২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তিনি ছিলেন নির্মোহ বেবী মওদুদের মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণসভা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ‘স্বার্থান্ধ এ যুগে লেখক-সাংবাদিক বেবী মওদুদ ছিলেন একেবারেই নির্মোহ। দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্র বলয়ের খুব কাছাকাছি থেকেও তাঁর কোন সুযোগ না নেয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তিনি। খুব সাধারণ, সরল ও নির্মোহ জীবনযাপন করতেন বেবী মওদুদ। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিক, কবি, লেখক ও সাবেক এমপি বেবী মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সাংবাদিক সমাজ’ ব্যানারে আয়োজিত স§রণ সভার প্রিয় ছাত্রী সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি বেবী মওদুদের স্মৃতি রক্ষায় স্থায়ী উদ্যোগ নেয়ারও আহ্বান জানান গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রতি। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বেবী মওদুদের বন্ধুত্ব, আত্মিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও উঠে আসে। আজ শনিবার বেবী মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দূরারোগ্য ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি গত বছর এই দিনে ইন্তেকাল করেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আরও বলেন, বেবী মওদুদ জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও মাথা উঁচু করে চলার চেষ্টা করেছেন। ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও বেবী মওদুদের ব্যক্তি জীবনে কোন ধরনের সুবিধা নেয়া ও প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটেনি। কখনও তিনি আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের জন্য উচ্চ পর্যায়ে কোন সুপারিশ নিয়ে যাননি। সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, বেবী মওদুদ তাঁর জীবনাচরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন মানুষকে কিভাবে ভালবাসতে হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বেবী মওদুদকে নিয়ে একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের প্রস্তাব করে বলেন, বেবী মওদুদের রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতন হলেও মেহনতি মানুষের প্রতি তাঁর ভালবাসা নিঃশেষ হওয়া তো দূরের কথা, বিন্দুমাত্রও হ্রাস পায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বেবী মওদুদ যা বলতেন স্পষ্ট করে বলতেন।

কলাম লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাংবাদিক বেবী মওদুদের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল একেবারেই অবিশ্বাস্য রকমের। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁর যে ভালবাসা, গভীর মমত্ব অবারিত ছিল তা বুঝেছি কাছ থেকে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সকালে বেবী মওদুদের স্মরণ সভায় আসার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হয়েও নিয়মিত রিক্সায় চলাচল করতেন বেবী মওদুদ। বেবী মওদুদের ছোট ভাই ডাঃ আবু রায়হান ও বড় ছেলে রবিউল হাসান অভি স্মৃতিচারণ করেন। মায়ের নামে সাংবাদিকদের জন্য একটি পুরস্কারের ব্যবস্থা করা এবং চালু হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে একটি বৃত্তিতে টাকার পরিমাণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান অভি। আবেগজড়িত কন্ঠে আজ মা বেবী মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাদ আছর ধানমন্ডির বাসভবনে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধও জানান তিনি।

সাংবাদিক ফরিদ হোসেনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কবি কাজী রোজী এমপি, সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ, প্রকাশক ওসমান গনি প্রমুখ। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, বেবী মওদুদের ছোট ছেলে শফিউল হাসান দীপ্তসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।