২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক জামায়াত নেতা যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছেন প্রসিকিউশন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর এ অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে একই মামলার আসামি ওই ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রবিবার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। পরে ৮ সেপ্টেম্বর অভিযোগ আমলে নেওয়ার বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

গত ১৬ জুন সাখাওয়াতসহ যশোরের কেশবপুরের ১২ জনের বিরুদ্ধে এ মামলার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা। ১৪ জুন তদন্ত সংস্থার কার্যালয় রাজধানীর ধানমণ্ডি সেফহোমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত সংস্থা।

১২ আসামি মধ্যে সাখাওয়াত হোসেনসহ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন চারজন। গ্রেফতারকৃত অন্য তিনজন হচ্ছেন মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ আকরাম হোসেন ও অজিহার মোড়ল ওরফে ওজিয়ার মোড়ল।

পলাতক আসামিরা হলেন- মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান, মোঃ আব্দুল আজিজ সরদার, মোঃ আজিজ সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মোঃ লুৎফর মোড়ল, মোঃ আব্দুল খালেক মোড়ল এবং মশিয়ার রহমান।

২০১২ সালের ১ এপ্রিল থেকে এ মামলায় তদন্ত শুরু করে গত ১৩ জুন শেষ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান। মুক্তিযোদ্ধাসহ ৩২ জনকে এ মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।

সাখাওয়াতসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ২০০৯ সালে যশোরে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছর জুন মাসে তাকে কেশবপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে আত্মগোপন করেন। পরে ওইসব মামলা ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আবেদনে গত বছরের ২৬ নভেম্বর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ২৯ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরখান থেকে সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে একই অপরাধে আরও ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে এ মামলায় মোট আসামি হন ১২ জন। প্রসিকিউশনের আবেদনে গত ১২ মে বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর ওইদিন রাতেই তাদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করার পর ১৩ মে হাজির করা হলে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল।