২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আদর্শবান ও মেধাবী ছাত্ররাই ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দেবে

আদর্শবান ও মেধাবী ছাত্ররাই ছাত্রলীগে নেতৃত্ব দেবে
  • জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের মূল নীতি ‘শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি’র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমি এটুকুই চাইব, ছাত্রলীগ যেন সব সময় একটা আদর্শ নিয়ে চলে। কারণ আদর্শহীন সংগঠন ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষা করতে পারে, জাতির স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে না। আর ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালীর প্রতিটি অর্জনের সঙ্গে জড়িত। তাই এই সংগঠনের ভাবমূর্তি যেন কোনভাবেই ক্ষুন্ন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খুনীর রাজত্ব আর যেন বাংলাদেশে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের অনেক ঝড়ঝাপ্টা, অনেক বাধাবিঘœ অতিক্রম করতে হয়েছে। বার বার আঘাত এসেছে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা রকম ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলার শক্তি পেয়েছি সততার শক্তি থেকে। কারণ, সততার শক্তি অপরিসীম। বাংলাদশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এই অগ্রযাত্রা আল্লাহর রহমতে আর কেউ রুখতে পারবে না। শনিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহওরাওয়ার্দী উদ্যানে উপমহাদেশের প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী ২৮তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নিয়মিত ও মেধাবী ছাত্রদের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে আমি খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম লেখাপড়া করার জন্য। তাই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংগঠনের ইতিহাস-ঐতিহ্য মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যারা নিয়মিত ছাত্র, মেধাবী ও পড়াশোনায় মনোযোগী; তাদের হাতেই নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। তারা যাতে চাপিয়ে দেয়া নয়, নির্বাচিত নেতা হতে পারেন, সেদিকে নজর রাখতে হবে; তাহলেই সংগঠন শক্তিশালী হবে, এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু ভোগের কথা চিন্তা করে যারা নেতৃত্ব দেবে তারা দেশকেও কিছু দিতে পারবে না, জাতিকেও কিছু দিতে পারবে না।

দীর্ঘ চার বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শুধু বর্তমান নেতৃত্বই নয়, সুদীর্ঘ সময়ে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির নেতৃত্ব দেয়া সাবেক নেতাদের পদচারণাতেও মুখর হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সম্মেলনকে ঘিরে নবীন-প্রবীণ ছাত্রলীগের নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। উৎসব-উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সারাদেশ থেকে আগত সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

সকাল থেকেই সারাদেশ থেকে আগত ছাত্রলীগের কাউন্সিল ও ডেলিগেটরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী মিছিলসহকারে সম্মেলনস্থলে জড়ো হতে শুরু করে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সংগঠনটির রং-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে দৃষ্টিনন্দন টুপি-গেঞ্জি পরিহিত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সেখানে রীতিমত উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা হয়। মুহুর্মুহু সেøাগান আর বাদ্যবাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জাতীয় পতাকা ও ছাত্রলীগের নিজস্ব পতাকা, রঙবেরঙের বেলুন, ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা টাওয়ার’ সংলগ্ন স্থানে বিশাল মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা বক্তব্য দেন। সামনেই বিশাল প্যান্ডেলে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সংগঠনের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটসসহ সংগঠনের সাবেক নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা আসন নেন। আমন্ত্রণ পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরাও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সম্মেলনস্থল ছাড়াও আশপাশের সড়কগুলোতেও নেতাকর্মীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

বেলা ১১টার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনস্থলে পৌঁছলে হাজার হাজার নেতাকর্মী গগনবিদারী সেøাগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এর পর শেখ হাসিনা জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় সংগঠনের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম ছাড়াও দেশের ১০১টি জেলা ইউনিট এবং বিদেশের ৯টি শাখার নেতারা সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন।

