১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শাস্ত্রীয় ও সৃজনশীল নৃত্যের নান্দনিক অনুষ্ঠান নৈবেদ্য

শাস্ত্রীয় ও সৃজনশীল নৃত্যের নান্দনিক অনুষ্ঠান নৈবেদ্য
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আয়োজনটি ছিল নাচের। ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা সাতটা। বেজে উঠল জাতীয় সঙ্গীত। দর্শকসারি সবাই দাঁড়িয়ে এক সুরে গাইলেন আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি...। এরপর মঞ্চে এলেন নৃত্যশিল্পী তাসিন ফেরদৌস। মুদ্রা ও অভিব্যক্তির প্রকাশে মেলে ধরলেন নিজেকে। পরিবেশন করলেন শাস্ত্রীয় নৃত্য ভরতনাট্যমের অনন্য আঙ্গিক বর্ণম। একটানা ৩৫ মিনিট হাত-পা ও মুখশ্রীর মিলিত দেহকাব্যের সঙ্গে চোখের খেলায় মোহাবিষ্ট করে রাখলেন মিলনায়তনভর্তি দর্শককে। নৃত্যের নানা ধারার সঙ্গে উপস্থাপিত হলো অভিনয় ছন্দের কঠিন ব্যবহার। অনবদ্য পরিবেশনাটি শেষ হতেই শিল্পীকে মুহুর্মুহু করতালিতে অভিনন্দিত করলেন মন্ত্রমুগ্ধ নৃত্যানুরাগীরা। মুগ্ধতার শেষ না হতেই ভরতনাট্যমের আরেক ধারা জাভেরি পরিবেশন করলেন এই শিল্পী। যেখানে উপস্থাপিত হলো নায়িকার অভিমানের প্রকাশ। আবারও করতালি দিয়ে নড়েচড়ে বসলেন দর্শক। নাচের এমন নয়নজুড়ানো আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হলো রবিবার শ্রাবণ সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে। শাস্ত্রীয় ও সৃজনশীল নাচের নান্দনিক পরিবেশনায় সাজানো নৃত্যানুষ্ঠানটির শিরোনাম ছিল নৈবেদ্য। পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন এ্যানি ফেরদৌস। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও নিউইয়র্কভিত্তিক প্রবাসীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা)।

দুইটি শাস্ত্রীয় ও দশটি সৃজনশীলসহ মোট ১২টি নাচের পরিবেশনা উপস্থাপিত হয় নৈবেদ্য নামের এই নৃত্যানুষ্ঠানে। ভরতনাট্যমের মতো বিষয়ভিত্তিক সৃজনশীল নাচগুলোও দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে ধরা দেয় উপস্থিত নৃত্যপ্রেমীদের মাঝে। পরিবেশিত সৃজনশীল নাচের মাধ্যমে উপস্থাপিত বৈচিত্র্যময় বিষয়। একঝাঁক নৃত্যশিল্পীর চমৎকার পরিবেশনায় উঠে আসে সূর্যোদয়ের দেশে, বন্ধনম তারুণ্য, দোলনচাঁপা, রিমিক্স প্রেম, কা-ারী, খোঁজ ইত্যাদি নানা বিষয়। তাসিন ফেরদৌসের শাস্ত্রীয় নৃত্যর পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সি বার্নিকেট ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বাগত ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রহিজা খানম ঝুনু, লায়লা হাসান, মিনু হক, শর্মিলা ব্যানার্জী, বেলায়েত হোসেন খান, আনিসুল ইসলাম হিরু, লুবনা মরিয়ম, এ্যানি ফেরদৌস, ডলি ইকবাল, সোহেল রহমান, কবিরুল ইসলাম রতন ও ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।

আলোচনা পর্ব আবার বেজে ওঠে নূপুরের ঝংকার। দর্শককে মুগ্ধ করে উপস্থাপিত হয় মোহনীয় সব নাচ। এ পর্বে নিউইয়র্কভিত্তিক নৃত্য সংগঠন বিপার পক্ষে নাচ করেন এ্যানি ফেরদৌস, তাসিন ফেরদৌস ও জারিন মাইশা এবং দেশের নৃত্যশিল্পী স্নাতা, বৈশাখী, শশি, সাহেদ, তুষার, আলিফ, সজল ও রুবেল।

বন্ধন শীর্ষক নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের পরিবেশনা। আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের সাধনে গানের সুরে যুগল নৃত্য পরিবেশন করবেন মা এ্যানি ফেরদৌস ও মেয়ে তাসিন ফেরদৌস। মা- মেয়ের এ নাচের বন্ধনটি ছিল যেন শিল্পীর সঙ্গে দর্শকের, দেশের সঙ্গে প্রবাসী শিল্পীর, পুরাতন বন্ধুর সঙ্গে নতুন বন্ধুর, জননীর সঙ্গে আত্মজার। এরপর উপস্থাপিত হয় দলীয় নৃত্য তারুণ্য। যে সমাজে আমার কোন জায়গা নেই, সেই সমাজে আবার গাইছে গান শীর্ষক সুরের তালে নাচ একঝাঁক শিল্পী। এর মাধ্যমে প্রকাশিত হয় পথভ্রষ্ট বা বাউন্ডেলে বলে অবহেলা করা তরুণ সমাজের কষ্ট বা অভিমানের কথা। কা-ারী নামের সমবেত নাচের মাধ্যমে উঠে আসে ধর্মের মাধ্যমে বিভাজিত বিপন্ন মানবতার কথা। সেই সঙ্গে খোঁজা হয় সাম্যের সমাজের একজন পথ প্রদর্শক। নাচটির সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে হলফ্রাঙ্ক সিনাত্রার গাওয়া ‘ওল্ডম্যান রিভার’ এবং নচিকেতার গান ‘বুড়ো সলোমান ভাসছে জাহাজে’। নৃত্যানুষ্ঠানে ভরতনাট্যম কোরিওগ্রাফি করেছেন গুরু তেজস্বিনী রাজ এবং সৃজনশীন কোরিওগ্রাফি করেছেন এ্যানি ফেরদৌস ও তাসিন ফেরদৌস।

হাসান ইমামের ৮০তম জš§বার্ষিকীর অনুষ্ঠান আজ ॥ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমামের ৮০তম জš§বার্ষিকী আজ সোমবার। এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে জš§বার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে দুই শতাধিক বিশিষ্ট নাগরিকের সমন্বয়ে গঠিত ‘শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমামের ৮০তম জš§বার্ষিকী উদযাপন পর্ষদ’। পর্ষদের আহ্বায়ক শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি কামাল লোহানী এবং সদস্য সচিব হলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত হবে শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমামের ৮০তম জš§বার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠান। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমামের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য ও শুভেচ্ছা নিবেদন করা হবে। পাঠ করা হবে তাঁকে নিবেদিত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত মানপত্র। সৈয়দ হাসান ইমামের ওপর রচিত ‘নীল ছোঁয়া কিংবদন্তি’ শিরোনামে একটি সম্মাননা গ্রন্থের মোড়ক উšে§াচিত হবে। প্রদর্শিত হবে বরেণ্য এই শিল্পীর জীবন ও কর্মের নানামুখী দিক নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র। বর্ণিল আয়োজনে থাকবে সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কামাল লোহানী।