১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাতক্ষীরায় সাজানো শিশু নির্যাতন ॥ ঘটনার নায়ক কথিত সাংবাদিক

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ব্যবহৃত শিকল ও দড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদাছছের হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত উদ্ধারসহ শিশুদের স্বীকারোক্তিতে সাজানো ছবির বর্ণনা খুঁজে পান। নির্যাতিত দুই শিশু ইয়াসিন ও নাসিমের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে তাদের নির্যাতনের সাজানো ছবির বর্ণনা দিয়েছে। শিশু দুটির স্বীকারোক্তির পর ইয়াসিনের মা তাসলিমা খাতুন তার ঘর থেকে কথিত নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত দড়ি ও শিকল পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সাজানো ছবির তথ্য ফাঁসের পর শিশু দুটির পিতা গা-ঢাকা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সাজানো ছবি তোলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন কথিত সাংবাদিককেও খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। শুধু কি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই ছবি না সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই সাজানো ছবি তোলা হয় সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল সংস্থা।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদাছছের হোসেন দুই শিশুর সঙ্গে কথা বলে শিশুদের দেয়া তথ্য তুলে ধরে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার দিন মোস্তফা তাদের পিঠে দুই তিনটি চড় মারে। এর পর কিছুক্ষণের জন্য হাত দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে পরে খুলে দেয়া হয়। ঘটনার দুই থেকে তিনদিন পর ইয়াসিনের চাচা ইলিয়াস তরফদার দড়ি ও শিকল নিয়ে তাদের বাড়িতে আসে। এর পরপরই সেখানে উপস্থিত হয় একজন সাংবাদিক। সাংবাদিক ও তার চাচা তাদের বাড়ির গাছের সঙ্গে সোজা হয়ে দাঁড়াতে বলেন। এ সময় ইলিয়াস ও ওই সাংবাদিক তাদের দড়ি দিয়ে এবং শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে দেন। এর পরপরই ওই সাংবাদিক তাদের ছবি তোলেন। শিশু দুটি ওই সাংবাদিকের নাম না জানলেও মুখ দেখলে তাকে চিনতে পারবে বলে জানিয়েছে।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ইয়াসিনের মা তাসলিমা খাতুন তার ঘর থেকে কথিত নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত দড়ি ও শিকল বের করে দেন। এ সময় স্থানীয়রা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।