২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

টুটুলের গাছ বন্ধু আখতারুল ইসলাম

টুটুলদের বাসা চট্টগ্রাম শহর থেকে অনেক দূরে। বলতে গেলে অজপাড়া গাঁ। কিন্তু সুন্দর, অপূর্ব সুন্দর তাদের গ্রাম। গাছ-গাছালিতে ঘেরা, মাঠে মাঠে নানা ফসলে সবুজের সমারোহ। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর কূল কূল ধ্বনি। যেন মুগ্ধকর। গ্রামখানি ছবির মতো। টুটুল প্রতি বছর ঈদে গ্রামের বাড়ি যায়। ফিরে এসে ভুলতে পারে না। বার বার মনে পড়ে গ্রামকে, চোখের ওপর ভাসতে থাকে। টুটুল দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ক্লাসের স্যারেরা যখন গ্রামের দৃশ্য আঁকতে বলে, তখন টুটুল আঁকে নিজের গ্রামটি।

আজ টুটুলের দাদু শহরে এলেন তাদের বাসায়। শহরের চার দেয়ালে ঘরে দাদুর ভাল লাগে না, টুটুল ভাবছে, গ্রামে কত দিকে ঘোরাফেরা যায়। এখানে দাদুকে সে কোথায় নিয়ে যাবে। শিশুপার্কে, তাও আব্বু-আম্মু না নিয়ে গেলে যেতে দিবে না। টুটুল দাদুকে বলল, দাদু আমরা ছাদে যাই, ছাদ থেকে সারা শহরটা দেখা যায়। পড়ন্ত বিকেল যখন মানুষ চাকরি থেকে বাসায় ফেরে। ছাদে উঠে দাদু দেখে, শহরজুড়ে বিল্ডিং আর বিল্ডিং, বিল্ডিংগুলো যেন আকাশ ছুঁতে চায়। নিচে রাস্তায় চোখ পড়তেই দেখে সারি সারি গাড়ি। বিশাল জ্যাম, মাঝে মাঝে একটু একটু নড়েচড়ে ওঠে। অজগর সাপের মতো। ছাদে টুটুলদের বিল্ডিংয়ে বিভিন্ন ফ্ল্যাটের অনেক বন্ধুরা আসে, টুটুলকে দেখে শাওন ও সাদমান দৌড়ে এসে বলল, ওনি কে টুটুল? টুটুল বলল, দাদু, ওরা দাদুকে সালাম দেয়। দাদু সালামের জবাব দিয়ে বলল, কেমন আছ তোমরা, সবাই বলল, ভাল।

: শাওন বলল, আপনি গ্রামে থাকেন?

: দাদু বলল, হ্যাঁ।

: এখন কি শহরে থাকবেন।

: দাদু বলল, কেন? সাদমান বলল, আমরা আপনার মুখে অনেক গল্প শুনব।

: কিসের গল্প?

: গ্রামের গল্প, ভূতের গল্প, শুনেছি গ্রামের ঝোপে ঝাড়ে ভূত থাকে।

: আচ্ছা তোমরা গ্রামে যাও না!

: শাওন বলল, কিভাবে যাব! সারাদিন স্কুল আর পড়ালেখায় থাকি আর বাবা সময়ও করতে পারেন না।

: দাদু বলল, তাহলে তো তোমরা অনেক বই পড়?

: টুটুলরা বলল, হ্যাঁ।

: তোমাদের তো অনেক বুদ্ধি আছে।

বল দেখি, একটা গাছ আছে যে গাছের অনেক ডালপালা, পাতাগুলো গোল গাঢ় ও ঘন, অনেক পাখি বাসা বাঁধে, সে গাছে ছোট ছোট ফল! ফল খায় পাখি, পাখি যদি সে ফলের বীজ মলের সঙ্গে বের করে, তবেই সে বীজ হতে নতুন গাছ জন্মে। ফলগুলো হলুদ।

টুটুল, শাওন, সাদমান, প্রান্ত সবাই ভাবনায় পড়ে যায়।

: সাদমান বলল, বড়ই গাছ।

: না, না, আরেকটু চিন্তা কর।

: শাওন বলল, গাছটা কি বোটানিক্যাল গার্ডেনে আছে?

: টুটুল বলল, গাছটা কী গ্রামে আছে?

: দাদু বলল, গ্রামে তো আছেই, এমন কি অনেক বাজারে, শহরে বিভিন্ন জংশনেও দেখা যায়।

যে গাছটার অনেক গুণ! সে গাছটা অন্য গাছের তুলনায় মানুষকে বেশি ছায়া দেয়। ক্লান্ত পথিক বিশ্রাম নেয়। পাখিরা বাসা বাঁধে। ঝড়-বাদলে, বৃষ্টি হলে পশুপাখি ও মানুষ গাছটির নিচে আশ্রয় নিয়ে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচে।

সাদমান বলল, কিরে কত গাছ দেখি! টিভিতে ছবিতে, কিন্তু মনে আসছে না কেন? এটা কী গাছ? হাত দিয়ে মাথা চুল টানছে! আর ভাবছে! আফসোস করছে!

: দাদু বলছে, কই তোমাদের বুদ্ধির ঝলক দেখাও?

: শাওন, টুটুল ভাবছে, চোখ দিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে? শেষে সাদমান বলল, না দাদু বলতে পারছি না।

: দাদু বলল, দেখি তোমরা আরও চিন্তাা কর? আরেকদিন না হয় বলব?

: সবাই বলল, না দাদু এক্ষুণি বলেন, ওদের কৌতুহল আরও বেড়ে গেল। দাদু বলল, ঠিক আছে! গাছটি হলো ... ব ... ট!

গাছ বলা শেষ করতে পারল না। টুটুল চিৎকার করে বলল, হ্যাঁ দাদু, আমি চিনেছি আমাদের গ্রামে আছে। বটগাছ! সবাই বলল, হ্যাঁ।

দাদু বলল, টুটুলের অনেক বুদ্ধি! সবাই বলল, হ্যাঁ বটগাছ! উপকারী গাছ! ঠিক বলেছ।

নির্বাচিত সংবাদ