১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাষ্ট্রদূতদের বাসায় প্রদর্শনী

গৌতম পা-ে ॥ বৃষ্টিস্নাত বিকেল। চলাচল বিঘিœত। তবুও রাজধানীর বারিধারায় সুইজারল্যান্ড রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান মার্টিন ফসের বাসভবনে শুক্রবার ছিল দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। উদ্দেশ্য একটাইÑ আলোকচিত্রী আবীর আবদুল্লাহর ক্যামেরায় ধারণকৃত নান্দনিক ছবি দেখতে আসা। ‘আর্ট উইকেন্ড’ শিরোনামে একসঙ্গে পাঁচ জায়গায় প্রদর্শিত হয় দুই দিনব্যাপী প্রদর্শনী। ঢাকায় ব্রাজিল, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড রাষ্ট্রদূতেরা মিলে আয়োজন করেছিলেন এ প্রদর্শনী। শনিবার ছিল এ প্রদর্শনীর শেষ দিন। বাংলাদেশের নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তারা। তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দেন দেশের প্রথিতযশা শিল্পীরা। প্রত্যেক রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের একটি অংশ ব্যবহৃত হয় প্রদর্শনীর স্থান হিসেবে। শুক্রবার কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই শুরু হয় প্রদর্শনী ‘আর্ট উইকেন্ড’। সুইজারল্যান্ড রাষ্ট্রদূতের বাসায় গিয়ে দেখা গেল দেয়াল জুড়ে শোভা পাচ্ছে আলোকচিত্রী আবির আবদুল্লাহর একক আলোকচিত্র। প্রকৃতি প্রেমিক আলোকচিত্রী আবীর আবদুল্লাহর ক্যামেরায় প্রকৃতির নৈসর্গিক রূপই প্রায় সময় প্রাধান্য পায়। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুরতাকেও তিনি কখনও এড়িয়ে যান না। তারই প্রতিফলিত রূপ প্রকাশ পেয়েছে বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো মানুষের দুর্দশার চিত্র। অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষ যেন সচেতন হয়, সে বিষয়কে তিনি ক্যামেরায় তুলে আনার চেষ্টা করেন নির্দ্বিধায়। তারই প্রমাণ মেলে আগুনে পুড়ে গার্মেন্টস কর্মীদের মৃত্যু ও উদ্ধারের দৃশ্য। মূলত প্রদর্শনীতে আবির আবদুল্লাহর দুটি বিষয়কেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। সুইস কর্নার নামে গ্যালারিতে একটি অংশ আছে, যেখানে শোভা পাচ্ছে সুইজারল্যান্ডের ভিভে শহরের এক নান্দনিক দৃশ্য। ভাঙা খড়ের ঘরের মধ্যে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের বেড়ার অর্ধেক বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। নির্বাক তাকিয়ে যেন বাঁচার প্রহর গুনছে। এরপর চেখে পড়বে পলিথিন দিয়ে ঘেরা অসহায় নারী ও শিশুর ছবি। বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। কোনমতে জীবন বাঁচানোর তাগিদে পলিথিন দিয়ে ঢেকে বৃষ্টি থেকে রেহাই পাওয়ার নিষ্ফল চেষ্টা। নদীর পাশে দাঁড়িয়ে আর এক গ্রাম্য রমণী। প্রবল স্রোতে নদী উত্তাল। বন্যা পরবর্তী নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি শূন্য। কোথাও ভিটেটুকুরও চিহ্ন নেই। রমণী শুধু তাকিয়ে আছে নদীর স্রোতের দিকে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ২০০৭ সালের বন্যার এক ভয়াবহ চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেছেন আলোকচিত্রী আবীর আব্দুল্লাহ। গাজীপুর গরিব এআন্ড গরিব সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে ২০১০ সালে ভয়াবহ আগুনে ২১জন গার্মেন্টস কর্মী নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়। দৃশ্যগুলো ক্যামেরায় ধারণ করেছন তিনি। ছবিগুলো স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের বাসায় গিয়ে দেখা যায় দর্শনার্থীদের ভিড় কিছুটা বেশি। সেখানে বৃত্ত আর্ট ট্রাস্টের শিল্পীরা তাদের বিচিত্র কাজের সমাহার নিয়ে হাজির হয়েছেন। ক্যানভাসে নানা মাধ্যমের চিত্রকর্ম থেকে শুরু করে ধাতবের কিছু শিল্পকর্মও স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। রাষ্ট্রদূত ভাঞ্জা কাম্পুস দা নব্রেগা সবাইকে দেখাচ্ছেন শিল্পকর্মগুলো। কোন কোন সময় ছবিও তুলছেন। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে শিল্পী মাহবুবুর রহমান, তৈয়বা লিপি, শিমুল সাহা, খন্দকার নাসির আহমেদ প্রমুখের শিল্পকর্ম। জার্মান রাষ্ট্রদূত থমাস প্রিনজের বাসভবনে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ছিল দৃকের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের তোলা ছবি নিয়ে। নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত যারবেন ডি ইয়ংয়ের বাসভবনে স্থান পেয়েছে ভিনিতা করিমের চিত্রকর্ম। নরওয়ের রাষ্ট্রদূত মারেটে লুন্ডেমোর বাসভবনে চারুকলার শিক্ষক রোকেয়া সুলতানা তাঁর দশ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা ছিল প্রদর্শনী।