১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহী নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ বিলবোর্ড

  • শর্ত ভেঙ্গে রাজশাহী নগরীতে বসানো হচ্ছে অসংখ্য ইউনিপোল

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার আইল্যান্ডে কয়েক বছর আগেও যেখানে ছিল ছায়াদানকারী বৃক্ষ- এখন সেখানেই শর্ত ভেঙ্গে বসানো হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ইউনিপোল (বিলবোর্ড)। নগরীর সবেচেয়ে ব্যস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় এসব বিশাল আকৃতির ইউনিপোল বসানোর কারণে একদিকে যেমন সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে মৃত্যু ঝুঁকির কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। অপরিকল্পিতভাবে এসব বিলবোর্ড স্থাপনে ক্ষোভ বাড়ছে নগরবাসীর মধ্যেও।

জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ঢাকা ও চট্টগ্রামভিত্তিক ৬টি কোম্পানি অনেকটা গোপনে রাজশাহী নগরীর আইল্যান্ডে ইউনিপোল বসিয়ে যাচ্ছে।

রাসিক সূত্র জানায়, বরখাস্তকৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সময় ঢাকা ও চট্টগ্রামভিত্তিক ৬টি কোম্পানির সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ইউনিপোল স্থাপনের একটি চুক্তি হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য কাজ করার কথা ছিল কোম্পানিগুলোর। তবে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কোম্পানিগুলো অনেকটা গোপনে ইউনিপোলগুলো নগরীর বিভিন্ন সড়কে পুঁতে বেড়াচ্ছে। এতে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন জায়গায় ইউনিপোল বসানো নিয়ে নগরীর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কোম্পানিগুলো ইউনিপোল এমনভাগে স্থাপন করছে যে, ভার সইতে না পেরে যে কোন সময় উল্টে পড়বে। এতে প্রাণহানির শঙ্কাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত রাসিকের অর্থ ও সংস্থাপন স্থায়ী কমিটির সভায় ইউনিপোল স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় নগরীতে ৩০টি ইউনিপোল স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। তবে ওই সভায় সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় বাড়ানোর কথা বলে প্রতি বর্গফুট ১০০ টাকা হিসেবে ভাড়া আদায়েরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বরখাস্তকৃত সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সময়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ৬টি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক জানান, বরখাস্তকৃত মেয়র বুলবুলের সময়ে এ চুক্তি করা হয়েছিল এক বছরের জন্য। তবে চুক্তির শর্তে ভুল ছিল। এ ধরনের চুক্তিতে নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সে কারণে এ ধরনের চুক্তির মেয়াদ আর বেশি না বাড়ানোর জন্য মৌখিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী জানান, ৬টি কোম্পানির সঙ্গে গত অর্থবছরের জন্য শুধু চুক্তি হয়েছিল। পরে কাজের ওপর নির্ভর করে চুক্তির মেয়ার বাড়ানোর কথাও ছিল। ইতোমধ্যে চুক্তির সময় শেষ হয়ে গেছে। তবে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে রাসিকের নতুন কোা চুক্তি হয়নি। চুক্তির নিয়ম অমান্য করায় তাদের সঙ্গে রাসিক আর কোন চুক্তি করতে আগ্রহী নয়। চুক্তিতে যে পরিমাণে উচ্চতা, প্রস্থ ও গভীরে ইউনিপোল পোঁতার কথা ছিল তার কিছুই কোম্পানিগুলো মানেনি। এছাড়াও কোম্পানিগুলোর মধ্যে কথা ছিল যে, তারা যখন ইউনিপোলগুলো বসাবে তখন রাসিকের ইঞ্জিনিয়ারিং টিমকে সঙ্গে নিতে হবে। ওই টিম নগরীর স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কি সাইজের ইউনিপোল বসানো হবে তা সিদ্ধান্ত দেবে। কিন্তু কোম্পানিগুলো সেটাও মানেনি।

রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী আরও জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কোম্পানিগুলো ইউনিপোল বসানোর কাজ অব্যাহত রেখেছে। রাতের আঁধারে ইউনিপোলগুলো তারা বসিয়ে দ্রুত সরে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাসিকের সাধারণ সভায় বিষয়টি উত্থাপন হয়েছে। খুব দ্রুত এটি বন্ধে একটি সিদ্ধান্ত আসবে বলে তিনি মনে করেন।

এই মাত্রা পাওয়া