২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্যাম্পাস সংবাদ

বিতর্কের মঞ্চে সেরা জাবি

জাতীয় বাজেট নিয়ে দেশব্যাপী চলছিল জল্পনা-কল্পনা। কেমন বাজেট হবে, কোন ক্ষেত্রে কত নির্ধারণ করা হবে, কোন পণ্যে কর কত কমানো-বাড়ানো হবে, করমুক্ত আয় সীমা কত হবে এমন প্রস্তাবে যখন জাতীয় সংসদ ছিল প্রাণোচ্ছল, তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছিল ‘সিএসআর’ আজ বহুজাতিক কোম্পানির জন্য ব্র্যান্ডিং ও কর ফাঁকি নিয়ে বিতার্কিকদের ছায়া সংসদ। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি-তর্ক। সরকার আর বিরোধী দলের সামনাসামনি হৃদ্যতাপূর্ণ অবস্থান। সরকার দলে প্রিমিয়াম বিশ্ববিদ্যালয় আর বিরোধীর ভূমিকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তার্কিকেরা যুক্তি উপস্থাপন করে চলেছেন। অবশেষে ১১ সদস্যের বিচারকম-লীর সর্বোচ্চ ব্যালট পেয়ে বিজয়ের মুকুট উঠল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তার্কিকদের মাথায়ই।

‘ঐতিহ্যের বুননে রচি গৌরবের ইতিহাস’ সেøাগানকে ধারণ করে প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এআইএস ডিবেট ফোরাম’ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৩২ দল নিয়ে ‘সহজ ডটকম আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা-২০১৫’ আয়োজন করে।

বিজয়ী দলের তিন বিতার্কিক হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের শেখ রাহাত রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মুসফিকুস সালেহীন ও দর্শন বিভাগের আকিফ মাসুমী।

শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন রাহাত। অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, যে কোন পুরস্কারই আনন্দের। আর সেটি যদি হয় চ্যাম্পিয়ন দলের শ্রেষ্ঠ বক্তা হওয়া সেটি আরও আনন্দের। ১১ বিচারকের রায়ে শ্রেষ্ঠ বক্তা হওয়াটা আসলেও উপভোগ করছি।’

সতীর্থদের সম্পর্কে রাহাত বলেন, এ দলের সঙ্গে বিতর্ক করে আমি আনন্দিত। কেননা এই দল নিয়েই আমরা এশিয়ান আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগীয় ফাইনাল পর্বে উঠেছিলাম। দলের অন্য সদস্যদের বিষয়ে দলনেতা রাহাত জানান মুসফিক আর আকিফের ক্যারিয়ার কেবল শুরু এরই মধ্যে থলিতে অনেক পদক জমা হয়েছে। বিতর্কের অঙ্গনে ওদের অনেক কিছু করার আছে, পাওয়ার সম্ভাবনাও কম নয়।’

এছাড়া চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ৪র্থ তারুণ্য উৎসব আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দিন হল আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের আন্তঃক্লাব বিতর্কে বিজয়ী হন রাহাত।

দলের অন্য সদস্য মুসফিকুস সালেহীন জানান ইস্টার্ণ, ড্যাফোডিল, ঢাকা কলেজ, ঢাবি এবং প্রিমিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে আমাদের এ অর্জন। যে সাফল্য পুরো জাবি পরিবারের।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে ঢাকা সিটি কলেজে ভর্তি হয় মুসফিক। আন্তঃবিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে ৫ বার ও জাবি ডিবেট অর্গানাইজেশনের আন্তঃবিভাগ পর্যায়ে ও ২০১৪ সালে চুয়েটে চ্যাম্পিয়ান ও শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন। জাবি সরকার ও রাজনীতি বিতর্ক ক্লাব থেকে অর্থনীতি বিভাগের ডিএসইয়ের পক্ষে চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

কলেজে নিজের উদ্যোগে ডিবেটিং ক্লাব গড়ার কথাও জানান এ তর্কযোদ্ধা।

বিতর্ক চর্চার মধ্যে বেড়ে ওঠা দলের কনিষ্ঠ সদস্য আকিফ মাসুমী বলেন ‘চ্যাম্পিয়ন হয়ে অনেক ভাল লাগছে, এটি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দ্বিতীয় অর্জন। বিতার্কিকদের প্রচুর জানার সুযোগ রয়েছে। তাই বিতর্ক করতে ভাল লাগে।’

মো. আসাদুজ্জামান গালিব

১৪ জন পেলেন স্কাউটস এ্যাওয়ার্ড

সামসুল হক খান স্কুল এ্যান্ড কলেজের ১৪ শিক্ষার্থী বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ পদক প্রেসিডেন্টস স্কাউটস এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছে। এ পর্যন্ত অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে প্রেসিডেন্টস এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত স্কাউট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩০। বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে সদ্য মনোনীত স্কাউট সদস্যদের প্রেসিডেন্টস স্কাউটস এ্যাওয়ার্ড প্রদান করবেন।

শিক্ষার্থীদের সচেতন গতিশীল আত্মনির্ভর ও সাহসী করতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ২০০১ সালে এই প্রতিষ্ঠানে স্কাউট সংগঠন উন্মোচন করেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে ১২টি ইউনিটে প্রায় সাড়ে চার শ’ স্কাউট শিক্ষার্থী রয়েছে। ২৪ জন ইউনিট লিডারদের মধ্যে উডব্যাজার, এ্যাডভান্স কোর্স সম্পন্নকারী ইউনিট লিডার ও সহকারী ইউনিট লিডার রয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানের স্কাউট গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছেন গবর্নিং বডির চেয়ারম্যান আলহাজ হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি ও প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। সন্তোষজনক সংখ্যক প্রেসিডেন্টস স্কাউটস এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তি ছাড়াও স্কাউট শিক্ষার্থীরা জাম্বুরি, ক্যাম্পুরি, ক্যাম্প প্রশিক্ষণে সারাদেশে তো বটেই বহির্বিশ্বও ভ্রমণ করে এসেছে। জাপান, কোরিয়া, নেপাল, আজারবাইজান এবং থাইল্যান্ড ইত্যাকার দেশের জাম্বুরিগুলোতে অংশগ্রহণ করে এসেছে। আগস্টে জাপানে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড জাম্বুরিতে অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন স্কাউট ও লিডার অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই সূত্রে সামসুল হক খান স্কুল এ্যান্ড কলেজ আন্তর্জাতিক বিশ্বেও সুনাম ও পরিচিতি অর্জন করেছে।

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক