২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাবলিক ভার্সিটিতে এবারও এক সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না

  • এইচএসসির ফল ৯ আগস্ট

বিভাষ বাড়ৈ ॥ আগামী ৯ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। ফল প্রকাশের পরই অনার্স ভর্তিযুদ্ধে রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা লাখ লাখ পরীক্ষার্থীকে। আশার সঞ্চার হলেও শেষ পর্যন্ত এবারও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে না ক্লাস্টার বা গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সেশনজট কমানো ও কোচিং বাণিজ্যের দাপট সামলাতে ভর্তি পরীক্ষা এগিয়ে আনা হলেও তাদের বহু বছরের দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিক্যাল কলেজের মতো এক সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা এবারও হচ্ছে না। গত বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এ উদ্যোগে সাড়া নেই বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি ইতোমধ্যেই প্রচলিত নিয়মে পরীক্ষার তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। এইচএসসির ফল প্রকাশের আগেই শুরু হয়ে গেছে ভর্তি পরীক্ষার তোড়জোড়।

রবিবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, আগামী ৯ আগস্ট প্রকাশ হবে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশ করে আসছি। আগামী ১০ আগস্ট এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিন পূর্ণ হবে। তার আগেই ৯ আগস্ট ফল প্রকাশ করব। গত রাতে প্রধানমন্ত্রী ফল প্রকাশের জন্য এ সময় দিয়েছেন বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। ফল প্রকাশের জন্য সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এবারও অনলাইনে এবং মোবাইল ফোনে এসএমএস করে ফল পাওয়া যাবে। রীতি অনুসারে ওইদিন সকালে শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন শিক্ষা বের্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। সকাল ১০টায় অনুলিপি হস্তান্তর করা হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুটি কলেজের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলে ফল প্রকাশ করবেন। এরপর দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সারাদেশের ফল তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। এবার উচ্চ মাধ্যমিকের এ পরীক্ষায় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু ফল প্রকাশের পর এবারও কি অনার্সে ভর্তির জন্য লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য দৌড়াতে হবে? নাকি মেডিক্যালের মতো একই ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষা হবে? শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্র্থী ও অভিভাবকদের গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষার দাবি এবারও পূরণ হচ্ছে না। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আপত্তির কারণে গেল বছরের মতো এবারও ভেস্তে গেছে এ প্রক্রিয়া। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সব সময়েই বলে আসছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে নিজস্ব নিয়মেই পরীক্ষা নেয় তাহলে করার কিছু নেই। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উদ্যোগ নিলে আমরা সব ধরনের সমর্থন দেব। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। আমরা তাদের জোরও করতে পারি না। কোন সিদ্ধান্ত আমরা তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারি না। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের মতো করে পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট নিজেদের স্বতন্ত্র মান বজায় রাখতে চায়। একই কথা মত দিয়েছেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ও।

জানা গেছে, গত বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠকে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নেয়ায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু এবার কোন বিশ্ববিদ্যালয় সে ওয়াদা পূরণ করছে না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান ভর্তি পদ্ধতিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।