১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রফতানি লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত

  • আজ ঘোষণা করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী

এম শাহজাহান ॥ চলতি অর্থবছরের জন্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তা চূড়ান্ত করা হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) কার্যালয়ে আজ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। নতুন লক্ষ্যমাত্রায় বাজার সম্প্রসারণে কতগুলো পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক, আন্তর্জাতিক এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। রফতানি বাড়াতে সরকারের নেয়া এসব পদক্ষেপ আরও দ্রুত এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে রফতানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরগুলোর তুলনায় কম করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আবার বাড়ানো হচ্ছে। গত অর্থবছরে রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে ইপিবি। নতুন অর্থবছরে রফতানি আয়ের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৩ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলার, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মাত্র ২৩৫ কোটি ডলার বেশি। প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা খুব একটা বাড়ানো হচ্ছে না। জানা গেছে, ডলারের বিপরীতে ইউরো, কানাডিয়ান ডলার ও রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দরপতন এবং টাকার দর বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রফতানি বাণিজ্যে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরের (২০১৫-১৬) রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি কম করে ধরা হচ্ছে। তবে রফতানি বৃদ্ধির পাশাপাশি রফতানি বাজার সম্প্রসারণে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, উদার ও রফতানিবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং বিভিন্ন রফতানি পণ্যে প্রণোদনা প্রদানের ফলে দেশের রফতানির পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ২০০৮-০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় রফতানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন ডলার, যা গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৩০ হাজার ১৮৬ মিলিয়ন ডলার । তিনি বলেন, রফতানি খাতে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল মাইলফলক।

এদিকে এ বছরের শুরু থেকে টানা তিন-চার মাস বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের সামগ্রিক রফতানি বাজারের ওপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ কারণেই মূলত চলতি বছরের রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন ছিল ওই সময় তা দেশে বিরাজ করেনি। এই বাস্তবতায় এবার প্রধান পণ্য তৈরি পোশাকের রফতানি প্রবৃদ্ধিও বাড়ানো হয়নি।

রফতানি নীতি প্রণয়ন ॥ দেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি সুসংহত ও টেকসই রাখার পাশাপাশি আরও সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা- গতিশীল বহির্মুখীকরণ ও রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে রফতানি অনুবিভাগ থেকে বাংলা ও ইংরেজীতে রফতানি নীতি ২০১২-২০১৫ প্রণয়ণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় তিন বছর মেয়াদী আমদানি-রফতানি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর এতে লক্ষ্য, কলা-কৌশল প্রয়োগ ও বিধি, রফতানির সাধারণ নিয়মাবলী, রফতানি বহুমুখীকরণ পদক্ষেপ, রফতানির সাধারণ সুযোগ-সুবিধা, রফতানির পণ্যভিত্তিক সুবিধাদি, সেবা রফতানি, রফতানি উন্নয়নের বিবিধ পদক্ষেপ, রফতানি নিষিদ্ধ পণ্য তালিকা এবং শর্তসাপেক্ষে রফতানি পণ্যের তালিকা এই নীতিতে সন্নিবেশিত করা হবে। এছাড়া রফতানির নীতিমালার আলোকে বর্তমান বৈদেশিক বাণিজ্যিক উইং খোলা, সিআইপি ও রফতানি ট্রফি প্রদান, রফতানি ভর্তুকি ও নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।