২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খুলনা মহানগরীর রাস্তা-ড্রেনে আবর্জনার ছড়াছড়ি

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা মহানগরীর রাস্তাঘাটে ময়লা-অবর্জনার ছড়াছড়ি। ড্রেন-নর্দমাও আবর্জনায় ভরপুর। প্রতিদিন নগরীতে গড়ে ৫শ’ টন করে বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ৩শ’ টন অপরিকল্পিতভাবে অপসারণ করা হয়ে থাকে। বাকি প্রায় ২শ’ টন বর্জ্য নগরীর বিভিন্ন রাস্তায় ও ড্রেনে ফেলা হয়। বর্জ্য অপসারণে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় শহরের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রূপসা-ভৈরবের তীরে অবস্থিত খুলনা মহানগরীর (সিটি কর্পোরেশনের) আয়তন ৪৫.৬৫ বর্গ কিলোমিটার। ৩১টি ওয়ার্ডে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। বর্তমানে নগরীতে প্রতিদিন গড়ে ৫শ’ টন করে বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। ১৭টি এনজিও’র মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার বাড়ি থেকে গার্হস্থ্য বর্জ্য সংগ্রহ করে এনে সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ১ হাজার ২শ’ প্রাইমারি স্পটে রাখা হয়। সেখান থেকে ওই বর্জ্য ১২৫টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) নেয়া হয়। পরে এসটিএস-এ জমাকৃত বর্জ্য সিটি কর্পোরেশনের গার্বেজ বিভাগের কর্মীরা ট্রাকে করে বটিয়াঘাটা উপজেলার রাজবাঁধ এলাকার চূড়ান্ত পয়েন্টে অর্থাৎ টেনসিং গ্রাউন্ডে নিয়ে ফেলেন। বর্জ্য অপসারণ কাজের জন্য কেসিসি’র ৩৯টি যানবাহন ও স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক জনবল রয়েছে।

সূত্র জানায়, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে বর্জ্য ব্যস্থাপনায় আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। দৈনিক উৎপাদিত ৫শ’ টন বর্জ্যের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে অপসারণ করা হচ্ছে ৩শ’ টন। প্রতিদিন প্রায় ২শ’ টন করে বর্জ্য নগরীর বিভিন্ন রাস্তা ও ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ময়লা আবর্জনা থেকে উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। তাছাড়া সকালে লোকজন রাস্তায় বের হওয়ার আগে সেকেন্ডারি স্টেশন থেকে আবর্জনা অপসারণের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। পথচারীদের যাতায়াতের সময় প্রকাশ্যে এই আবর্জনা অপসারণের কাজ করা হয়। এদিকে বাড়ি বাড়ি থেকে অবর্জনা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও অভিযোগ রয়েছে। সকল এলাকা থেকে গার্হস্থ্য বর্জ্য নেয়া হয় না। যে সব বাড়ি থেকে গার্হস্থ্য বর্জ্য নেয়া হয় সেসব বাড়িতে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নিয়মিত যায় না। আবার এক এক দিন এক এক সময়ে তারা বর্জ্য নিতে আসে। এতে বর্জ্য নিয়ে ওই গৃহস্থদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ-জামান বলেন, বর্জ্য অপসারণে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই। ফলে এই খাতে কেসিসি লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও নগরবাসী তেমন কোন সুফল পাচ্ছে না। পিটিআই মোড়, নিরালা এলাকা, শান্তিধাম মোড়ে বাদশা মিয়া ক্লিনিকের সামনে, জিলা স্কুলের সামনে, কেডিএ এভিনিউ রোডের শেখপাড়াসহ নগরীর বহু স্থানে ময়লা-আবর্জনা স্তূপাকারে পড়ে থাকে। দুর্গন্ধে ওই সব জায়গা দিয়ে মানুষ হাঁটতে পারছে না। কেসিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ক্ষেত্রে অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।

কেসিসি’র কঞ্জারভেন্সি অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান জানান, প্রতিদিন নগরীতে ৫শ’ টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে অপসারণ করা হচ্ছে ৩শ’ টন। পরিচ্ছন্ন কাজে ৩৯টি গাড়ি ও ৫ শতাধিক জনবল নিয়োজিত রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে বর্জ্য ব্যবস্থানায় সদস্যা রয়েছে শিকার করে তিনি বলেন, এটা কাটিয়ে ওঠার জন্য নগরীতে আধুনিক পদ্ধতিতে আটটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪টির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৪টি জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় আটকে আছে। সব নির্মাণ কাজ শেষ হলে সমস্যা কেটে যাবে বলে তিনি জানান।