১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

  • ৬৩ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সম্প্রতি ৬৩ বছরে পর্দাপন করেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ প্রাদেশিক পরিষদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। একই বছরের ৬ জুলাই ড. ইৎরাত হোসেন জুবেরীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৫৩ সালে ৬ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৫৪ সালে পদ্মার তীরের বড়কুঠি নামে পরিচিত ঐতিহাসিক রেশম কুঠির ওপর তলায়। সেখান থেকে ১৯৬১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয় মতিহারের সবুজ চত্বরে। এই ক্যাম্পাসটি গড়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ড. সোয়ানি টমাসের স্থাপত্য পরিকল্পনায়।

এই বিশ^বিদ্যালয়ে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

দীর্ঘ ৬২ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জড়িত হয়েছে কিছু প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের স্মৃতিতে। এখানে শিক্ষকতা করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ইৎরাত হোসেন জুবেরী, প্রখ্যাত তাত্ত্বিক রাজনীতিবিদ বদরুদ্দীন উমর, প্রখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যক ড. মুহাম্মদ শহীদল্লাহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াত বিচারপতি হাবিবুর রহমান, খ্যাতনামা ঐতিহাসিক ডেভিড কফ, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ^বিদ্যালয়ের অবদান অনেক। ’৬৬ সালের ছয় দফা, ’৬৯ সালের গণঅভ্যুথান, ’৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, ’৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্ররা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অত্যাচার আর শোষণের বিরুদ্ধে।

ষাটের দশকের শেষদিকে এই ভূখ- যখন গণআন্দোলনে উত্তাল, তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও স্বাধিকার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বাধিকার সংগ্রামের ইতিহাসে যুক্ত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ড. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার নাম। দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে আর চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে ৬২ বছর পূর্ণ করে ৬৩ বছরে পদার্পণ করেছে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়।

ইমদাদুল হক সোহাগ

১৫ বছরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠার ১৫তম বর্ষে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা আর বর্ণিল কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ৮ জুলাই পালিত হলো পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম জন্মদিন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনটিতে উৎসবে-আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন ক্যাম্পাসের সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের সবাই।

রঙে রঙে দিনটি রঙিন হয়ে উঠেছিল তাদের কাছে। ২০০০ সালের ৮ জুলাই যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে ১৪টি বছর। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন আয়োজন। নতুন-পুরাতন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন চত্বর। তারা আড্ডা দিয়ে, গল্প করে, হুলস্থুলে মেতে কাটান এদিন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি করে জাতীয় উন্নতি সাধন এবং মানবিক সমাজ ও ডিজিটাল রাষ্ট্র গড়ার শপথ নেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই।

১০টায় একাডেমিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী ও রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য প্রফেসর স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও প্রফেসর জেহাদ পারভেজ। পতাকা উত্তোলন শেষে বেলুন উড়িয়ে ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে সমগ্র ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও দুমকি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক ভবনের সামনে প্রফেসর মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রফেসর স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত, প্রফেসর জেহাদ পারভেজ, প্রফেসর ফজলুল হক, সহকারী অধ্যাপক আফজাল হোসাইন, কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান (টমাস) প্রমুখ।

ইমাদুল হক প্রিন্স