১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তত্ত্বাবধায়কের দাবি থেকে সরে এলেন খালেদা

  • বললেন ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে তত্ত্বাবধায়কের দাবি থেকে সরে এলেন বেগম জিয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনজীবী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হতে হবে এমন নয়, যে কোন নামে একটি ‘নিরপেক্ষ’ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে দেশের মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে। আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে তার গুলশানে রাজনৈতিক কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে আসা বেগম জিয়া বলেন, গত তিনটি সিটি নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আমি বলব না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। যে নামেই হোক একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশ দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। কিন্তু জোর করে এ সরকার বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন দিতে হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগ জানে, তারা ক্ষমতা থেকে গেলে শীঘ্র ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই নির্বাচন দিতে চায় না। জোর করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। পুলিশ, র‌্যাব দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। বহু রাষ্ট্র এর প্রমাণ পেয়েছে। আওয়ামী লীগের করুণ পরিণতি হবে, ভয়াবহ খারাপ হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নেতারা আন্দোলনে রাজপথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করলে খালেদা জিয়া বলেন, আন্দোলন নয়, আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমর্থন পাব। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন করে ফেলেছে। সব দল শেষ করে দিতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ সচেতন। একজন রিকশাওয়ালাও রাজনীতির খবর রাখেন। পত্রিকা পড়েন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার চিরদিন ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। কিন্তু এই করে তারা চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। দেশে প্রকৃত নির্বাচিত সরকার নেই। আমরা গণতন্ত্র চাই, কল্যাণ চাই, সুশাসন চাই। আল্লাহ একদিন হয়ত সুযোগ দেবে, নির্বাচন হবে।

বিচার বিভাগ, প্রশাসনসহ সব জায়গায় দলীয়করণ হচ্ছে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, আমার পিএস ছিল এই জন্য ওএসডি করা হয়েছে। কারো যোগ্যতা থাকলে সে ভাল পদে যেতে পারে না। এ জন্য তাকে ওএসডি করতে হবে ? বিএনপি-আওয়ামী লীগ দেখে আমরা বিচারক নিয়োগ দেব না, দেখা হবে যোগ্যতা । তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মকা- সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন করা যায় না। রাস্তায় নামলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। দেশকে ওরা কারাগারে পরিণত করেছে। তারা শুধু ২০ দল-বিএনপি নয়, বাংলাদেশের ক্ষতি করছে। বিদেশীরা যখন খবরের কাগজ পড়বে এবং এগুলো জানবে তখন দেশের ইমেজ নষ্ট হবে। আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সব লীগ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা জঙ্গীর কথা বলে বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ নষ্ট করছে।

খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশ প্রতিনিয়তই রেমিটেন্স হারাচ্ছে। গার্মেন্টস শিল্পও পিছিয়ে পড়ছে। অথচ এই গার্মেন্টস শুরু করেছিল জিয়াউর রহমান। আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আইনজীবীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন,আপনারা তো নির্বাচিত। বর্তমান সরকার অনির্বাচিত। এ অনির্বাচিত সরকার দেশটাকে শেষ করে দিচ্ছে। এরা ক্ষমতায় থাকলে দেশের ভাল হবে না।

তিনি বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। আর গণতন্ত্র নেই বলেই আইনের শাসন নেই। কাজেই এভাবে দেশ চলতে পারে না। দেশের মানুষ আজ অসহায়। আওয়ামী লীগের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, তাদের একটাই লক্ষ্য দমননীতি। বিএনপিকে শেষ করা। বিএনপিকে শেষ করা যাবে না। বিএনপির রুট এ দেশের মানুষের ভেতরে। কাজেই যতই ওপর থেকে কাটা হোক, রুট ভেতরে থাকলে শেষ হবে না।

অনুষ্ঠানে বেগম জিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বারের নির্বাচনে নয় পদের মধ্যে সাতটিতে জয়ী হওয়ায় দলের ও নিজের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। মতবিনিময়কালে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ, এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বারের সভাপতি আবদুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রুমা প্রমুখ। এ সময় এ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, সানা উল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দিনসহ অন্য আইনজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।