১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিশেষ দিনে প্রবাসীদের মিলনমেলায় দেশের কৃষ্টি-সংস্কৃতি

পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, ঈদ-উল-ফিতর, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় কখনও বাংলাদেশ দূতাবাস ঘিরে আবার কখনও অন্যত্র জমজমাট হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানমালা। দেশটির নানা প্রান্ত থেকে শেকড়ের টানে অনুষ্ঠানস্থলে ছুটে আসে প্রবাসী বাঙালীরা। অংশ নেয় ফিলিপিনরাও। অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে এক টুকরো বাংলাদেশ। যেখানে একে অপরে মন খুলে কথা বলে মাতৃভাষায়। অল্পসময়ের জন্য হলেও কেটে যায় বিদেশ-বিভূঁয়ে একা থাকার যন্ত্রণা। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে পরিচিত জনদের বাসায় বসে মনোরম আড্ডা। ফিলিপিন্সের প্রবাস জীবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা এভাবেই বর্ণনা করেন মোহাম্মদ মিলন মিয়া। পাঁচ বছর ৯ মাস ধরে তিনি আছেন সেখানে। ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দিন কয়েকের ছুটি নিয়ে এসেছিলেন দেশে। এরই মধ্যে আবার ফিরে গেছেন কর্মস্থলে।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সন্তান মিলন মিয়া ২৩ বছর ধরে চাকরি করছেন দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আশায় এরিয়া ম্যানেজার পদে। আশার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তাকে ফিলিপাইনের আরেকটি বড় উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর রুরাল এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউশন (কার্ড এমআরআই) এ ডেপুটেশনে পাঠিয়েছে। ছয় বাংলাদেশী কর্মীর তিনি টিম লিডার। কনসালটেন্ট এ্যান্ড ট্রেনার পদে তিনি কার্ড এমআরআইয়ের সানপাবলো সিটির প্রধান কার্যালয়ে বসেন। ফিলিপাইনে সংস্থাটির এক হাজার ৬৬৭টি শাখা রয়েছে। এগুলোর আওতায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে। মিলন মিয়া জানান, ফিলিপাইনে বাংলাদেশী প্রবাসীর সংখ্যা হাজার তিনেকের মতো হবে। যার বেশির ভাগই বিভিন্ন প্রদেশ ও সিটিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ফিলিপাইনে মোট প্রদেশ ৮২টি। জেলা পর্যায়ের সিটির সংখ্যা ১৪৫। এর বাইরে মিউনিসিপ্যালিটি রয়েছে ৪৫৫টি এবং গ্রাম রয়েছে ৪২ হাজার ১৪৭টি। আইল্যান্ড রয়েছে আট হাজার ১৪৭টি। বিশাল আয়তনের দেশটির মোট লোকসংখ্যা একশ’ মিলিয়ন। তিনি জানান, বাঙালীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় নিজেদের মাঝে যোগাযোগ খুব কম হয়। যে কারণে প্রায় সকলেই বিশেষ বিশেষ দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। আর এসব বিশেষ দিন উদযাপনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা আয়োজনের জন্য প্রবাসী বাঙালীদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বেশিরভাগ দিবস আয়োজন করে থাকে। মিলন মিয়া জানান, বাঙালীর নাড়ির টানের যে দিবসটি সবাইকে বেশি আবেগ আপ্লুত করে, তা হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। দিবসটি পালনে বেশ কয়েকদিন আগে থেকে নেয়া হয় প্রস্তুতি। দূতাবাস ঘিরে দিনভর চলে নানা আয়োজন। সেখানেও চলে পান্তা ইলিশ। আয়োজন হয় আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। প্রবাসী বাঙালীরা যেমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। তেমনি মাঝে মধ্যে ফিলিপাইনের শিল্পিরাও মঞ্চ আলোকিত করে। দেশ থেকেও নেয়া হয় খ্যাতনামা শিল্পিদের। পহেলা বৈশাখ ছাড়াও একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো জাতিসত্তা বোধের সঙ্গে জড়িত বিশেষ দিনগুলোতে আয়োজন হয় নানা অনুষ্ঠানমালার। এসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাঙালীরা যেমন নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে পায়, তেমনি ওই দেশের মানুষের কাছেও নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ আসে। তার মতে-প্রবাসীরা সর্বদাই বিদেশ-বিভূঁয়ে একাকিত্বের যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়। এসব অনুষ্ঠান একাকিত্বের অবসানই শুধু ঘটায় না। প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় করে। যে কারণে অনুষ্ঠানগুলোতে উপচেপড়া প্রবাসীর সমাগম হয়। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এ প্রসঙ্গে তিনি এবারের বাংলা বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের বিবরণ দিয়ে জানান, এ বছরের ১৪ এপ্রিল ফিলিপাইনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতের বাসভবন বাংলাদেশ হাউসে সকাল থেকে মানুষের ঢল নেমেছিল। রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল জন গোমেজ অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে আয়োজন করেছিলেন বাঙালীদের মিলনমেলা। দিনভর নানা ধরনের খেলাধুলা, সঙ্গীত, খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন বলে। সন্ধ্যায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা জানান হয়।

Ñশংকর লাল দাশ, গলাচিপা থেকে