২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ‘সুখ চান্দের মোড়’

  • তৃতীয় মঞ্চায়ন আজ

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ কিচ্ছা কাহিনী প্রযোজিত ‘সুখ চান্দের মোড়’ নাটকের তৃতীয় প্রদর্শনী আজ। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশলার প্রধান মিলনায়তনে নাটকটির আজ তৃতীয় মঞ্চায়ন হবে। এর আগে দুটি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে দলটি। এরই মধ্যে নাটকের নির্মাণের আঙ্গিকগত বৈশিষ্ট্যের কারণে নাটকটি ঢাকার মঞ্চে আলোচনায় এসেছে। আসাদুজ্জামান দুলাল রচিত নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন মোঃ জাসিম উদ্দিন। নাটকের অভিনয় শিল্পীরা হলেন মোঃ নোমান, সুরেশ চন্দ্র দাস খোকন, মো. শামীম মিয়া, তানভীর আহমেদ, মোহাম্মদ জাভেদ আকাশ, মোঃ জান্নাতুন আদনান অভি, শুভজিৎ কুমার পাল, কাকন চৌধুরী, অমিতাভ রাজীব, মোঃ মাহবুবুর রহমান, পংকজ দাস নিরব প্রমুখ। এছাড়া নাটকের পোশাক ও শরীর অঙ্কনে রয়েছেন এনামতারা সাকী, প্রপস ও সেট ফজলে রাব্বি সুকর্নো, আলোক পরিকল্পনা শওকত হোসেন সজীব, আলোকচিত্র সুজন মাহাবুব, মুদ্রণ অলঙ্করণ মোঃ জান্নাতুন আদনান অভি, টিকেট ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন শরীফ নাসরুল্লাহ। শ্রমজীবী মানুষ শত শোষণ বঞ্চনার মাঝেও জীবনের হাস্যরস বিদ্যমান সেটাই তুলে ধরা হয়েছে নাটকে। পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে আদর্শিক বিষয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও যুক্ত করা হয়েছে নাটকের গল্পে। তবে দেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য আঙ্গিক সংযাত্রার শিল্পরূপ এ নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট। বিশেষ করে অভিনয়শিল্পীদের শরীর অঙ্কনের মাধ্যমে এ নাট্য শিল্পপ্রযোজনার গুণগত মান সমৃদ্ধ হয়েছে। নাটকের কাহিনীতে দেখা যাবে গ্রামের বড় রাস্তার সঙ্গে পিচঢালা সংযোগ সড়ক নির্মাণ হচ্ছে সুখ চান্দের মোড় থেকে। এ নিয়ে সবাই ব্যস্ত। কামলা, কামলার দালাল, রাজমিস্ত্রি, ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার এমনকি রাজনীতিবিদরা ও এই ব্যস্ততায় যুক্ত। অনেক আশা-আকাঙ্খা আর সুখের সম্ভাবনা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে এই রাস্তা। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও যুক্ত করা হয় এই রাস্তার সঙ্গে। কিন্তু সত্যিই কি সুখ আর সম্ভাবনার প্রতীক এই রাস্তা? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি যুক্ত হচ্ছ এই নির্মিতব্য অবকাঠামোর সঙ্গে! নাকি কামলা থেকে রাজনীতিবিদ পর্যন্ত সুখ সন্ধানী মানুষের পারস্পরিক শোষণের পর্যায়ক্রমিক কাঠামো পোক্ত হচ্ছে এই কর্মযজ্ঞে! এমনি গোলক ধাঁধার আবর্তেও কেউ না কেউ থাকে যে পরিচ্ছন্ন স্বপ্নের ক্যানভাসে সুন্দর স্বদেশের স্বপ্ন দেখে। সে হলো কবি কাশেম গণি। যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে সে প্রতিরোধও গড়ে তোলে শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে। আপাত দৃষ্টিতে এই প্রতিরোধ ব্যর্থ হয় তবে কাশেম গণির এই প্রতিরোধ আমাদের সচেতনতার দুয়ারে যে করাঘাত করে যায় তাতেই এর সার্থকতা। প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন ‘সুখ চান্দের মোড়’ নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। এরপর দিন নাটকটি দ্বিতীয় মঞ্চায়ন হয়।