মঞ্চে আরোহণের পর প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এ সময় ভিশন-২০২১ এবং ভিশন- ২০৪১কে সামনে রেখে প্রস্তুতকৃত একটি ক্রেস্টও তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পরে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় ‘শোনো একটি মুজিবুরের রক্ত থেকে লক্ষ মুজিব জন্ম নেবে’- কালজয়ী এই গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্যও পরিবেশন করা হয়।

প্রধান অতিথির ৪২ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছাত্রলীগ ও এই সংগঠনের নেতাকর্মীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগ জাতির সব অর্জন ও উন্নয়নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এই সংগঠনের ইতিহাস বাঙালীর ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িত। ছাত্রলীগের মূলনীতিই হচ্ছে শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি। এর থেকে ভাল কোন নীতি হতে পারে না। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সেটাই মনে রাখতে হবে। তারাই একদিন দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। এ জন্য তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ ত্যাগের আদর্শে নিজেদের গড়ে তোলার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটি কথাই বলতে চাই, ছাত্রলীগ উপমহাদেশেরও প্রাচীনতম সংগঠন। আমি এটুকুই চাইব, ছাত্রলীগ যেন একটি আদর্শ নিয়েই চলে। কেননা, আদর্শহীন সংগঠন জাতির কল্যাণ ও স্বার্থ রক্ষা করতে পারে না। বঙ্গবন্ধু বলতেন যেকোন মহৎ অর্জনের জন্য বড় ত্যাগ করতে হবে। ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালীর ইতিহাস। যখন বাঙালীর ওপর আঘাত এসেছে, তাদের ভাষার অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চলেছে তখনই এই সংগঠনের জš§। বাঙালীর সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীনতাসহ প্রতিটি অর্জনই আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। এর এই অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রলীগ। সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামেও ছাত্রলীগ কখনও পিছিয়ে থাকেনি। শহীদদের তালিকায়ও দেখা যাবে প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাই বেশি জীবন দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ যারা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে তারাই একদিন জাতির চালিকাশক্তি হবে কিংবা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবে। আজ আমরা যারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছি, আমরাও একদিন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবেই কাজ শুরু করেছিলাম। শিক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আগে প্রতিদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি ও একযোগে সারাদেশে বোমাবাজি দেখা গেছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা ফিরিয়ে আনতে। ছাত্রলীগের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকে। শিক্ষার মান যেন বজায় থাকে, দেশ যেন শািন্তপূর্ণ হয়, সেদিকে লক্ষ্য নিয়েই নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের মূল লক্ষ্য প্রগতি। তারাও চেয়েছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রগতি এবং প্রযুক্তি, শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞান সব দিকেই এগিয়ে যাবে। সেটি অনেকাংশে বাস্তবায়ন হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এই প্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। প্রযুক্তিকে ধারণ করে প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি হতে হবে আদর্শভিত্তিক। মনে রাখতে হবে শিক্ষাই হলো জাতিকে উন্নত করে গড়ে তোলার একমাত্র পথ। ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়তে হবে। তাহলেই জানা যাবে একজন মানুষ আদর্শের জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন।

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার সম্পন্ন ও সাজা কার্যকরের বিষয়ে আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় বাংলাদেশ ছিল অভিশপ্ত। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালন ও পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে আমার প্রতিজ্ঞা ছিল একদিন না একদিন বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচারের মুখোমুখি করব। জনগণের অকুণ্ঠ ভালবাসা ও সমর্থনে আমরা সে প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছি। তবে এজন্য আমাকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের রায় কার্যকর হচ্ছে। এসবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ অভিশাপমুক্ত হচ্ছে। শুধু সততার শক্তির জোরেই এসব গুরুদায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছি। এ জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গড্ডলিকায় না চলে সততার জোরে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

