১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জিতলেই শিরোপার কাছাকাছি জামাল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ খেলা হবে ২২ রাউন্ডে মোট ১১০টি। ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে ১৭ রাউন্ডের ৮৫ ম্যাচ। আরও বাকি আছে পাঁচ রাউন্ডের ২৫ ম্যাচ। সেই হিসাবে ‘মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’ ফুটবলের পর্দা নামার সময় ঘনিয়ে আসতে আর বেশি বাকি নেই। শুক্রবার ছিল লীগের বিরতি। আজ শনিবার ফের গড়াচ্ছে লীগের অষ্টাদশ রাউন্ডের খেলা। আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দু’টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ম্যাচে বিকেল সোয়া চারটায় ‘অল রেডস’ খ্যাত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের মুখোমুখি হবে ‘জায়ান্ট কিলার’, ‘আইলো’ এবং ‘ডাইলপট্টি’ রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি। আর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দ্বিতীয় ম্যাচে ‘বেঙ্গল ইয়োলোস’ খ্যাত শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেডকে মোকাবেলা করবে ‘দ্য অরেঞ্জ ব্রিগেড’ খ্যাত ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড। প্রথম ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ কিঞ্চিত কম। কেননা, পয়েন্ট টেবিলে মুক্তিযোদ্ধা-রহমতগঞ্জের এখন যা অবস্থা, তাতে করে উভয় দলেরই লীগের শিরোপা জেতার আশা-সম্ভাবনা একেবারেই নেই। সেক্ষেত্রে জামাল-ব্রাদার্স দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে আগ্রহ জাগানিয়া। কেননা, এ ম্যাচে জামাল হেরে গেলে তাদের নিচে থাকা চার দলÑ মোহামেডান, ঢাকা আবাহনী, ব্রাদার্স ও শেখ রাসেলের শিরোপা জয়ের আশা কিছুটা হলেও বেঁচে থাকবে। আর জামাল জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে ৪২ (এখন তাদের পয়েন্ট ১৬ ম্যাচে ৩৯)। জামালের এরপর বাকি থাকবে আরও তিন ম্যাচ। প্রতিপক্ষ হলোÑ মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা আবাহনী। ওই তিন ম্যাচে যদি জামাল হেরে যায় এবং মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনী যদি তাদের বাকি সব ম্যাচে জেতে, তাহলে তাদের জামালের চেয়ে এক পয়েন্ট (৪৩) বেশি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। মোহামেডান-আবাহনীর চেয়েও এক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ‘বেঙ্গল ব্লুজ’ খ্যাত শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের। কেননা, তারা খেলেছে এক ম্যাচ কম (১৫ ম্যাচে পয়েন্ট ২৯)। সেক্ষেত্রে বাকি পাঁচ ম্যাচের সবটিতেই জিততে পারলে তাদের পয়েন্ট হবে সবার চেয়ে বেশি (৪৪ পয়েন্ট)। সেক্ষেত্রে গোপীবাগের ক্লাব ব্রাদার্সের অবশ্য লীগের সেরা হওয়ার সুযোগ একেবারেই কম। তাদের সংগ্রহ ১৬ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট। বাকি চার ম্যাচে পূর্ণ ১২ পয়েন্ট পেলেও তাদের পয়েন্ট ৪১-এর বেশি হবে না। তবে আজকের ম্যাচে তারা যদি জামালের কাছে হেরে যায়, তাহলে লীগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা একেবারেই ছাড়তে হবে তাদের।

মোটকথাÑ গাণিতিক হিসেবে এখনও মোহামেডান, ঢাকা আবাহনী ও শেখ রাসেলেরও সুযোগ আছে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তবে বাস্তবতা হলো সেটা প্রায় অসম্ভব। তাই আজকের ম্যাচে ব্রাদার্সকে হারালে জামাল শিরোপা উৎসবের প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে, এটা বলা যায়।

অথচ গত মৌসুমে (২০১৩-১৪) লীগের শিরোপা জিততে জামালকে এতটা অপেক্ষা আর সমীকরণের চক্করে পড়তে হয়নি। ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই। নিজেদের শেষ দুই ম্যাচ খেলার আগেই লীগ শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলেছিল শেখ জামাল। ওই দিন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একমাত্র খেলায় তারা ১-০ গোলে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকে হারিয়ে লীগ শিরোপা নিশ্চিত করে (হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়েডসন এ্যানসেলমে দলের পক্ষে একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন, পেশাদার লীগের সপ্তম আসরে সেটা ছিল জামালের দ্বিতীয় শিরোপা)। সেবার লীগ হয়েছিল তিন পর্বের। ২৫ ম্যাচে জামালের ওটা ছিল সপ্তদশ জয়, পয়েন্ট ৫৮। নিকটতম দল আবাহনীর থেকে (সমান ম্যাচে আবাহনীর ওটা ছিল তৃতীয় হার) ১২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে জামাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। লীগের তখনও ১২টি ম্যাচ বাকি ছিল! এমন ঘটনা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসে এর আগে কখনও ঘটেনি। মজার ব্যাপার, সেবারের লীগে মাত্র একটি ম্যাচেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছিল জামাল, সেটি ব্রাদার্সের বিপক্ষে। আজ সেই ব্রাদার্সের বিপক্ষেই খেলতে নামছে জোসেফ আফুসির শিষ্যরা। আরও মজার ব্যাপারÑ চলমান লীগে ব্রাদার্সকে প্রথম পর্বের মোকাবেলায় হারাতে পারেনি জামাল! ৫ মে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। আজকের ম্যাচে সৈয়দ নঈমউদ্দিনের শিষ্যরা যদি জামালকে হারিয়ে অঘটন ঘটায়, তাহলে আশ্চর্যের কিছু নেই। কেননা, চলমান লীগে তারা পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের চেয়ে ওপরে থাকা দলগুলোকে একাধিকবার রুখে দেয়া বা হারানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছে। হারিয়েছে মোহামেডানকে (১-০), ড্র করেছে মোহামেডান (০-০), ঢাকা আবাহনী (০-০) এবং শেখ জামালের (০-০) সঙ্গে। কাজেই তাদের সমীহ না করে কোন উপায় নেই শেখ জামালের।

জামাল-ব্রাদার্স ম্যাচে লড়াই হবে ওয়েডসন এ্যানসেলমে এবং অগাস্টিন ওয়ালসনেরও। দুইজনেই ফরোয়ার্ড, দুইজনেই হাইতিয়ান। সর্বাধিক গোলদাতা হিসেবে লীগের অনেকটা সময় এগিয়ে ছিলেন অগাস্টিন (১৪ গোল)। পরে তাকে ছাড়িয়ে যান ওয়েডসন (১৬)। তাদের পেছনেই আছেন জামালের সুযোগ সন্ধানী নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকা ডার্র্লিটন (১৩)। যদিও এমেকার গোল হতে পারত ১৫টি। দুটি ভিন্ন খেলায় রেফারি বিস্ময়করভাবে তার করা দুটি গোল দিয়ে দিয়েছেন অন্যদের!

এদিকে মুক্তিযোদ্ধাকে প্রথম পর্বের সাক্ষাতে ১-১ গোলে রুখে দেয়া রহমতগঞ্জ আজও চাইবে সে রকমই কিছু একটা করতে। রেলিগেশনে পড়ার আশঙ্কা নেই মুক্তির, আবার লীগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ারও সুযোগ নেই; তাই মুক্তি শিবির নিশ্চিতভাবেই চাইবে একটা জয়। দ্বিতীয় লেগ শুরুর পর এ পর্যন্ত টানা ছয় ম্যাচ খেলে একটিও জয় পায়নি তারা! এর মধ্যে হেরেছে তিনটিতে, ড্র-ও করেছে তিনটিতে। কাজেই রহমতগঞ্জকে হারিয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফিরতে চাইবে তারা। ১১ গোল করে চলমান লীগে দেশীয় ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করা মুক্তির অধিনায়ক-ফরোয়ার্ড এনামুল হক নিশ্চিতভাবেই চাইবেন আরও কিছু গোল করে ওয়েডসনদের সঙ্গে ব্যবধানটা কমিয়ে আনতে। পারবেন কি তিনি?