১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের বগি বারবার কেন লাইনচ্যুত হচ্ছে-

  • নেপথ্য কাহিনী

বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ থেকে ॥ সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’ কেন বার বার লাইনচ্যুত হচ্ছে এ নিয়ে ট্রেনে ভ্রমণকারীরা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। সিরাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আন্দোলনের ফসল সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন। এ ট্রেন সার্ভিস চালু হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ বাজার থেকে কালিয়া হরিপুর স্টেশন পর্যন্ত রেলপথে কোন উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। অথচ ট্রেন চলছে, যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। ঈদের পর ২১, ২৩ ও ২৪ জুলাই পরপর তিন দিন সিরাজগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে রায়পুর পর্যন্ত ২ কিমি রেলপথে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। প্রথম দিন ট্রেনের চালক বা গার্ডকে বহনকারী বগি লাইনচ্যুত হয়। দ্বিতীয় দিন লাইনচ্যুত হয় যাত্রীবোঝাই দুটি বগি। তৃতীয় দিন লাইনচ্যুত হয় ইঞ্জিন বগি। ট্রেন লাইনচ্যুতির পর সাময়িকভাবে সিরাজগঞ্জ থেকে ঈশ্বরদী ও ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে রেলের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আপতদৃষ্টিতে রেল কর্মকর্তারা বলছেন অতিবর্ষণজনিত কারণে সিøপারের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। আসলে কী তাই? প্রশ্ন তুলেছে সিরাজগঞ্জবাসী। কেউ কেউ মনে করছেন এই ট্রেন চলাচল বন্ধ করার জন্য এটা একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তবে রেলওয়ের একটি সূত্র বলছে- দীর্ঘদিন এ পথের কোন সংস্কার কাজ না করায় বার বার দুর্ঘটনা ঘটছে।

সিরাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ঢাকাগামী ‘সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস’। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর এক সময়ের ‘রেল সিটি’ সিরাজগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারপর এই রেলপথটি ডেথ হয়ে যায়। তবে রেল কর্তৃপক্ষ বলছে রেলপথ ডেথ নয়, এটি শাখা রেলপথ হিসেবে চালু থাকে। কিন্তু এর কোন সংস্কার করার উদ্যোগ কেউ নেয়নি। এদিকে রেল সিটি হিসেবে খ্যাত সিরাজগঞ্জ শহর হয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার পর ট্রেনের দাবিতে গড়ে তোলা হয় স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটি। সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে নানামুখী আন্দোলন করে সিরাজগঞ্জবাসী। অবশেষে ২০১৩ সালের ২৭ জুন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, তৎকালীন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও সিরাজগঞ্জ সদরের বর্তমান এমপি হাবিবে মিল্লাত মুন্না উপস্থিত থেকে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস উদ্বোধন করেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এ রেলপথের সংস্কার করা হয়নি। এর ফলে বার বার ট্রেনের বগি লাইনচ্যুতির কবলে পড়ে। যাত্রার প্রাক্কালেই ট্রেনের গতি কম থাকায় সৌভাগ্যক্রমে যাত্রীরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তবে বার বার ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে নিরাপদ যাত্রা হিসেবে ট্রেনকে বেছে নেয় সিরাজগঞ্জবাসী। কিন্তু মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে ৩ বার ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন এই রেলপথ সংস্কার না করার কারণেই এমনটা ঘটছে। কেউ কেউ বলেছেন সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস বন্ধ করার কোন মহলের ষড়যন্ত্র হতে পারে।

ঈদের পর মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন পরপর তিন দিন লাইনচ্যুত হয়। শুক্রবার সকাল পৌনে এগারোটার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের বাজার স্টেশন থেকে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে যাওয়ার পথে স্টেশনের অদূরে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর আগে একই রেলপথে বুধবার রাত সোয়া দশটা ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ আসার পথে বাজার স্টেশন থেকে ২ কিমি দূরে ইঞ্জিন এবং মঙ্গলবার সকালে ঢাকা যাওয়ার পথে বাজার স্টেশন ও রায়পুর স্টেশনের মধ্যবর্তী মাহমুদপুর মহল্লায় পেছনের গার্ডবগি লাইনচ্যুত হয়। এদিকে সিরাজগঞ্জ-ঈশ্বরদী রেলপথে গত চার দিনে ট্রেনটি পরপর ৩বার লাইনচ্যুত হওয়ায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ চরম বিড়ম্বনায় পড়ে। পাশাপাশি ৭ শতাধিক যাত্রীও ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা যেতে বিপাকে পড়েন। বার বার দুর্ঘটনার কারণে পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার, প্রধান প্রকৌশলীসহ পাকশী বিভাগীয় অফিসের উর্ধতন কর্মকর্তারা গত ৩ দিন মাঠে সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।