১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নানা অসঙ্গতির অভিযোগ ভোটার তালিকা হালনাগাদে

  • সুজনের সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোটার তালিকা হালনাগাদে নানা অসঙ্গতি ও এ কাজে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি ব্যর্থতার অভিযোগ এনেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কারো ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিধান না থাকলে কি উদ্দেশে এবার এটা করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। এছাড়া আইনে প্রতিবছর জানুয়ারী থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার বিধান থাকলেও এর পরিবর্তে জুলাই মাসে হালনাগাদ করা আইনের সুষ্পষ্ট লংঘন বলে উল্লেখ করেন তারা। এছাড়াও গত বছরের ভোটার তালিকায় বড় ধরনের জেন্ডার গ্যাপের কথা উল্লেখ করা হয়।

শনিবার সুজনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ এর ধারা ৭ (১) (খ) অনুসারে শুধু ১৮ বছর বয়স্ক নাগরিকরাই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এবার ১৫-১৭ বছর বয়স্কদের নিবন্ধন করছে। কী উদ্দেশে এটা করা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়। প্রতি বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা কমিশনের দায়িত্ব। তাই আগে থেকে কারো নাম নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই। ১৫-১৭ বছর বয়স্কদের নিবন্ধন করা হলে তারা যে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে না বা দুইবার ভোটার হয়ে যাবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়।

সংগঠনের সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আইনের ১১ (১) ধারা অনুসারে প্রতিবছরের ২ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু কমিশন জুলাই থেকে এ কার্যক্রম শুরু করছে। এ ধরনের বিলম্ব আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন। ইতোমধ্যে দেশের কোন কোন জেলায় বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। বন্যার কারণে যদি কেউ নিজ বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়, তাহলে তাদের মধ্যে অনেকে বাদ পড়ে যাবে।

শনিবার থেকে শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি ভোটার তালিকার হালনাগাদের কাজ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ নরসিংদীতে এ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে এবার যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে তাদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যাদের ১৮ বছরের নিচে এবং ১৫ বছর পূর্ণ হয়েছে হালনাগাদে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হলেও তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। তাদের শুধু পরিচয়পত্র দেয়া হবে। তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। নতুন করে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না।

সুজনের সংবাদ সম্মেলনে ১৮ বছরের নিয়ে কোন ব্যক্তির নিবন্ধনের আওতায় আনার পাশাপাশি হালনাগাদ কার্যক্রমের পর্যাপ্ত প্রচার না চালানোর অভিযোগ আনা হয়। এতে বলা হয় হালনাগাদ কার্যক্রমে যেন কেউ বাদ না যায়, তার জন্য আগে থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যাপক প্রচার চালানো আবশ্যক। কিন্তু এবার কোন রকম প্রচার চালানো হয়নি। শুধু খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন ও মোবাইল ফোনে ইংরেজী হরফে একটি এসএমএস চোখে পড়েছে। যা অনেক নাগরিকই পড়তে পারবে না। আবার অনেক নাগরিক খবরের কাগজও পড়ে না। টিভিতে বিজ্ঞাপন দিলে ভাল হতো। এছাড়া বাড়ি বাড়ি না নিয়ে ভোটার তালিকা করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। হালনাগাদের সময় বাড়ি বাড়ি না যাওয়ার অভিযোগ পত্রপত্রিকায় ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। বাড়ি বাড়ি না গেলে অনেকেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, নাগরিকরা একটি সঠিক ভোটার তালিকা চায়। যেখানে জেন্ডার গ্যাপের মতো সমস্যা থাকবে না। যথাযথ দায়িত্ব নিয়ে সুষ্ঠুভাবে হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে আশা করি।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৫-১৭ বছর বয়স্কদের কী উদ্দেশে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে তা কমিশনের স্পষ্ট করা উচিত। ভোটার তালিকায় যেসব জেলায় জেন্ডার গ্যাপ বেশি রয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত প্রচার তথা ব্যাপক এ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে যাতে জেন্ডার গ্যাপ কমে আসে।

লেখক কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নতুন ভোটারদের মধ্যে বিরাট পরিমাণের জেন্ডার গ্যাপ প্রমাণ করে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান কমিশন গোঁজামিলের কমিশনে পরিণত হয়েছে। তাই এ কমিশনের অধীনে ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ভোটার তালিকার একটি সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা নির্বাচন কমিশনের অন্যতম একটি কাজ। হালনাগাদ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে কমিশন অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ কাটিয়ে উঠবে বলে আমরা আশা করি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে অর্পিত ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব পালনে বর্তমান কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকায় জেন্ডার গ্যাপের মতো একটি গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কার্যক্রমটি অব্যাহত থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাই।