১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকামুখী মানুষের স্রোত ॥ ট্রেন লঞ্চ বাসে ঠাঁই নেই

  • ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদ শেষে ঢাকামুখী এখন মানুষের স্রোত। ট্রেন, লঞ্চ থেকে শুরু করে বাসে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কর্মস্থলে যোগ দিতে ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন অনেকে। আবার প্রাইভেটকার, মাইক্রোসহ নিজস্ব পরিবহনে আসছেন কেউ কেউ। দেশের জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন টার্মিনালগুলোতে টিকেটের জন্য রীতিমতো হাহাকার চলছে। দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে চলছে টিকেট কাটার যুদ্ধ। আবার বাড়তি ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ আছে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বিরুদ্ধে। তবে সড়কপথের যাত্রীদের কাছে বড় আতঙ্কের বিষয় হলো দুর্ঘটনা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ৬০ কিলোমিটারজুড়ে ছিল তীব্র যানজট। এ কারণে বাড়তি ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে যাত্রীদের। দিনভড় ধীরগতিতে চলেছে সকল পরিবহন। পাটুরিয়াসহ অন্যান্য ফেরিঘাটে ছিল বাড়তি পরিবহনের চাপ।

১৭-১৯ জুলাই পর্যন্ত ছিল ঈদের সরকারী ছুটি। ১৮ জুলাই ঈদের পরদিন থেকে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে পরিবহনগুলোতে খুব একটা ভিড় ছিল না। নিহায়েত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঢাকা আসেনি। এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকায় ফেরা মানুষের রীতিমতো ঢল নামে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনিবার রাতভর চলবে বাস। রবিবার থেকে জমে উঠবে রাজধানী। এই সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ কর্মস্থলে ফিরবেন। তাই তো যে যেভাবে পারেন, আসছেন। টার্মিনালগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। শনিবার দিনভর মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী, কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে শুরু করে ঢাকা নদী বন্দরে এ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। মানুষের ভিড়ে ফের কোলাহলমুখর হচ্ছে রাজধানী শহর। সড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ। প্রাইভেটকারসহ সকল প্রকার গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস ছুটি শেষে খুলেছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই কোথাও কোথাও ছুটির দিনেও যানজট দেখা গেছে। শনিবারও যারা কর্মস্থলে ফিরেছেন তাদের সবাইকে কম-বেশি দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। প্রথম দুর্ভোগ হলো বৃষ্টি। তারপর গণপরিবহন সঙ্কট তো আছেই। সেই সঙ্গে টেক্সি, অটোরিক্সা থেকে শুরু করে সাধারণ রিক্সায় বাসায় যেতে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। তা ছাড়া রাতে অবিরাম বর্ষণের কারণে কমলাপুর নিচু প্লাটফরমে জমে হাঁটুপানি। ময়লা পানিতে দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে ফিরতে হয়েছে ট্রেনযাত্রীদের।

মতিঝিল, ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পল্টন, শাহবাগ, কাওরান বাজার, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, শ্যামলী, কল্যাণপুর, ধানম-ি সড়ক, মিরপুর সড়ক, শেওরাপাড়া, কাজীপাড়া, গুলশান-১ ও দুই, মগবাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর, মৌচাক, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, নিউ মার্কেট, নীলক্ষেত, পুরান ঢাকাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি গাড়ির চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে যানজটের ভয়াবহতা এখন তৈরি হয়নি। যাত্রীর জন্য অনেক পয়েন্টে গাড়ির জট দেখা গেছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় পানি জমায় রাজারবাগ-মৌচাক-মালিবাগসহ আশপাশের এলাকায় যানজট হয়েছে কিছুটা। জনদুর্ভোগ হয়েছে বেশি। বেশকিছু পরিবহন গর্তে পড়ে উল্টে গিয়ে আহত হয়েছেন যাত্রীসহ চালকরা।

বাহন পরিবহনের চালক কাদের জানান, ঈদের পর ছুটি থেকে ফিরে আজই প্রথম গাড়ি চালাচ্ছি। যাত্রী আগের মতো না হলেও সন্তোষজনক। অর্থাৎ গাড়ি পরিচালনায় লস হবে না। পল্টনে পত্রিকা হকার রাসেল বলেন, ঈদে রাজধানীতে কোন মানুষ ছিল না। গাড়িতে যাত্রী ছিল কম। এ কারণে পত্রিকা বিক্রি করতে পারিনি। শুক্রবার থেকে বাসে বাসে যাত্রী বেড়েছে। বেলা ১২টার মধ্যে শতাধিক পত্রিকা বিক্রি হচ্ছে। মতিঝিল থেকে চিড়িয়াখানা সড়ক চলা নিউ ভিশন পরিবহনের চেকার রতন জানান, দিন দিন যাত্রী বাড়ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিক হবে আশা করছি।