১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাত বিভাগে আইটি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হবে

  • মোবাইলের পাঁচ শ’ এ্যাপস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের সাত বিভাগে সাতটি আইটি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করা হবে। একই সঙ্গে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেটের জন্য দেশের সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নকে ফাইবার অপটিক কেবল নেটওয়ার্কে আওতায় আনার মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হযেছে। ইতোমধ্যে এক হাজার চারটি ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক কেবল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ইউনিয়নগুলোর কাজ অচিরেই শুরু হবে। রবিবার নাগরিক সেবায় মোবাইলের ৫শ’ টি অ্যাপস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যামসুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বিটিআরসি চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস, কর্মসূচী পরিচালক ও সিসিএ’র (কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটি) নিয়ন্ত্রক জি ফকরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ইএটিএএলর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান প্রমুখ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ইতোমধ্যে বিটিসিএল এক হাজার চারটি ইউনিয়ন পরিষদে ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপনের কাজ শেষের পথে রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় আরও এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপনের উদ্যেগ নিয়েছে। সাতটি বিভাগে একটি করে আইটি ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করার পরিকল্পনাও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের চলতি মেয়াদে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বেশকিছু ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক কেবল স্থাপনের কাজ প্রাইভেট সেক্টরকে ছেড়ে দেয়া হবে। সরকারের মেয়াদেই দেশের সাড়ে ৪ হাজার ইউনিয়নে উচ্চ গতির ফাইবার অপটিক কেবল পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা আছে। এতে করে গ্রামের মানুষ কম মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন। তখন শহরের সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন গ্রামের মানুষ। অনলাইন ভিত্তিক নানা সেবাও তারা নিতে পারবেন। সরকার শহর গ্রাম সমান দৃষ্টিতে দেখার জন্যই সাড়ে চার হাজার ইউনিয়নে ইন্টারনেট পৌঁছে দিচ্ছে। গ্রামের তরুণ তরুণীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে না পারলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে না। তাই সরকার প্রতিটি ইউনিয়নকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে।

জয় বলেন, তথ্য প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। আমাদের কাজ কেবল শুরু। অনেক পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। আমরা অনেক দূর স্বপ্ন দেখি। দেশের মানুষকে তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন করে গড়ে তুলতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। গত কয়েক বছরে দেশে বিপুল সংখ্যক দক্ষ তথ্য প্রযুক্তিবিদ গড়ে উঠেছে। আরও অধিক সংখ্যক আইটি বিশেষজ্ঞ গড়ে তোলার জন্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় নানা কর্মসূচী বাস্তবায়ন করে চলেছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের অ্যাপস তৈরির কাজের প্রশংসা করেন। দক্ষ তথ্য প্রযুক্তিবিদরা মোবাইলের ৫শ’ টি অ্যাপস তৈরি করেছে। এটা একটা বড় বিষয়। আজ সেই অ্যাপসগুলোর উদ্বোধন করা হলো। সরকারী ব্যবস্থাপনায় যেটা করে, আমাদের অ্যাপস প্রয়োজন হলে আমরা টেন্ডার করে কোন কোম্পানি থেকে কয়েকশ’ অ্যাপস বানিয়ে নিতে পারতাম। এতে সরকারের হয় তো লাভ হতো। কিন্তু দেশের তথ্য প্রযুক্তিবিদদের কোন লাভ হতো না। দেশের তথ্য প্রযুক্তিবিদদের উৎসাহিত না করলে তারা তথ্য প্রযুক্তির বিষয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতো। আমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভাগ সে কাজ করেনি, তারা কর্মসূচী নিয়েছে সাড়ে তিন হাজার তরুণকে অ্যাপস তৈরির প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাতে আমাদের সরকারের লাভ হয়েছে, অ্যাপসগুলো হয়ে গেছে এবং আপনাদের একটি ট্রেনিংও হয়েছে। এটা খুবই বড় একটি কাজ। যার ফল আগামীতে দেশ আরও ভালভাবে পাবে। সারাদেশে মাত্র ১৮ মাস ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ শেষ করে তরুণরা এমন একটি সাফল্য বয়ে নিয়ে এসেছে। এই ট্রেনিং নিয়ে আপনাদের কর্মসংস্থানের একটা ব্যবস্থাও হয়েছে। যা দিয়ে আপনারা এগিয়ে যেতে পারবেন। সারাজীবন আপনারা লাভবান হবেন। এ কাজটি করাই ছিল সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

অ্যাপস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রশংসা করে করে জয় বলেন, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ গঠিত হয়েছে মাত্র ১৮ মাস আগে। এ সময়ে প্রতিমন্ত্রী পলক যেভাবে কাজ করেছেন তাতে আগামীতে সেক্টরটি অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আর এ সেক্টর আগানো মানে দেশ এগিয়ে যাওয়া। দেশ এগিয়ে গেলে মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।

জয় বলেন, যারা সরকারের সমালোচনা করেন তারা একবার চিন্তা করে দেখেন আমরা কি কাজ করছি। জনগণের সেবার জন্য সরকার সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কি ধারণ সরকার তো এমনি এমনিই চলে। দেশ তো এমনি এমনি এগিয়ে যায়। আওয়ামী সরকারের উন্নয়নের গতি এমনি এমনি হয়নি। এটা করা সম্ভব হয়েছে সরকারের প্রতিটি কর্মকর্তা কর্মচারী ও মন্ত্রীদের পরিশ্রমের জন্য। সারাবিশ্বে ৮০ বিলিয়ন ডলারের অ্যাপস মার্কেট রয়েছে। এদেশের তরুণরা ওই টাকায় এখন ভাগ বসানোর যোগ্যতা অর্জন করেছে।

প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, মোবাইলের ৫শ’ অ্যাপসের মধ্যে ৩শ’ টি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থার তথ্য ও সেবা দেবে। বাকি ২শ’ টি অ্যাপস প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পাওয়া সৃজনশীল ধারণার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। এ অ্যাপসগুলো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস। এগুলো বিনামূল্যে গুগল প্লে স্টোর থেকে মোবাইল ফোনে ডাউনলোড ও ইনস্টল করা যাবে। প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ‘জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপস প্রশিক্ষণ ও সৃজনশীল অ্যাপস উন্নয়ন’ কর্মসূচীর আওতায় এ অ্যাপসগুলো তৈরি করা হয়েছে। কর্মসূচী বাস্তবায়নে সহযোগিতা দিয়েছে এথিকস অ্যাডভান্সড টেকনোলজি লিমিটেড (ইএটিএএল)। আরও কযেকটি কর্মসূচী বাস্তবায়ন হচ্ছে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থ সহযোগিতায়।