২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তারুণ্যের মেধা বিকাশে সফটওয়্যার শিল্প

  • সাজিদা ইসলাম পারুল
  • রেজা নওফল হায়দার

এছাড়া ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন, বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কাজের জন্য সফটওয়্যার তৈরি করে নেয়া হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। এসব কাজে প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে তরুণরা যুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশে এখন ২৫ হাজার তরুণ আছেন, যারা ঘরে বসেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সফটওয়্যার তৈরি করে বাইরে পাঠাচ্ছেন। তাদের প্রত্যেকের আয় মাসে গড়ে ১ থেকে দেড় হাজার ডলার। শুধু ঢাকা নয়, ঢাকার বাইরেও কাজ হচ্ছে। ঢাকার বাইরে সফটওয়্যার তৈরির প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠছে। তবে বাংলাদেশে এ শিল্পের প্রধান বাধা স্বল্পগতির ইন্টারনেট এবং তার খরচ। সেইসঙ্গে প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব তো আছেই। বেসিসের উদ্যোগে প্রতি বছরই কিছু প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ঢাকার কারওয়ান বাজারে একটি ভবন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যেখানে সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জায়গা পেয়েছে। ইন্টারনেটের গতি বাড়ানো ও খরচ কমানোর উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। সফটওয়্যারের অর্ডার এবং তা পাঠানোর জন্য ইন্টারনেট যেমন জরুরী, তেমনি সহায়ক ইউটিউবসহ আরও কিছু ওয়েবসাইট। কারণ অনেক সময় নানা ধরনের ডিজাইন এবং চাহিদা ইউটিউবের মাধ্যমেই আসে। কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে ইউটিউব বন্ধ থাকায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এ শিল্পে। এদিকে বাংলাদেশের সফটওয়্যার শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরাসহ এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে প্রণোদনা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছর সফটওয়্যার মেলার আয়োজন করা হয়। বেসিস সফটএক্সো মেলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন প্রকল্প সক্রিয় সহযোগিতা দিয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সফটওয়্যার মেলা আয়োজনের ফলে দেশ-বিদেশের সাধারণ মানুষ ও উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী শ্রেণী বাংলাদেশ সফটওয়্যার শিল্পকে জানার একটা সুযোগ পায়। আমাদের সফটওয়্যার শিল্পের ভাবমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ ধরনের মেলা নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের অবস্থানটুকু জানা যায়। বিগত বছরে সফটওয়্যার রফতানি আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের ফ্রিল্যান্সাররা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন এ খাতে ফ্রিল্যান্সিং করে। এভাবে সফটওয়্যার শিল্প সম্পর্কে মোটামুটি একটি চিত্র পাওয়া যায় বলে তারা মনে করেন। বেসিস জনকণ্ঠকে জানায় ২০১১ সালের ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সফটওয়্যার রফতানি ও আউটসোর্সিং খাত থেকে আয় হয় ২ কোটি ৯০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ২০১০ সালের একই সময়ে এ আয়ের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো জানিয়েছে, ২০১০ সালের তুলনায় ২০১১ সালে সফটওয়্যার রফতানি আয় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। সফটওয়্যারের বাজার ও আয় বিবেচনায় এ অগ্রগতি নিশ্চিতভাবেই উল্লেখযোগ্য। বেসিসের দেয়া পরিসংখ্যান মতে, গত পাঁচ বছরে সফটওয়্যার খাত থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ডলার পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আয় করা হয়েছে।

সফটওয়্যার শিল্প বাংলাদেশের জন্য রফতানির গন্তব্য আরও সম্প্রসারিত করেছে। তথ্য মতে, সফটওয়্যার রফতানি ৩৫টি দেশের রফতানির কাছাকাছি। এখন সফটওয়্যার রফতানির সম্ভাবনার সময়। আগে ভারত ছিল এশিয়ার আইসিটি হাব। কিন্তু ভারতে এখন সফটওয়্যার উৎপাদন ও সফটওয়্যার সেবার খরচ বেড়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ এ সুযোগে সফটওয়্যার শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে পারে।