২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রামে মতিঝর্ণার টাঙ্কির পাহাড়ে ফাটল

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামের ১৩টি পাহাড় জুড়ে ফাটল আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। মতিঝর্ণার টাঙ্কির পাহাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাহাড়বাসীরা ঘর ছাড়তে শুরু করেছে। মাটির বস্তা দিয়ে আবাসগৃহ রক্ষার চেষ্টা করছে। অতি বৃষ্টির কারণে যে কোন মুহূর্তে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়বাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি মাত্রাতিরিক্ত। কারণ গত দুই দিনে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটি অনেকটা নরম হয়ে গেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ষার শুরুতেই লালখান বাজার ও মতিঝর্ণা এলাকা থেকে প্রায় ২০০ পরিবারকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নগরীর ১৩টি পাহাড়ে প্রায় সাড়ে ৬শ’রও বেশি পরিবারের তালিকা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী মৌখিক ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সরে যাবার জন্য বারবার বলা হয়েছে। উচ্ছেদে সরানো হয়েছে প্রায় ২শ’ পরিবারকে।

রেলের সিআরবির এস্টেট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ের পাদদেশে বাসবাসকারী ও রেলের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তিগুলোকে সতর্কীকরণ নোটিস দেয়া হলেও তারা স্থান ত্যাগে

অপারগ। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় রেলের মালিকানাধীন লালখান বাজার, মতিঝর্ণা এলাকা, বাটালি হিল, আমবাগান, পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দফতরের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তি, পুলিশ বিট মোড়ের সেলস ডিপোর বাউন্ডারি ওয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তি, পাহাড়তলীর জেনারেল ইলেকট্রিক শপ ও জোড় ডেবার উত্তর পাশে গড়ে ওঠা বস্তির লোকজনকে মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে সরে যাবার জন্য নোটিস দেয়া ও মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। পাহাড় ছাড়তে নারাজ তারা।

এদিকে, টাইগারপাস ও মতিঝর্ণা এলাকায় থাকা রেলের পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা অন্যত্র সরে যেতে নারাজ। পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণদের সরিয়ে নেয়ার জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাছাড়া গত কয়েকদিন ধরে রেল কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণদের সরে যেতে বললেও অবৈধ দখলদাররা রেল ভূমি ছাড়তে নারাজ।

অভিযোগ রয়েছে, লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকা ছাড়াও রেলের পূর্বাঞ্চলের খুলশী থানাধীন আকবর শাহ মাজার এলাকায় প্রায় সাড়ে দশ একর ভূমি অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে। এরমধ্যে ৯০ শতাংশই পাহাড়ী ভূমি। আকবর শাহ এলাকায় এসব পাহাড়ী ভূমি দখলে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে থাকা অসাধু পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ভাড়া ঘর তৈরি করেছে। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা হত দরিদ্র শ্রেণীর ওপর যে কোন মুহূর্তে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। পরিবেশ ভবনের সামনে পাহাড় কেটে ৫তলা ভবন তৈরি করেছে আব্দুল মালেক সওদাগর। গত সপ্তাহে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ের মাটি ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৭ জুন আওয়ামী লীগের সাইন বোর্ডে স্থানীয় ইয়াসিন গং পাহাড় ধসে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও রেলের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলেও পরিবেশ অধিদফতরের উদাসীনতার কারণে ভূমিদস্যু বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। ২০১১ সালের ১ জুলাই টাইগার পাস এলাকায় বাটালি হিলের প্রতিরক্ষা দেয়াল ধসে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেল কর্মচারীদের একটি সিন্ডিকেট দেয়াল ঘেঁষে বস্তিঘর নির্মাণ করায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে হতদরিদ্ররা দাবি করেছে। এর আগে ২০০৭ সালের ১২ জুন পাহাড়তলীর জিইআর শপের দেয়াল ধসে লাগোয়া বস্তির ১২ জন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এদিকে, পাহাড়তলী জোড় ঢেবার উত্তর পাশে, জাকির হোসেন রোড সংলগ্ন ঝাউতলা রেল লাইনের পাশে গড়ে ওঠা বস্তি, শহীদ লেন আবাসিক এলাকার দেয়াল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বস্তি, বাটালি রোডের জামতলার বস্তি, জামতলা হাসপাতাল কলোনি এলাকায় বেশকিছু বস্তি গড়ে ওঠেছে অবৈধ দখলদারের প্রভাবে। টাইগার পাস পুলিশ বক্সের উত্তর ও পূর্ব পাশে পাহাড়ের পাদদেশে এবং মাঝামাঝিতে গড়ে ওঠা কাঁচা ঘর, তুলাতুলি ও ফয়স লেক এলাকার ১, ২ ও ৩ নং ঝিল এলাকায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে কাঁচা ও সেমি পাকা ঘর। এসব ঘরে বসবাস করছে শত শত পরিবার। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এসব পরিবারের লোকজনকে কম ভাড়ায় থাকতে সহায়তা করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা ভূমিদস্যুরা। ফলে রেল প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে গেলেও তাদের বাধার মুখে বিভিন্ন সময় ফিরে আসতে হয়েছে।