১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ২৮ দশমিক ৮৮ ভাগ

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ কোম্পানির দর বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব ধরনের মূল্য সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ২১ কোটি ৭৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৫৬৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার। অর্থাৎ ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৪৫৩ কোটি ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকার।

প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ছয়দিনের ছুটি ছিল পুঁজিবাজারে। গত মঙ্গলবার থেকে লেনদেন শুরু হয়েছে পুঁজিবাজারে। গত সপ্তাহে তিন কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে পুঁজিবাজারে। সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯২ দশমিক ৫২ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে দশমিক ৩৭ শতাংশ।

এদিকে, ডিএসই সার্বিক সূচক বা ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বা ১৫২ দশমিক ২৬ পয়েন্ট। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএস ৩০ সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ বা ৬৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট। অপরদিকে শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ বা ৪৮ দশমিক ১ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৮টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ৮৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির। আর লেনদেন হয়নি ৩টি কোম্পানির শেয়ার।

গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) অবস্থান করছে ১৬ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে; যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও ছিল ১৬ দশমিক ২৩।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার ধারাবাহিকভাবে উর্ধমুখী থাকার কারণে পিই রেশিও বেড়েছে। তবে পিই রেশিও যতদিন ১৫ এর ঘরে থাকে ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ বলে মনে করেন তারা।

সপ্তাহ শেষে খাত ভিত্তিক ট্রেইলিং পিই রেশিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৬ দশমিক ৮ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ৩৮ পয়েন্ট, সিরামিক খাতের ৫০ দশমিক ৯ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ২৫ দশমিক ৪ পয়েন্ট, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৩১ দশমিক ৯ পয়েন্ট, জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতের ১৫ দশমিক ৩ পয়েন্ট, সাধারণ বীমা খাতের ১০ দশমিক ৮ পয়েন্টে, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ২২ দশমিক ৭ পয়েন্টে, পাট খাতের ১৬৫ দশমিক ২ পয়েন্ট, বিবিধ খাতের ৩৬ দশমিক ১ পয়েন্ট, এনবিএফআই খাতের ১৭ দশমিক ৭ পয়েন্টে, কাগজ খাতের ৯ দশমিক ১ পয়েন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতের ২৯ দশমিক ১ পয়েন্ট, সেবা ও আবাসন খাতের ৩৫ দশমিক ৭ পয়েন্ট, চামড়া খাতের ২৬ দশমিক ১ পয়েন্ট, টেলিযোগাযোগ খাতের ২৩ দশমিক ৭ পয়েন্ট, বস্ত্র খাতের ১২ দশমিক ৪ পয়েন্ট এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ১৩ দশমিক ৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সাপ্তাহিক লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, শাহজিবাজার পাওয়ার, এসিআই লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, গ্রামীণফোন লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড, আরএকে সিরামিক, রেনেটা ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

দর বৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ইসলামী ব্যাংক, বিএসআরএম লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, রেনেটা লিমিটেড, শাহজিবাজার পাওয়ার, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স, লিন্ডে বাংলাদেশ, বিজিআইসি, রিপাবলিক ও বিডি ল্যাম্পস।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : প্রাইম লাইফ, বিডি ওয়েল্ডিং, সায়হাম কটন, মেঘনা পেট, জেমিনি সী ফুড, আজিজ পাইপস, হাক্কানী পাল্প, এমবিএল ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, ৭ম আইসিবি ও বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক।