২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা

  • বাস্তবায়ন হবে পাঁচ বছরে

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ আগামী পাঁচ বছরে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৃহৎ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। এছাড়া শুধু অবকাঠামোই নয়, যানজট নিরসনসহ দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কৌশলগত বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সড়কে ঝরছে প্রাণ। বেড়েই চলছে দুঘর্টনা। এ পরিপ্রেক্ষিতে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মহাপরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, আগামীতে ছোট ছোট প্রকল্প বাদ দিয়ে সমন্বিতভাবে বড় আকারের প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া সড়ক নিরাপদ করতে হাইওয়ে থেকে শুরু করে গ্রামীণ সড়ক পর্যন্ত উন্নয়ন করতে হবে। তিনি জানান, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পরিবহন খাতের অবদান বাড়ছে। ২০১০ সালে জিডিপিতে এ খাতের অবদান ছিল শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ, সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৫ সালে (প্রাক্কলিত) শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ হয়েছে। যদিও শেষ হয়ে যাওয়া ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি পূরণ না হলেও অবদান যে বেড়েছে এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সূত্র জানায়, আগামী পাঁচ বছরে (২০১৬Ñ২০ সাল) ৮টি মেগা প্রকল্প সমাপ্ত এবং কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে পদ্মা সেতু, গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি-৬ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল, পায়রা বন্দর প্রকল্প, ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে প্রকল্প, চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প সমাপ্ত ও কাক্সিক্ষত অগ্রগতি এবং যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে ট্রানেল (রাস্তা এবং রেল সংযুক্ত) প্রকল্পের অন্তত সম্ভ্যাব্যতা যাচাই কাজ শেষ করতে চাওয়া হয়েছে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরে (২০১৬Ñ২০ সাল পর্যন্ত) প্রায় ৩০০ কিলোমিটার চার লেন কাজ সমাপ্ত করা, চার লেনের বাইরে ৩৪০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন করা হবে দুই হাজার ৫০০ কিলোমিটার, সাত হাজার মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ, সারাদেশে ১৪ হাজার ৮০০ মিটার ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ, ছয় হাজার ৮০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবহন খাতের উন্নয়নে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যেসব কৌশল নেয়া হচ্ছে সেগুলো হলোÑ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কার্যকর করা, শহরে যানজট নিরসনে পরিবহন ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ খুঁজে বের করে তা সমাধানের ব্যবস্থা করা, আগামী পাঁচ বছরে নদী ও রেল পথকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া, কেননা এটি কম খরচ ও পরিবেশবান্ধব। ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের সুবিধার জন্য রাস্তা, রেল এবং অভ্যন্তরীণ নদী পথের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা, সীমান্ত সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জগুলো খুঁজে বের করে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানীর যানজট নিরসনে ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) হাতে নিয়েছে সরকার। এর আওতায় ঢাকা মহানগরী ও এর প্রবেশ পথগুলোর যানজট নিরসনের অংশ হিসেবে দ্রুত গতির বাস চলাচল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এসটিপির অধীনে গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট র্শীষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপদ অধিদফতর (সওজ), বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর।

অন্যদিকে, আগামী ৫ বছরে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শেষ করতে চায় সরকার। এরই মধ্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল নির্মাণে শর্তপত্র (টার্মশীট) অনুস্বাক্ষর করেছে সরকার। সিঙ্গাপুরভিত্তিক যৌথ কোম্পানি এ্যাস্ট্রা ওয়েল এ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষিরত হয়। এর ফলে চার মাস প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিয়েছে। ডিসেম্বরে চূড়ান্তু চুক্তি হতে পারে। মহেশখালীতে এ টার্মিনাল নির্মাণে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি। ডিসেম্বরে চূড়ান্ত চুক্তি হলে নির্মাণ কাজ শেষ করতে ১৬ মাস সময় লাগবে। ২০১৬ সালের জুনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ২০০৯ সালে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। টার্মশীটটি স্বাক্ষরের পর কোম্পানি মেটোসিয়ান স্টাডি করবে। স্টাডি শেষে বাংলাদেশের আবহাওয়া/জলবায়ুতে টার্মিনালটির পরিচালনাগত ধাঁচ অর্থাৎ বছরের কোন কোন সময় খারাপ আবহাওয়া ও সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে টার্মিনাল পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটবে তা জানা যাবে এবং উক্ত সময়ে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য কি ধরনের কারিগরি ব্যবস্থা নিতে হবে তা স্পষ্ট হবে। এরপরই টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য ১৫ বছরের চুক্তি করবে পেট্রোবাংলা।