১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজশাহী নগরজুড়ে গ্যাসের ‘ক্ষত’

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কের এখন বেহাল দশা। গ্যাস ও পানি সংযোগের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দুই বছর ধরে যানবাহন চলাচলে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেড়েছে সীমাহীন জনদুর্ভোগ। দুই বছরের বেশি সময় ধরে যেন গ্যাসের ‘ক্ষত’ বয়ে বেড়াচ্ছেন নগরবাসী।

একদিকে সড়ক ও ড্রেন সংস্কারের নামে অপরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করায় নগরীজুড়ে কাদামাটিতে একাকার। অন্যদিকে সড়কের মাঝে মাঝে গ্যাসের জন্য খোড়া গর্তে আটকে আছে চলাচলের গতি। এরই মধ্যে চরম বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে নগরীর বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ড্রেনসমূহ পরিষ্কার না করায় স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বাসা বেঁধেছে মশার দল। এ অবস্থায় খোদ রাজশাহী নগরীর অভিজাত এলাকাতেও চলতে নাকে রুমাল দিতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। নগরীর অভ্যন্তরীণ ছোটবড় পথ রিকশা কিংবা অটোরিকশায় পাড়ি দেয়া দায় হয়ে গেছে। কোথাও ১০ হাত আবার কোথাও ৫ হাত দূরে দূরে গর্ত করে রাখা হয়েছে। অথচ সড়ক সংস্কার বাবদ গ্যাস ও পানির সংযোগ নেয়া প্রত্যেক গ্রাহক সিটি কর্পোরেশনকে রশিদের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছেন। সেই টাকা লুটপাট করায় এখন বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে সড়ক।

রাজশাহীর কয়েকটি সামাজিক সংগঠন ইতোমধ্যে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে কর্মসূচী পালন করে এলেও কাজের কাজ কিছুই করেনি নগর সেবা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। মাঝে মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কোন কোন স্থানে খোয়া সাজানো হলেও পিচ ফিনিশিং দেয়া হয়নি। এরইমধ্যে বর্ষায় সেগুলো উঠে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথ চলতে নগরবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জানা যায়, ২০১৩ সাল থেকে গ্যাস সংযোগের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২ কোটি টাকা আদায় করেছে রাসিক। ওয়াসার পানির লাইন দিতেও গ্রাহকদের রসিদ ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এভাবে সড়ক সংস্কারের টাকা লুটপাটের কারণে রাজশাহীর জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছছে। ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে নগরবাসীর মধ্যে। রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়। তবে কাজ শেষে সেই সড়ক মেরামতের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়বদ্ধ। সেই মতে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়। অথচ রাজশাহীতে গ্রাহকের সেই টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এ কারণে নগরবাসী দুই বছর ধরে অবিরাম গ্যাসের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন।

রাজশাহীর অপর সামাজিক সংগঠন ‘জনউদ্যোগ’ দীর্ঘদিন ধরে নগরবাসীর পক্ষে জোর দাবি করে এলেও রাস্তা মেরামত করতে পারছে না সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। ফলে সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে নগরজীবন। রাজশাহী নগরীতে বসবাসকারী এক কলেজ শিক্ষক কামরুজ্জামান মঞ্জুর বলেন, এখন শহরে রিকশায় চলাচল দায় হয়ে গেছে। রিকশা কিংবা অটোরিকশা চালকরা প্রতিনিয়ত পড়ছেন বিপাকে। রাস্তা খারাপের অজুহাতে বেশি ভাড়াও আদায় করছেন তারা। এদিকে রাজশাহী সিটি কর্র্পোরেশনের (রাসিক) ড্রেন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাসিক সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ মাঝপথে আটকে আছে। একাধিক ঠিকাদারের মাধ্যমে এই ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে রাসিক। এছাড়া কয়েকটি সড়ক চাল লেনে উন্নীতকরণের কাজেও চলছে গোজামিল।

এসব কাজ করতে গিয়ে পুরো নগরী এখন খানাখন্দে ভরে গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় বর্ষায় তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোন সড়কের ওপর মাটির স্তুপ, কোথাও কোথাও পুকুরের মতো গর্ত করে রাখা হয়েছে। এসব স্থানে বাসা বেঁধেছে মশার দল। আর শহরের নোংরা আবর্জনাও জমা হচ্ছে এসব গর্তে। ফলে ক্রমেই দুর্গন্ধ ছড়াছে। নগরীর উপশহরের প্রধান সড়কটি একই কারণে বন্ধ রয়েছে প্রায় দুই মাস ধরে। অন্য এলাকার একই দশা।

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাজশাহী সিটি কর্পোশেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আজিম বলেন, নগরীতে উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে কোন কোন এলাকায় নগরবাসী দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অচিরেই এসব সমস্যার স্থায়ী একটা সমাধান হবে।