২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

দেশের সড়ক, মহাসড়কগুলো একেকটা যেন মৃত্যুফাঁদ। আর এই ফাঁদ বন্ধ করার জন্য বহু আশ্বাস মেলে। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচও হয়। কিন্তু মানুষের যাতায়াতের পথ আর সুগম হয় না। সড়কপথগুলো যেন হা করে আছে মানুষের প্রাণহরণের জন্য। শুধু সড়ক নয়, যানবাহনগুলোর হাল-হকিকত এমন যে, চলাচলের যোগ্যতা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। সেসব যানের বেপরোয়া চলাচল মানেই দুর্ঘটনা। কিন্তু এসব মৃত্যুর ফাঁদ বন্ধ করা যাদের দায়িত্ব তাদের নির্বিকারত্ব মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে চলে। এবারও ঈদে ঘরমুখো এবং ফেরার পথে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। অর্ধশত মানুষ নিহত ও দু’শতাধিক আহত হওয়ার প্রাথমিক খবর মিলেছে। প্রতি বছরই দেখা যাচ্ছে, ঈদকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে রাস্তা সংস্কার করা হয় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কোনটারই কাজ শেষ হয়নি। আবার কিছুটা ভাল হলেও অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত। পুলিশের তথ্যানুযায়ী ২০১৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন হাজার ৬০২ জন হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে এক হাজার ৫৩৫ জন। অবশ্য প্রকৃত দুর্ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি। নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের হিসাবে গত বছর দুই হাজার ৭১৩টি দুর্ঘটনায় মোট ছয় হাজার ৫৮২ জন নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে যা ছিল পাঁচ হাজার ১৬২ জন। গত ঈদ-উল-ফিতরে ১০৪টি দুর্ঘটনায় ২৫৬ জন হতাহত হন। গত ছয় মাসে দুর্ঘটনার হার বেড়েছে। ঈদের পরদিন সিরাজগঞ্জে দুটি বাসের সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। আহতদের অনেকে সারাজীবনের জন্য যেমন পঙ্গু হয়ে যান, নিহত অনেকের পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নামতে থাকে। অথচ এই হত্যাকা-ের দায়ভার যেন কারও নেই। দুর্ঘটনা রোধ করা যাদের দায়িত্ব তাদের প্রদত্ত লাইসেন্সে ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেমন চলছে তেমনি অদক্ষ চালকের সংখ্যাও বাড়ছে। সারাদেশে এ অবৈধ চালকের সংখ্যা সাড়ে ছয় লাখ। ফিটনেসবিহীন বিভিন্ন যানবাহন রয়েছে তিন লাখের বেশি। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই এসব যান চলাচল করে এবং মানুষ হত্যার কাজটি করে আসছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল না থাকলে জনজীবন, ব্যবসাবাণিজ্য যেমন ব্যাহত হয় তেমনি দেশও পিছিয়ে পড়ে। দেশকে নিম্ন মধ্য আয় হতে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে মানুষ হত্যার এ পথ ও পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। সড়ক মন্ত্রণালয় দুর্ঘটনায় মানুষ মারা যাওয়ার পর নানামুখী সিদ্ধান্ত বলে। কিন্তু তা কার্যকর হয় না। এবার ঈদের পর পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে মহাসড়কে অটোরিক্সা চলাচল নিষেধ করেছে। কিন্তু এই যানবাহনের সঙ্গে জড়িত মালিক, চালক ও যাত্রীদের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। মহাসড়কে স্বল্প পরিসরে যাতায়াতে যানবাহন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়নি। সব মিলিয়ে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং যাত্রাপথে মানুষের জীবন যে কোন সময় নিভে যাওয়ার এই অবস্থার দ্রুত নিরসন কাম্য।

নির্বাচিত সংবাদ