১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৫০ বারের মতো মঞ্চে অভিনয় করছি আজ ॥ জাভেদ আকাশ

জাভেদ আকাশ। এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় এবং মেধাবী মঞ্চকর্মী। টিভি নাটক, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র এবং চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন। সম্প্রতি ঢাকায় তার অভিনীত দুটি নাটক নিয়মিত মঞ্চস্থ হচ্ছে। এর মধ্যে ‘সুখ চান্দের মোড়’ অন্যতম। আজ এ নাটকের তৃতীয় প্রদর্শনী। এ নাটকে অভিনয় এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়।

আপনার অভিনয় জীবনের শুরুর দিকটা জানতে চাই।

জাভেদ আকাশ : অভিনয়ের ইচ্ছাটা আসলে ছোটবেলা থেকেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম। ঢাকার মঞ্চে ২০০৫ সালে দেশ নাট্য সংসদের একটি নাট্য কর্মশালার অংশ নেয়ার মাধ্যমে এ অঙ্গনে যুক্ত হই। এরপর বেশ কয়েকটি থিয়েটারের সঙ্গে কাজ করেছি। এখনও করছি।

এ পর্যন্ত কতগুলো মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছেন?

জাভেদ আকাশ : আমি এ পর্যন্ত ১৬টি মঞ্চ নাটকের মোট ৪৯টি মঞ্চায়নে অংশ নিয়েছি। আজ ২৫ জুলাই ‘সুখ চান্দের মোড়’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে আমার অভিনয়ের ৫০তম শো পূর্ণ হবে।

কতগুলো নাটকে নির্দেশনা দিয়েছেন?

জাভেদ আকাশ : নাটক নির্দেশনা দেয়ার সাহস পাই না। নির্দেশক হিসেবে যতটুকু ধৈর্য, মেধা, গুণ, দক্ষতা, বিচক্ষণতা প্রয়োজন হয় তা আমি অর্জন করতে পারিনি। তবে তিনটি নাটকে সহকারী নির্দেশক হিসেবে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল।

কতগুলো টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন?

জাভেদ আকাশ : ২৫টির মতো খ-নাটকে অভিনয় করেছি। এছাড়া দুটি ধারাবাহিক নাটক, দুটি বিজ্ঞাপনচিত্র এবং চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি।

সাম্প্রতিককালে আপনার অভিনীত বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটক প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে আপনার অভিনীত চরিত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে আপনার অনুভূতি কী?

জাভেদ আকাশ : অনুভূতি অবশ্যই আনন্দের। আমার সব চরিত্রই যে প্রশংসিত হয়েছে তা নয়। তবে কিছু চরিত্রে কাজ করে আমি সত্যিই অভিভূত, তার পুরো কৃতিত্ব আমার নাটকের নির্দেশক এবং দর্শকদের। কারণ নির্দেশক আমাকে তৈরি না করলে এবং দর্শক আমায় গ্রহণ না করলে হয়ত চরিত্রগুলো আলোচিত হতো না। বিশেষ করে ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল নাটকের ক্ষ্যাপা পাগলা, বাসন নাটকের আশেক, উয়ারী বটেশ্বর নাটকের কথক, যুদ্ধ পূরাণের রহিম চাচা আমার অভিনয় জীবনের অন্যতম চরিত্র। মঞ্চে আমার প্রথম নেগেটিভ চরিত্র ঢাকা মৌলিক নাট্য দলের নাটক ‘অংকুর’ নাটকের হেদায়ত উল্লাহ। আমি আমার এই নাটকের নির্দেশকের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।

‘সুখ চান্দের মোড়’ নাটকে কাশেম গনি চরিত্র নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?

জাভেদ আকাশ : ‘সুখ চান্দের মোড়’ একটি ভিন্ন ধরনের নাটক। খুব সম্ভবত বাংলাদেশে এই প্রথম সম্পূর্ণ বডি পেইন্টিং অর্থাৎ সংযাত্রার আঙ্গিকে নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছে। নাটকে ১১টি চরিত্রের মধ্যে ১০টিই কমেডি। একটি মাত্র চরিত্র কাশেম গনি, যে সব চরিত্রের উল্টোদিকে চলে। এতে করে নাটকে কিছু কিছু জায়গায় অসঙ্গতি আছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। সেজন্য নির্দেশক কাশেম গনির চরিত্রে এবার নতুন কিছু সংযোজন করেছেন। নির্দেশকের ইচ্ছা এবং দর্শকের চাহিদামাফিক চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করছি।

বিভিন্ন নাটকের দলে আপনাকে অভিনয় করতে দেখা যায়। এর কারণ কি আপনার ভাল অভিনয় নাকি দলগুলোর কর্মী সঙ্কট?

জাভেদ আকাশ : আমি মঞ্চে চরিত্রকে ধারণ করার চেষ্টা করি। তবে কোন কোন অভিনেতার অভিনয়ের মান দেখে নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়। এছাড়া এ কথা সত্য যে, কর্মী সঙ্কটের কারণে সহযোগিতা করতেই বিভিন্ন দলে কাজ করি।

অভিনয় নাকি নির্দেশনা- কোন্টা এনজয় করেন?

জাভেদ আকাশ : অবশ্যই অভিনয়টাকে এনজয় করি। নির্দেশনার কাজটি আমার কাছে দুরূহ মনে হয়।

ভাল অভিনেতা বা শিল্পী হওয়ার জন্য কী গুণ থাকা প্রয়োজন?

জাভেদ আকাশ : প্রথমত একজন শিল্পীকে সৎ হতে হবে। অবজারভেশন পাওয়ারটাকে কাজে লাগাতে হবে। একজন অভিনেতার সব ধরনের জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। অভিনয়ের প্রতি যতœশীল হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।

অভিনয় নিয়ে সামনের পরিকল্পনা কী?

জাভেদ আকাশ : সুনির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই। তবে আমি অভিনয়কে ভালবাসি। বাকি জীবনটাও অভিনয় করে কাটাতে চাই।

থিয়েটার করে কী লাভ হলো আপনার? জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কী কী?

জাভেদ আকাশ : প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি মেলানো মুশকিল। তবে ভাল মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা আমি পেয়েছি থিয়েটার করতে এসে। থিয়েটার না করলে হয়ত এই বোধও কাজ করত না। এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। -সাজু আহমেদ