২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদ ॥ আড্ডা আর ঘুমিয়ে কাটে সময়

শিশুদের নিয়ে আড্ডা করা। দিনভর কমিউনিটি লোকদের দেখা জানা আপ্যায়ন আর আতিথেয়তায় কেটেছে আমেরিকার লজিয়ানায় বসবাসকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রবাসীদের। ফাঁকে ফাঁকে দেশে অবস্থানকারীদের খোঁজখবর নেয়া থেকেও পিছিয়ে ছিল না তারা। আমেরিকার লুজিয়ানায় বসবাসকারী বোসার সিটিতে বসবাসকারী বেশির ভাগই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। জ্বালানি তেল ও শপিং কমপ্লেক্সের পরিচালক মনির হোসেন হিটু জনকণ্ঠকে জানান, ৯৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে পাড়ি জমান সুদূর আমেরিকায়। এরপর ১২টি ঈদ সেখানেই করেছেন। বর্তমানে সেখানে স্থায়ী। বাড়ি ও দোকান কিনে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। ঈদের দিন কেমন কাটিয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, আগের দিন রাতে ঘোষণা দেয়া হয় সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত। লুজিয়ানা বোসার সিটি মসজিদে ৪-৫শ’ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করে। মেয়েরাও ঈদের জামাতে অংশ নেয়। এরপর ঐ সিটিতে বসবাসকারী একে অপরকে দেশী খাবার পরিবেশন করে। দিনভর কমিউিনিটির লোকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একে অপরের বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। বিকেলে বোসার সিটি শিশুপার্কে শিশুদের বর্ণিল আড্ডা জমে। জমকালো এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী অংশগ্রহণ করে। সেখানে নানা ধরনের দেশী খাবারের আয়োজন করা হয়। নেচে গেয়ে শিশুরা উৎসবমুখর করে তোলে বোসার শিশুপার্ক। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী তাজুল ইসলাম বাবু বলেন, প্রবাস জীবনে ঈদের এমন অনুষ্ঠান আমি কখনো দেখিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দারুণ মজা করেছি। সেসঙ্গে দেশের স্বজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে। সুন্দর ও পরিপাটি অনুষ্ঠানের জন্য বোসার সিটির কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভাগ্য ফেরাতে দেশের বহু লোক মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিপুলসংখ্যক লোক প্রবাসী জীবনযাপন করছে।

ঈদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে কেউ কেউ এলেও বেশির ভাগই ঈদের সময়টুকু বিদেশেই অবস্থান করে। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে। দেশে রেখে যাওয়া পরিবার-পরিজনকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে পারে না। প্রায় প্রতিদিনই খোঁজখবর রাখে। বিশেষ করে আপনজনদের কাছে না পেয়ে কীভাবে ঈদ উদযাপন করেন প্রবাসীরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কলেজপাড়ার সালাউদ্দিন খান সৌদি আরবের রিয়াদের ইন্ডাস্ট্রি এরিয়ায় শ্রমিকের কাজ করেন। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের বিনিময়ে মোটা টাকা আয় করেন। মাত্র ২-৩ ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন। এক ছেলে, এক মেয়ে তার। ঈদের দিন কেমন কেটেছে জানতে চাইলে বলেন, সকালে ফজরের নামাজের পরপরই ঈদের জামাত আদায় করি। এর পরই বাসায় গিয়ে বাড়িতে পরিবার-পরিজনের খবর নেই। সারাদিন ঘুমিয়ে সময় কাটাই। জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিন এমন পরিশ্রম করি যে, ঈদের পুরো ছুটিটাই ঘুমিয়ে কাটাতে হয়েছে। কোথাও ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয়নি। তিনি জানান, রিয়াদের এ মহল্লায় শতকরা ৯০ ভাগ বাঙালী। সকলের একই অবস্থা। অপর নির্মাণ শ্রমিক হাসেম মিয়া রিয়াদেই অবস্থান করছেন।

Ñরিয়াজউদ্দিন জামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে