১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আঞ্চলিকতার সুতোয় বাঁধা প্রবাসীরা

জননী ও জন্মভূমি স্বর্গের চেয়েও পবিত্র। মা না থাকলে অথবা মা’র কাছ থেকে দূরে থাকলে যেমন মাতৃস্নেহের টান অনুভব করা যায়Ñ তেমনি দেশমাতৃকা থেকে দূরে থাকলে অনুভব করা যায় মাতৃভূমির টান! চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে যারা বিদেশে থাকেনÑ তারা প্রবাস যাপন করেন ঠিকই, কিন্তু দেশকে ভোলেন না এতটুকু। বরং প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের এতটুকু অবসরের মধ্যেই স্বদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতির চর্চা করে পরস্পরের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাঙালীরা উৎসব-পার্বণে একত্রিত হয়ে রচনা করেন বাঙালীর চিরন্তন মেলবন্ধন।

হাওর-বাঁওড়ের জেলা নেত্রকোনার খুব কম মানুষই বিদেশে বসবাস করে। কিন্তু যারাই যেখানে আছেÑ সেখানেই গড়ে তুলেছে ‘নেত্রকোনা কমিউনিটি’। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে, ঈদে, পুজোয়, বর্ষবরণে, বিভিন্ন জাতীয় দিবসে তারা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কানাডার টরন্টো প্রবাসী এইচএম গোলাম কবির, নেসার আহমেদ, নিউইয়র্ক প্রবাসী আসলাম আহমেদ খান, সৌদি আরবের জেদ্দা প্রবাসী মমতাজ চৌধুরীসহ নেত্রকোনার কয়েক প্রবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দেশী ঐতিহ্য বা রীতিনীতি চর্চার কিছু বিবরণ জানা গেছে। তারা জানান, টরন্টোতে বসবাসরত নেত্রকোনার প্রবাসীরা সাম্প্রতিককালে সেখানে নিজেদের কমিউনিটিতে নেত্রকোনার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন। মাঝে মাঝে তারা নেত্রকোনার বিভিন্ন বাসায় আমন্ত্রণ করেন। সেখানে প্রত্যেকে দেশী খাবার (বিভিন্ন ধরনের ভর্তাসহ) নিয়ে আসে। আপ্যায়ন শেষে অতিথিকে জর্দ্দাসহ পান-সুপারি দিতে ভোলে না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরুষরা পাঞ্জাবি ও পা-জামা পরেন। নারীরা শাড়ি-ব্লাউজ পরে। একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়েন। বর্ষবরণের সময় দম্পতিদের মেলা জমে।

Ñসঞ্জয় সরকার, নেত্রকোনা থেকে