১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিরাট কোহলির চ্যালেঞ্জ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এ্যাডিলেডে মহেন্দ্র সিং ধোনির ‘স্ট্যান্ডবাই’ অধিনায়ক ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সফরে ‘ফুলটাইম’ ক্যাপ্টেন্সি করেছেন কেবল সিডনির শেষ টেস্টে। বাংলাদেশে একমাত্র টেস্টটি ভেস্তে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। সে অর্থে সাদা পোশাকে ‘অধিনায়ক’ কোহলির আসল চ্যালেঞ্জটা শুরু হচ্ছে শ্রীলঙ্কা সফর দিয়ে। ভবিষ্যত পরিকল্পনা মাথায় রেখে দলেও এসেছে পরিবর্তন। উইকেটের পেছনে ধোনির পরিবর্তে ঋদ্ধিমান সাহা, স্পিনে অভিজ্ঞ হরভজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন অমিত মিশ্র। সব মিলিয়ে লঙ্কা সফরটা ক্রিকেট মোড়লদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের। দুই দিন আগে দল ঘোষণার পর সেটি স্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাতিল। আগামী মাসে তিন ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা যাবে কোহলির দল, প্রথম টেস্ট ১২ আগস্ট থেকে।

দল ঘোষণার পর পাতিলের প্রথম বক্তব্যÑ ‘কোন দলে অধিনায়কের বদলের সঙ্গে সঙ্গে কম্বিনেশনেও বদল ঘটে। এটা ক্রিকেটের চিরায়ত নিয়ম। কারণ সবার চিন্তা-চেতনা একই রকম নয়। শ্রীলঙ্কা সফরের দলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরির্তন এসেছে। সব মিলিয়ে এটা কোহলির জন্য নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন চ্যালেঞ্জ।’ পরিবর্তনের ধারায় সেই এ্যাডিলেট টেস্টে অভিজ্ঞ আশ্বিনের জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন করণ শর্মা। সিডনিতে শিখর ধাওয়ান-চেতেশ্বর পূজারার আগে বিবেচিত হয়েছিলেন রোহিত শর্মা-কেএল রাহুলরা। ফতুল্লায় মহাপ্রত্যাবর্তন হরভজন সিংয়ের। এবার শ্রীলঙ্কা সফরে মিশ্রর জায়গা পাওয়াটা সেই ধারারই অংশ। ‘মিশ্র সব সময় স্কিমের ভেতরে ছিল। আমাদের কাজ সেরা চৌদ্দ জনকে অধিনায়কের কাছে পৌঁছে দেয়া। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা লেগস্পিনের বিপক্ষে কেমন, সেটি মাথায় রেখেই ওকে ফেরানো হয়েছে’Ñ আরও যোগ করেন নির্বাচক।

কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের কাছে ঘরের মাটিতে ২-১ এ টেস্ট সিরিজ হারে শ্রীলঙ্কা। সেখানে দূরন্ত বোলিং করে সিরিজসেরা হন পাকি লেগস্পিনার ইয়াসির শাহ। পাতিল মূলত সেদিকেই ইঙ্গিত করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে তুলে ধরে। তবে মিশ্র নিজে তা মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য অন্য কারও পারফর্মেন্স দেখার (ইয়াসিরকে ইঙ্গিত করে) প্রয়োজন নেই। ভাল বোলিং করার বিষয়ে আমি সবসময়ই আত্মবিশ্বাসী। ফর্মে আছি, ভাল খেলছি। যেটা প্রয়োজন সেটা হলো শ্রীলঙ্কান কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া।’ প্রজ্ঞান ওঝাকে বাইরে রেখে মিশ্রকে সুযোগ করে দেয়ার পেছনে অধিনায়কের যে ভূমিকা রয়েছে সেটি ফুটে উঠেছে প্রধান নির্বাচকের বক্তব্যে। সেখানেও এসেছে কোহলির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গ।

পাতিল আরও বলেন, ‘আমাদের দলে অধিনায়কের মত দেয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তাতে কারও আপত্তি নেই। আমরা চেষ্টা করি সঠিক ভারসাম্য রাখতে। কারণ মাঠে চূড়ান্ত খেলাটা অধিনায়ককেই খেলতে হয়। লঙ্কান কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে মনে হয়েছে, এটাই আমাদের সেরা বোলিং আক্রমণ। আশা করছি সতীর্থদের নিয়ে কোহলি এই চ্যালেঞ্জে সফল হবে।’ কোহলি সুপার ব্যাটসম্যান। তাকে ভাবা হয় আগামীর শচীন টেন্ডুলকর হিসেবে। ব্যাট হাতে ইতোমধ্যে সেটি তিনি প্রমাণ করেছেন। টেস্ট-ওয়ানডে সকল ভার্সনেই দলের ব্যাটিংয়েল মূল ভরসা তিনি। নেতৃত্বে অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক। এজন্য সৌরভ গাঙ্গুলির মতো গ্রেটদেরও প্রিয় তিনি। লঙ্কা সফরে সিরিজের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটে পূর্ণাঙ্গ কোহলি যুগ।