১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চসিক মেয়র নাছিরের দায়িত্ব গ্রহণ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নির্বাচিত হওয়ার প্রায় তিন মাস পর দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। রবিবার চসিক মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোহাম্মদ হোসেনের কাছ থেকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নগরীর জলজট ও পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নে দৃঢ় সঙ্কল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর ঘোষণা দেন মেয়র। এর আগে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে নতুন মেয়রকে বরণ করে নেন। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মাচারীদের বিপুল উপস্থিতিতে চসিক ভবনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন মেয়র আ জ ম নাছির চট্টগ্রামকে একটি বিশ্বমানের বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস ও শপথের কথা উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যা এবং জনসেবা এ দুটি বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হব। মেয়র বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর পরই দায়িত্বগ্রহণ না করলেও কর্পোরেশনের বাইরে থেকে আমি কাজ শুরু করেছি। দ্রুততার সঙ্গে খাল ও নালার মাটি অপসারণ কার্যক্রম চলমান আছে বিধায় বর্ষা মওসুমে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতেও জলজট বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। জলজট নিরসনে অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে খালের জায়গা পুনরুদ্ধার এবং খাল নালায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। ড্রেনেজ ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের আলোকে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনে যা যা করা দরকার তার সবই করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই করে নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে জলজটমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে জরুরী কাজ অনতিবিলম্বেই শুরু করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চসিকের নতুন মেয়র রবিবার বেলা এগারটার দিকে যখন দায়িত্বগ্রহণ করছিলেন তখনও চলছিল শ্রাবণের অঝোর ধারায় বর্ষণ। অনেক সড়কই পানির তলায়। ফলে মেয়রের কাছ থেকে জলজট প্রসঙ্গেই বেশি শুনতে চাচ্ছিলেন সাংবাদিকরা। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে এ সংক্রান্ত গৃহীত পরিকল্পনার সুফল পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস ব্যক্ত করেন। দায়িত্বগ্রহণ অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের সাবেক চার মেয়রকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক গণপরিষদ সদস্য ইসহাক মিয়া এবং অঙ্গ সংগঠন ও আ জ ম নাছিরের অনুসারী নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিত লক্ষ করা গেছে। দায়িত্বগ্রহণকালে উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেশনের সচিব রশিদ আহমেদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোঃ শফিউল আলম এবং মেয়রের একান্ত সচিব মঞ্জুরুল ইসলাম।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির কর্পোরেশনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ৬০ লাখ জনঅধ্যুষিত চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে পরিচ্ছন্ন কর্মী আছে মাত্র ১ হাজার ৯৮০ জন। ১৯৮৮ সালের অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী এখনও চলছে কর্পোরেশন। অথচ, এর মধ্যে কর্পোরেশনের আয়তন এবং জনসংখ্যা অনেকে বেড়ে গেছে। তিনি সময়ের দাবিতে জনসেবা নিশ্চিত করার সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিতের ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন। নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সড়কগুলো যান চলাচলের উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। মেয়র বলেন, নগরীর দেড় লক্ষাধিক বেসরকারী হোল্ডিংয়ের রাজস্ব আদায় সহজীকরণ করা হবে।

সিটি কর্পোরেশনের দায় দেনা প্রসঙ্গে মেয়র জানান, আমি ২৩৫ কোটি টাকার দায় কাঁধে নিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এ দায় পর্যায়ক্রমে পরিশোধের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বর্তমান সরকারের সহায়তায় চট্টগ্রাম নগরীকে একটি আধুনিক শহরে পরিণত করতে সব ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করা হবে বলে ঘোষণা দেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

চসিকের নতুন মেয়রকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল কর্পোরেশনের। নগর ভবনে তোরণ এবং বিভিন্ন ধরনের সাজে সজ্জিত করা হয়। আ জ ম নাছির উদ্দিন ফটকে এলে তাঁকে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান কর্মকর্তা কর্মচারীরা। কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সচিবসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ মেয়রকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করেন। এদিনই মেয়র প্রথম দিনের মতো তার কার্যালয়ে বসেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল চসিক মেয়র নির্বাচিত হন আ জ ম নাছির উদ্দিন। এরপর ৬ মে ঢাকার দুই মেয়রের সঙ্গে তিনিও শপথ গ্রহণ করেন। কিন্তু ঢাকার মেয়রদ্বয় দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও আইনী জটিলতার কারণে চসিক মেয়রকে অপেক্ষা করতে হয় ২৬ জুলাই পর্যন্ত। কারণ, পূর্ববর্তী পরিষদের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয় ২৫ জুলাই। তবে দায়িত্বগ্রহণ না করলেও শপথ গ্রহণের পর থেকে তিনি প্রটোকল পেয়ে আসছিলেন। কর্পোরেশনের বাইরে তিনি সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। মূলত বাইরে থেকে তারই নির্দেশনায় চলছিল কর্পোরেশনের কার্যক্রম।