১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, ঝরল আরও ১৭ প্রাণ

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ শনিবার ঝরে গেল ১৭ প্রাণ। সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল কিছুতেই থামছে না। চালকের অবহেলা বা অদক্ষতার কারণেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় আরোহীদের। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে লোকাল বাস ও মাইক্রোর মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত এবং কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে চিকিৎসকসহ তিনজন, মানিকগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ভালুকায় দু’জন করে এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ, কুমিল্লার দাউদকান্দি ও কিশোরগঞ্জে একজন করে নিহত হয়। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জন। শুক্রবার রাত ও শনিবার এসব দুর্ঘটনা ঘটে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে লোকালবাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মহিলাসহ সাতজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ফরিদপুরের সদরপুর থানার মাইক্রো চালক হানিফ (২৮), নড়াইলের নড়াগাতী থানার মাওলী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে বাবু শেখ (৪৫), কালিয়া থানার নওয়া গ্রামের আসাদুজ্জামান শেখের মেয়ে তানিয়া (৩০), লোহাগড়া থানার মহিষকাটা গ্রামের মিরাজ মিয়ার স্ত্রী মেহেদী বেগম (৪০), একই থানার কুমড়ি গ্রামের মৃত এমদাদুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৫০), যশোরের বনগাতী গ্রামের বাবুলের মেয়ে বৃষ্টি (১৩) ও আব্দুর রহমানের ছেলে নাছির মিয়া (১৯)। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, কাশিয়ানীর ব্যাসপুর থেকে আশিক-সাগর পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী লোকাল বাস গোপালগঞ্জ যাচ্ছিল। পথে কালনা থেকে মাওয়াগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে প্রচ- ধাক্কা খায় এবং দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রো চালক বাবু শেখ নিহত হন এবং মাইক্রোর ১৪ যাত্রী আহত হন।

কক্সবাজার ॥ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উত্তর হারবাং এলাকায় শনিবার বিকেল তিনটায় যাত্রীবাহী সৌদিয়া চেয়ারকোচ ও ম্যাজিক গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে চিকিৎসকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন, ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতরা হলেন- চট্টগ্রামের লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন (৫০), ব্যবসায়ী অলক (৩৬) ও চকরিয়া বানিয়ারছড়ার নূর নবী (২৮)।

ভালুকা, ময়মনসিংহ ॥ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা ডিগ্রী কলেজের সামনে শনিবার বিকেলে ‘এনা পরিবহনের’ যাত্রীবাহী বাস একটি অটোরিক্সাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই চালক লোকমান হোসেন (৬০) নিহত এবং চার অটোযাত্রী আহত হন। আহতদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কাঁঠালী মল্লিকবাড়ী মোড় এলাকায় ময়মনসিংহগামী প্রভা পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই পঞ্চগড়ের আব্দুল মান্নানের ছেলে জসিম (২২) নিহত হন।

সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে শুক্রবার রাত ১১টায় গাড়িচাপায় আলম (১৪) নামে এক পান বিক্রেতা নিহত হয়েছে। কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম ঢালে রাস্তা পার হওয়ার সময় আলমকে একটি গাড়ি চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়।

দাউদকান্দি ॥ শনিবার বিকেল সাড়ে চারটায় কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর-মতলব সড়কের নৈইয়ার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সিএনজি অটোরিক্সা রাস্তার ওপর উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে যাত্রী রিয়াদ (১৭) নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়। রিয়াদ (১৭) চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মনিগাঁও গ্রামের শাহ আলমের পুত্র।

কিশোরগঞ্জ ॥ নেত্রকোনার কেন্দুয়া থেকে সুলতান পরিবহন নামে যাত্রীবাহী একটি বাস সিলেট যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সদরের কামালিয়ারচর এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারালে বিপরীত থেকে আসা মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

কালকিনি ॥ মাদারীপুরের কালকিনির মেলকাই এলাকায় শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঈগল পরিবহনের একটি বাস খাদে পড়ে মহিলাসহ কমপক্ষে সাত যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।