২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রবাস জীবনে ফ্যাকাসে ঈদ

ঈদের নামাজ হয় যথারীতি। খাওয়া-দাওয়ার কমতি নেই। আড্ডা-ঘোরাঘুরি সবই হয়। তারপরেও ঈদের যে খুশি তা থাকে অনেকটা ফ্যাকাসে। ঈদ আনন্দ বলতে কেবল দেশী বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। এভাবেই বিদেশ বিভূঁইয়ে ঈদ উদযাপনের গল্প শোনালেন পাকিস্তান বাংলাদেশের আবদুল গাফ্ফার। এবার দিয়ে অন্তত ১২ বছর ধরে বিদেশে ঈদ উদযাপন করছেন তিনি।

চাকরির সুবাদে চলতি ঈদ-উল-ফিতর তিনি উদযাপন করলেন পাকিস্তানের মুলতান শহরে। এরআগে পাকিস্তানে ছয় বার ও আফগানিস্থানে আট বার ঈদ উদযাপন করেছেন তিনি। আবদুল গাফ্ফারের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বিশ্বরোড মোড়ে। বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচীর ম্যানেজার হিসেবে সিন্ধু প্রদেশের খয়েরপুরে তার কাটছে প্রবাসজীবন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সেখানে রয়েছেন। এর আগে ২০০৩ সাল থেকে প্রায় আট বছর আফগানিস্তানে ছিলেন।

ঈদের পর অনলাইনে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় আবদুল গাফ্ফারের। তিনি জানালেন ঈদ এলেই দেশের কথা, গ্রামের মানুষের কথা মনে পড়ে সবার আগে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে পরিবারের সদস্যদের মুখ। তখন খুব খারাপ লাগে। সবকিছু থাকলেও প্রিয়জনদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয় না। ঘোরা হয় না সবাইকে নিয়ে। মনের কষ্টগুলো তখন একে একে ফুটে ওঠে চোখের কোণে অশ্রু হয়ে জমা হয়। তারমতে এটা এক অজানা কষ্ট।

আবদুল গাফ্ফার জানালেন, পাকিস্তানে আসার পর এখন ঈদের দিন ছাড়াও বিশেষ উৎসবের দিন প্রিয়জনদের সঙ্গে অনলাইনের মাধ্যমে কথা হয়। দেখাও হয়। তবে সাময়িক। এ আনন্দ বেশিক্ষণ থাকে না। তারপরেও অনলাইনের মাধ্যমে কিছুক্ষণের জন্য প্রিয় মুখগুলো দেখে সামান্য আনন্দ লাগে। এবারের ঈদে প্রিয়জন যেমন, স্ত্রী সন্তান, স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়েছে অনলাইনে। তবে আফগানিস্তানে থাকতে সেটা হতো না। তিনি জানান, তখন আফগানিস্তানের অবস্থা ভাল ছিল না। বিশেষ কোন দিনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হতো না। তখন অনেক কষ্ট হতো। ঈদ কিংবা কোন উৎসবের সময় এলে মনের ভেতরে ভেতরে আর্তনাদ ওঠে।

আবদুল গাফ্ফার এবার ঈদ করেছেন তার কর্মস্থল খয়েরপুর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান শহরে। শুধু বাংলাদেশী বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের সময়টা কাটানোর জন্য সেখানে ছুটে যান তিনি। সেখানে বাংলাদেশের আরও দুজন রয়েছেন। এরা হলেনÑ মুলতানের নিস্তার মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র রাজশাহীর এএম হাসিব হিরা ও বেসরকারী সংস্থায় মুলতানে কর্মরত কুমিল্লার সিরাজুল ইসলাম। শুধু বাংলাদেশীর খোঁজ পেয়ে তিনি সেখানে ছুটে যান ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি আর আড্ডায় মেতে থাকতে।

এবার তিনজনে মিলে মুলতানের শাহ রোকন আলম-ই মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এরপর সেখানেই কোলাকুলির মাধ্যমে তাদের ঈদের আনন্দ শুরু হয়। তিনি বলেন এখানে ঈদগাহ নেই। সব ঈদের নামাজ মসজিদেই হয়। বাংলাদেশের মতো বিশালাকায় ঈদগাহ নাই। মসজিদের মধ্যেই নিয়ম অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ঈদের দিন যাতে পরিবারের স্মৃতি মনে না আসে মূলত এ কারণে দেশী বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদ করতে ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। ঈদের আগের রাতে সেখানে পৌঁছেন। ঈদের পর সেখানেই দু’দিন কাটিয়ে মঙ্গলবার কর্মস্থলের পথে যাত্রা শুরু করেছেন। তারমতে খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে কোনকিছুর কমতি নেই। তবে ঈদের প্রকৃত যে আনন্দ প্রবাসীদের অনেকের জীবনে তা হয় না। বরং দেশে ফেলে আসা স্বজনদের টানে রঙ্গিন ঈদের সব আনন্দ কেমন ফ্যাকাসে লাগে। ঈদের দিন মনটা পড়ে থাকে দেশের প্রিয়জনদের মধ্যে। বার বার মনে পড়ে যায় গ্রামে একসঙ্গে ঈদ উদযাপনের কথা। তখন মনটা কোনভাবেই সামাল দেয়া যায় না।

Ñমামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে

নির্বাচিত সংবাদ