২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে অবৈধভাবে তৈরি হচ্ছে প্লাস্টিক গুটি ও পলিথিন

  • অজ্ঞাত কারণে মনিটরিং নেই

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না নিয়ে অবৈধভাবে প্লাস্টিক গুটি উৎপাদন, গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে জড়িত রয়েছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। নগরীর আনাচে কানাচে গড়ে ওঠা এ ধরনের প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্টমাত্রার পলিথিন তৈরি না করে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের জন্য অবৈধভাবে পাতলা পলিথিন তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৫৫ মাইগ্রেনের নিচে পলিথিন তৈরি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সুনির্দিষ্ট এবং লিখিত অভিযোগ ব্যতীত পরিবেশ অধিদফতর কোন ধরনের অভিযান পরিচালনা করে না। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কোন্দলের কারণে অনেক সময় অভিযোগ পরিবেশ অধিদফতরে জমা পড়ার পরই অভিযানে নামে দফতরের কর্মকর্তারা। প্রশ্ন উঠেছে, পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা করা হচ্ছে না।

জানা গেছে, রমজান আসার পরই সরকারী সকল দফতর অনেকটা চাঙ্গা অবস্থানে রয়েছে। উপযোগী প্রতিষ্ঠান গ্যাস, বিদ্যুত, ওয়াসা থেকে শুরু করে খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চলছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। অবৈধ অভিযান পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও টিম ভিন্ন ভিন্ন স্থানে রমজানের শুরু থেকে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। জেলা প্রশাসনের এ তিন ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সরকারী, আধা সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। নমুনা পরীক্ষার জন্য রয়েছে বিএসটিআই, গ্রেফতার ও সিলগালার জন্য রয়েছে পুলিশ প্রশাসন, ভেজাল খাদ্যের অভিযানে যোগ দেয় খাদ্য বিভাগ ও টিসিবির কর্মকর্তাগণ এবং পরিবেশ বিষয়ক অভিযানে রয়েছে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাগণ।

ভোক্তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রমজান এলেই শুরু হয় অভিযান। রমজান শেষ ‘যেন বাজারে ভেজালের নেই কোন রেশ’Ñ এমন স্লোগান কার্যকর হয় বছরের বাকি এগারো মাস। গত ১ জুলাই জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে এবং পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সংযুক্তা দাশগুপ্তার নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানাধীন ভলুয়ার দীঘির পাড় ও কোরবানিগঞ্জ এলাকায় পলিথিনবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে সতেরটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্লাস্টিক উৎপাদন, গুদামজাত ও বাজারজাতকরণের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযানে দুই লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায়সহ একটি রঙের কারখানার ম্যানেজারকে তিন মাসের কারাদ- দেয়া হয়েছে।

অবৈধ ব্যবসার কারণে মোবাইল টিম কর্তৃক সিলগালাকৃত ও দ-িত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ওই এলাকার খাজা প্লাস্টিক ফ্যাক্টরি, যমুনা প্লাস্টিক, সুজন প্লাস্টিক, তালুকদার প্লাস্টিক, আরাফাত এন্টারপ্রাইজ, খাজা প্লাস্টিক কারখানা ও আকতার প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিকে জরিমানা করা হয়। প্রত্যেক কারখানা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ অভিযানে আরও ৯টি কারখানাকে সিলগালা করা হয়েছে। এগুলো হলো দেলোয়ার প্লাস্টিক, মিজান প্লাস্টিক, ফারুক প্লাস্টিক, মহসিন প্লাস্টিক, নিজাম প্লাস্টিক কারখানা ও নামবিহীন চারটি কারখানাসহ ৯টি প্রতিষ্ঠান। অপর এক অভিযানে আলতাফ পেইন্ট নামের কারখানার ম্যানেজার রাশেদুল আলমকে তিন মাসের কারাদ- দেয়া হয়েছে। সে সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদ- করা হয়।

কারখানার মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিবেশ অধিদফতরে এসব কারখানা মালিক বার বার ধর্ণা দিয়েছে। কিন্তু ওই দফতরের অসাধু কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত উৎকোচ দাবির কারণে তারা পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই ব্যবসা শুরু করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি তাদেরকে সহায়তা করা হয় এবং বিনা উৎকোচে ছাড়পত্র নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া হয় সেক্ষেত্রে প্রত্যেক মালিকই সরকারী বিধি মোতাবেক ছাড়পত্র গ্রহণ করার জন্য তৈরি রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল টিমের নেতৃত্ব দানকারী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জনকণ্ঠকে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল অপরাধ ছিল, তারা ছাড়পত্র না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সিলগালাকৃত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই প্লাস্টিক গুটি তৈরি করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবেই ব্যবসা করতে পারেন। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনও তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে।