কয়েক বছরের ধ্বংসাত্মক গৃহযুদ্ধ ও যুদ্ধকবলিত এলাকাগুলোতে আইএসের উত্থান মিলিয়ে তালিকার একেবারে তলায় চলে এসেছে সিরিয়া। আলাদা আলাদা ২৩টি পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ইকোনোমিকস এ্যান্ড পিস ইনস্টিটিউট এ সূচক (গ্লোবাল পিস ইনডেক্স-জিপিআই) তৈরি করেছে। পরিসংখ্যানগুলোর মধ্যে খুনের হার, অপরাধপ্রবণতা, সন্ত্রাস ও সামরিক ব্যয়ের তথ্যও রয়েছে।

বছরভিত্তিক জিপিআই সূচকের এটি নবম সংস্করণ। এই সূচকে ক্ষুদ্র নর্ডিক দেশ আইসল্যান্ড সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার উচ্চমান, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোন বিবাদে না জড়ানো ও নিম্ন সামরিক ব্যয় দেশটিকে এমন মর্যাদাশীল অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জিপিআই স্কোরের ক্ষেত্রে যে দেশ যত কম স্কোর করেছে, সেই দেশ তত শান্তিপূর্ণ। বিপরীতে যে দেশের স্কোর সবচেয়ে বেশি, সেই দেশ সবচেয়ে বেশি সহিংসতাপূর্ণ।

এ বছরের সংস্করণে বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সিরিয়ার স্কোর সবচেয়ে বেশি আর আইসল্যান্ডের স্কোর সবচেয়ে কম হয়েছে। আইসল্যান্ড বিশ্বের সেই বিরল দেশগুলোর একটি যার সদা প্রস্তুত কোন সেনাবাহিনী নেই। কোস্ট গার্ড ও দেশের জলভাগ ও আকাশপথ পাহারা দেয়ার জন্য কয়েকটি জাহাজ- এই হলো দেশটির সামরিক বাহিনী। এই দেশটিই আবার ন্যাটো নিরাপত্তা জোটের সদস্য।

বার্ষিক জিডিপির মাত্র দশমিক ১৩ শতাংশ সামরিক বাহিনীর পেছনে ব্যয় করে দেশটি। অপরদিকে যুক্তরাজ্য ব্যয় করে বার্ষিক জিডিপির দুই দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র চার দশমিক ৩৫ শতাংশ।

তালিকায় যুক্তরাজ্য ৩৯তম অবস্থানে আছে। অপরাধপ্রবণতা, সন্ত্রাসী হামলার হুমকি ও সামরিক ব্যয়বহুলতার কারণে দেশটি তার ইউরোপীয় প্রতিবেশীদের থেকে পিছিয়ে পড়েছে। খুন, অস্ত্র রফতানি, প্রতিবেশীদের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার নিম্নমাত্রা আইসল্যান্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে এক নম্বর বানিয়েছে। আইসল্যান্ডের পরই দ্বিতীয় শান্তিপূর্ণ দেশ হয়েছে ডেনমার্ক আর তৃতীয় অস্ট্রিয়া। এরপর যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও চেক রিপাবলিক শীর্ষ দশের পরবর্তী দেশ। প্রতিবেশীদের তুলনায় সুইডেন ও নরওয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছে। এই দুটি দেশ তালিকার ১৩ ও ১৮তম অবস্থানে আছে। প্রতিবেশীদের তুলনায় অপরাধপ্রবণতা কিছুটা বেশি ও অন্যতম বড় অস্ত্র রফতানিকারক দেশ হওয়ায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে দেশ দুটি। বিশ্বব্যাপী সুইডেনের শান্তিপূর্ণ ভাবমূর্তি থাকলেও দেশটি বিশ্বের ১২তম অস্ত্র রফতানিকারক দেশ।

এর বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ সবচেয়ে বেশি স্কোর করে তালিকার সবচেয়ে নিচের ১০টি অবস্থান দখল করেছে। এখানে সিরিয়ার পর দ্বিতীয় বিপজ্জনক দেশ হয়েছে ইরাক আর তারপর আফগানিস্তান। এরপর যথাক্রমে আছে দক্ষিণ সুদান, মধ্য আফ্রিকান রিপাবলিক, সোমালিয়া, সুদান, ডেমক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া, নাইজিরিয়া ইত্যাদি দেশ।