২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের আশায় সোহাগপুরের সেই বিধবারা

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের আশায় সোহাগপুরের সেই বিধবারা

নিজম্ব সংবাদদাতা, শেরপুর ॥‘আমরা স্বামী-সন্তান হারানির বিচার পাইছি, ঘাতক কামরুজ্জামানের ফাঁসি অইছে। এইজন্য আমগো আর আফসোস নাই। কিন্তু আমগোর গাও-গতরে আগের মতো শক্তি-বল না থাহায় অহন আগের মতো কাম-কাজ করবার পাই না। অভাবের মধ্যে কোনোরহম দিন চলে। সবার বয়স অইছে। ঠিকমতো চলবার ফিরবারও পাই না। অহন সকরারের দয়া ছাড়া আমগো বাইচ্চা থাহাই কডিন’। সোহাগপুর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ২৫ জুলাই শনিবার সরেজমিনে বিধবাদের খোঁজ-খবর জানতে গেলে বিধবা মহিরন বেওয়া ওই কথা বলেন। ওইসময় বিধবা পল্লীর শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘কামরুজ্জামানের ফাঁসি অওয়ার পর পয়লা বৈশাখে আমগোর সাথে ডাঃ ইমরান শামিল অইবার পর তার কথায় আমরা আশায় থাহি যে, শেখের বেডি হাসিনার সাতে আমগো সাক্ষাত অইবো। আমগোরে দিনমান কিছুডা অইলেও বদলাইবো। কিন্তু হেই সাক্ষাতের সুযোগ অহনো অয় নাই। তাই আমরা শেখের বেডির সাক্ষাতের আশায় আছি।’ একই সুরে কথা বলেন জবেদা খাতুন (৬৫)। তিনি বলেন,‘ অন্যের বাড়িত থাহি। ভাতার টেহায় কোনো রহম খাওন চলে। চিকিৎসা করাইবার পাই না। সরকার যদি আমগো সহযোগিতা করত, তাইলে বিরাট উপকার অইত।’ একই দাবি জানান দিলমণি রাকসাম ও হাজেরা বেওয়া। বাঁ পা অবস হয়ে শয্যাশায়ী হাজেরা বেওয়া। আর বার্ধক্যে ঘরে পড়ে আছেন দিলমনি রাকসাম। অর্থাভাবে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

ওই গ্রামের ৩২ জন বিধবা নারীর মধ্যে বাড়িঘর না থাকায় ৪ জন অন্যের বাড়িতে থাকছেন। এলাকার সংসদ সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর প্রচেষ্টায় তারা প্রত্যেকে ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে ২ হাজার টাকা, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক থেকে ৪শ ও সরকার থেকে ৪শ টাকা হারে বয়স্ক ভাতাসহ মোট ২ হাজার ৮শ টাকা পাচ্ছেন। কিন্তু ওই টাকায় বিধবাদের কোনোমতে খাবার-দাবার সম্ভব হলেও রোগের ওষুধ জোটে না। সোহাগপুরে গণহত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতের সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের আলবদর প্রধান কামারুজ্জামানের ফাঁসি হওয়ায় বিধবারা বেজায় খুশি হয়েছেন। তবে অর্থের অভাবে এখন বাঁচার মতো বাঁচতে না পারার কষ্টে আছেন তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী সোহাগপুর গ্রামের ১৮৭ জন বাসিন্দাকে হত্যা করে। ওই ঘটনায় বিধবা হন ওই গ্রামের ৫৭ জন নারী, ধর্ষণের শিকার হন ১৩ জন নারী। এ জন্য পরবর্তীতে গ্রামটির পরিচিতি হয় ‘বিধবাপল্লী’। ওই বিধবা নারীদের মধ্যে বর্তমানে বেঁচে আছেন ৩২ জন। ওইসব বিধবাসহ পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের হত্যার মূল নায়ক ঘাতক মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হওয়ায় তারা বেজায় খুশি হলেও এখন তাঁদের সংসারজীবন কাটছে নিদারুণ কষ্টে।