কেন্দ্রীয় নেতা হতে না পারার দুঃখ ॥ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন উদ্বোধন করতে এসে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য না হওয়ার দুঃখবোধের কথা ঢেকে রাখেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ছাত্রলীগ করেই আজ এই নেতৃত্বে এসেছি। ছাত্রলীগের কর্মী থাকলেও নেতা হওয়ার সুযোগ আমার কখনও হয়নি। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সেন্ট্রাল কমিটিতে আমাকে কখনও একটা সদস্য পদ দেয়া হয়নি। এটা আমার একটা দুঃখ।

মেধাবী, নিয়মিত ছাত্রদের নতুন নেতৃত্বে আনুন ॥ ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বে মেধাবী ছাত্রদের দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেধাবী, নিয়মিত ছাত্র ও পড়াশোনায় মনোযোগীদেরই নির্বাচিত করতে হবে। কারণ সুশিক্ষায় শিক্ষিত না হলে কিভাবে নেতৃত্ব দেবে? ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বদাতা হিসেবে এখনকার ছাত্রলীগ নেতাদের তৈরি হতে আধুনিক প্রযুক্তি আত্মস্থ করতে হবে।

এবার সম্মেলন দুই বছর দেরি হওয়ার ধারাবাহিকতা রাখতে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের বয়সসীমা ২৯ বছর করার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটা সুনির্দিষ্ট বয়স ঠিক করে দিয়েছিলাম। ২৭ বছর করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। সেই বৈরী অবস্থা কাটিয়ে এক বছরের মাথায় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়া নিজ কার্যালয়ে ৯২ দিন স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষকে হত্যা করেছেন, সারাদেশে হরতাল-অবরোধের নামে নাশকতা চালিয়েছেন। এ অবস্থায় সম্মেলন করা কঠিন ছিল।

তিনি বলেন, এমন বৈরী অবস্থার কারণে সঠিক সময়ে ছাত্রলীগের সম্মেলন হতে পারেনি। দুই বছর নষ্ট হয়েছে। তাই গ্রেস পিরিয়ড দিতে হয়। এখন সেটা ২৯ বছর হয়ে গেছে। নতুন নেতৃত্বের বয়স ২৯ বছরই থাকতে হবে। ছাত্রলীগের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব সম্পূর্ণ ভোটে নির্বাচিত হবে। কেউ ঠিক করে দেবে না। ছাত্রলীগের যারা কাউন্সিলর তারা যাকে চাইবে তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

অন্য নেতারা যা বলেন ॥ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ’৬৯-এর গণঅভুত্থানের মহানায়ক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংগঠনটির দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাসই হচ্ছে ভাষা, স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতার ইতিহাস। যে বাংলাদেশ ছিল রিক্ত, নিঃস্ব, সেই বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগের ইতিহাস হচ্ছে আমাদের মাতৃভূমির ইতিহাস। বিশ্বায়নের যুগে অনেক আধুনিক দেশেই ছাত্র রাজনীতি এখন বিলুপ্তির পথে।

সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান যুগে ছাত্রলীগের এখন সেøাগান হবে জীবনের জন্য শিক্ষা চাই, জীবিকার জন্য নয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে এখন দিনবদলের হাওয়া বইছে।

ছাত্রলীগের বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম চার বছর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ভার নিজের ওপর নিয়ে আক্ষেপ করেন, ছাত্রলীগ এতিমদের সংগঠন। কেউ ছাত্রলীগের খোঁজখবর রাখে না। নেত্রী (শেখ হাসিনা) ছাড়া ছাত্রলীগের কেউ খোঁজ রাখে না। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অনেকের ব্যক্তিত্বের প্রতিযোগিতা শুরু হয়, এর পর দুধের মাছিরা আবার দুধে মিলিয়ে যায়। নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ঐক্য নষ্ট করার জন্য অনুপ্রবেশকারীরা গণমাধ্যমে নীতিবাচক সংবাদ পরিবেশন করায়; যার ফলে ছাত্রলীগ কখনও কখনও ‘কলম সন্ত্রাসের’ শিকার হয়েছে বলেও দাবি করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় অনুপ্রবেশকারীরা সংগঠনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে।